দীর্ঘ অর্ধশত বছরের পুরানো বাবুগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি স্থানীয় মানুষের তেমন কোন উপকারে আসছে না। চিকিত্সক সংকটের কারণে হাসপাতালটিতে রোগী কমে গেছে। হাসপাতালে ৯ জন চিকিত্সকের পদ থাকলেও কাগজে কলমে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তাসহ আছেন মাত্র ৪ জন। এদের মধ্যে একজন ৮ বছর ধরে ডেপুটেশনে রয়েছেন নগরীর বক্ষব্যাধি হাসপাতালে। অপর একজন সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হওয়ার পর আর ঐ হাসপাতালে যাচ্ছেন না। ফলে মাত্র দু’জন চিকিত্সকের উপর নির্ভর করছে হাসপাতালের সকল কার্যক্রম।
১৯৬৩ সালে বাবুগঞ্জের বাহেরচর ইউনিয়নের সুগন্ধা নদীর তীর ঘেঁষে প্রায় ৬ একর জমির উপর গড়ে তোলা হয় ৩১ শয্যা বিশিষ্ট বাবুগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে ঐ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সড়ক ও নৌ পথে যাতায়াতের তেমন সুযোগ না থাকায় সেখানকার বাসিন্দারা হাসপাতালটির চিকিত্সা সুবিধা তেমন একটা ভোগ করতে পারেননি। ১৯৮০’র দশকের পর থেকে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি হতে শুরু করে। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দোয়ারিকা-শিকারপুর সেতু নির্মিত হওয়ার পর যোগাযোগ ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন ঘটে। ৩১ শয্যার হাসপাতালটি ৫০ শয্যার হাসপাতালে উন্নিত করা হয়। কিন্তু চিকিত্সা সেবার উন্নতির পরিবর্তে ঘটেছে অবনতি। বর্তমানে চিকিত্সক সংকটে হাসপাতালের কার্যক্রম মুখ থুবড়ে পড়েছে। চিকিত্সক না থাকায় বাবুগঞ্জের রহমতপুর, মাধবপাশা, চাঁদপাশা, জাহাঙ্গীর নগর, কেদারপুর, বাহেরচর, খানপুরা ও দেহেরগতির অসুস্থ রোগীরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে না গিয়ে সরাসরি বরিশাল শেরেবাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল অথবা নগরীর সদর হাসপাতালে চিকিত্সার জন্য ভর্তি হন। নিজ এলাকার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কোন প্রকার স্বাস্থ্য সেবা পান না বাবুগঞ্জের মানুষ। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি স্থাপনের পর কেটে গেছে অর্ধশত বছর অথচ সেখানে এখন দৈনিক গড়ে ৫/৬ জনের বেশি রোগীর দেখা পাওয়া যায় না। উপজেলার বেশিরভাগ মানুষ দরিদ্র হওয়ায় তাদের পক্ষে নগরীর শেরেবাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল বা সদর হাসপাতালে এসে চিকিত্সা নেয়া সম্ভব হয় না। আর্থিক সঙ্গতি না থাকায় তারা বিনা চিকিত্সায় রোগ যন্ত্রণা সহ্য করতে বাধ্য হচ্ছেন।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার-পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ফকরুল আলম জানান, হাসপাতালে কাগজে কলমে ৪ জনের মধ্যে জুনিয়র অ্যানেসথিশিয়া কনসালটেন্ট ডা: হাসানুজ্জামান বরিশাল বক্ষব্যাধি ক্লিনিকে প্রেষণে রয়েছেন। ডা. সিহাব উদ্দিন সিহাব সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়ে চিকিত্সাধীন। এখন উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ফকরুল ইসলাম ও ডা. ননী দাস ছাড়া সেখানে কোন চিকিত্সক নেই। এনেসথিশিয়া চিকিত্সক না থাকায় সেখানে কোন রোগীর অপারেশন করা সম্ভব হচ্ছে না। ঐ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ইতিপূর্বে গাইনি বিশেষজ্ঞ চিকিত্সক ফরিদা বেগম কর্মরত ছিলেন। কিন্তু অ্যানেসথিশিয়া চিকিত্সক না থাকায় তার কোন কাজ ছিল না। এ কারণে সমপ্রতি তাকে সেখান থেকে বদলি করা হয়েছে বলে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে।
চিকিত্সক সংকটের কারণে ৫০ শয্যার হাসপাতালটি একটি দিনের জন্য পরিপূর্ণ রোগী পায়নি। চিকিত্সক সংকটের পাশাপাশি রোগীর অপ্রতুলতার কারণে বর্তমানে হাসপাতালের কার্যক্রম বন্ধের উপক্রম হয়েছে। এলাকার বিশিষ্টজনদের কাছ থেকে জানা যায়, ঐ হাসপাতালে চিকিত্সক দেয়া হলেও তারা তদবির করে দ্রুত অন্যত্র বদলি হয়ে যান। চিকিত্সকদের মূল টার্গেট বরিশাল নগরী। কারণ সেখানে প্রাইভেট প্র্যাকটিসের যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে।
