হরহামেশা গোটা দুনিয়া আর্ট গ্যালারি আর এক্সিবিশন হলগুলোতে কত হাজার রকমের চিত্র প্রদর্শনীই না হচ্ছে। চিত্রকর্মের বোদ্ধা থেকে শুরে শিল্পকর্ম প্রেমী সাধারণ মানুষেরা প্রতিনিয়ত এসব চিত্রকর্ম দেখার জন্য ঢুঁ-ও মারছেন গোটা দুনিয়ার নামীদামী সব গ্যালারিগুলোতে। এতে করে দিনশেষে প্রশংসাও জুটছে বহু শিল্পীর ভাগে। কিন্তু শিল্পকর্ম আর শিল্পীর বাইরে এসব প্রদর্শনী আলোর মুখ দেখার পেছনে এক্সিবিশন গ্যালারির উদ্যোক্তাদের অবদানও কিন্তু কম নয়। নইলে এই বানিজ্যের বাজারে কে আর তার দামী জায়গাটুকু নেহাত শিল্পকর্মের জন্য ভাড়া দিয়ে রাখেন। বিষয়টা অন্যান্য শিল্পীরা কীভাবে দেখেন বলা মুশকিল, তবে মার্কিন চিত্রকর জো সোলার কাছে কিন্তু শিল্পকর্মের পাশাপাশি আলাদা গুরুত্ব বহন করেন গ্যালারির মালিকেরাও। আর তাই সম্প্রতি অভিনব এক চিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করেন ‘গ্যালারিস্ট’দের স্বীকৃতি দেওয়ার পাশাপাশি সংবাদ শিরোনামও হয়েছেন এই শিল্পী। জো সোলার তার এবারের চিত্রকর্মগুলো প্রদর্শনের জন্য বেছে নিয়েছেন গ্যালারির মালিক টিগ সিগফ্রিডস এর কানকে। মোট ছয়টি ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র চিত্রকর্ম নিয়ে শুরু হওয়া এই প্রদর্শনীর নাম পোট্রেইটস: এন এক্সিবিশন ইনসাইড টিফ সিগফ্রিডস ইয়ার’। চিত্রকর্মগুলো দেখার জন্য কেউ গ্যালারিতে পা দিলেই চোখ পড়বে প্রদর্শন কক্ষের মাঝে বসে থাকা সিগফ্রিডস এর প্রতি। আর চিত্রকর্মগুলো পর্যায়ক্রমে দু’টি দু’টি করে স্থাপন করা হয়েছে সিগফ্রিডসের দুই কানের গহ্বরে। কাজেই ছবি দেখতে চাইলে আপনাকে উঁকি দিতে হবে সিগফ্রিডসের কানে। বিষয়টিকে ব্যাখ্যা করতে যেয়ে শিল্পী জো সোলা আর্ট ইন আমেরিকা সাময়িকীকে বলেন, ‘গ্যালারির উদ্যোক্তারা প্রতিটি প্রদর্শনীর সাথেই দারুণভাবে সম্পৃক্ত থাকেন এবং এ কারণেই এক ধরনের অন্তঃদৃষ্টি নিয়ে চিত্রকর্মগুলো দেখার এই আইডিয়াটি আমার ভালো লেগেছে। এভাবে গ্যালারি মালিকের কানের মাঝে উঁকি দিয়ে ছবি দেখার মানেটা যেন অনেকটা তার মাথা বা মনে উঁকি দিয়ে চিত্রকর্মের স্বাদ আস্বাদন করা।’ এদিকে শুনতে বেশ চমকপ্রদ শোনালেও এ ধরনের চিত্রকর্ম আঁকাটা মোটেও সহজসাধ্য কাজ ছিল না। যেখানে সাধারণ তুলি দিয়ে আঁকা একটি ছোপের চাইতেও সোলারের চিত্রকর্মগুলো অনেক ছোট সেখানে তাকে বাধ্য হয়েই ব্যবহার করতে হয়েছে ১২ মিলিমিটার আকুপাংচার সুঁই ও বিশেষভাবে তৈরি ব্রাশ। আর এভাবে সোলারের চিত্রকর্মগুলোর আকৃতি দাঁড়িয়েছে ৪/৬৪ বাই ৫/৬৪ ইঞ্চিতে।
