চট্টগ্রামে সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজ আজিজ বাহিনীর তত্পরতা আবার বেড়েছে। মাঝখানে কিছুদিন নিষ্ক্রিয় থাকলেও ঈদকে সামনে রেখে আবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে এই বাহিনী। নগরীর বায়েজিদ এলাকার ত্রাস হিসেবে পরিচিত আজিজ ও তার সহযোগীদের চাহিদা মত চাঁদা দিতে না পারলে নানাভাবে লাঞ্ছনা ও মারধরের শিকার হচ্ছেন স্থানীয় লোকজন। সাধারণ মানুষ, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, দোকানদার কেউ তাদের হাত থেকে নিস্তার পাচ্ছে না। খুন, ধর্ষণ, জমি দখল, ডাকাতি, চাঁদাবাজি, অস্ত্র ব্যবসাসহ প্রায় সব ধরনের অপকর্মের সঙ্গেই এই বাহিনী জড়িত। নগরীর বিভিন্ন থানায় আজিজ এবং তার প্রধান সহযোগী কানা বাচ্চুসহ অন্যান্যদের বিরুদ্ধে কমপক্ষে দুই ডজন মামলা রয়েছে বলে জানা গেছে। তবে স্থানীয় লোকজন ভয়ে মুখ না খোলার কারণে আজিজ ও তার সহযোগীরা সহজেই আদালত থেকে জামিন নিয়ে বের হয়ে আবার অপকর্মে লিপ্ত হয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
সম্প্রতি বায়েজিদ থানাধীন চন্দ্রনগর এলাকায় মো. ইলিয়াস নামে এক ব্যবসায়ীর কাছে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আজিজ বাহিনী। চাঁদা দেয়া না হলে উক্ত ব্যবসায়ীকে তার সদ্য প্রতিষ্ঠিত শপিং ব্যাগ কারখানা চালু করতে দেয়া হবে না বলে হুমকি দেয়া হয়। পরে চাঁদা না দেয়ায় গত ৩০ সেপ্টেম্বর বেধড়ক মারধর করে ব্যবসায়ীকে রাস্তায় ফেলে রেখে যায় আজিজ ও তার অন্য সহযোগীরা। রাস্তা থেকে তাকে তুলে নিয়ে চমেক হাসপাতালে ভর্তি করেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
এ ঘটনায় গত এক অক্টোবর বায়েজিদ থানায় আজিজসহ পাঁচজনকে আসামি করে চাঁদাবাজির মামলা দায়ের করেন ব্যবসায়ী ইলিয়াস। মামলার অপর আসামিরা হলো- কানা বাচ্চু, মদদী খলিল, কসাই জাহেদ ও দামা বাবু। পুলিশ আসামি দামা বাবুকে গ্রেফতার করায় আজিজ বাহিনী ব্যবসায়ী ইলিয়াস ও তার পরিবারের সদস্যদের নানাভাবে হুমকি দিচ্ছে। গত বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন ব্যবসায়ী ইলিয়াস নিজেই।
এলাকাবাসী জানায়, ২০১০ সালে নারী শিশু নির্যাতন মামলায় আজিজ গ্রেফতার হয়ে নয় মাস কারাভোগ করে। তার অন্যতম সহযোগী কানা বাচ্চু ২০০২ সালে বায়েজিদ এলাকায় একে ৪৭ রাইফেলসহ গ্রেফতার হয়। এই মামলায় এক বছর কারাভোগের পরে জামিনে বের হয়ে সে বিদেশে পালিয়ে যায়। দীর্ঘদিন বিদেশে থাকার পর সমপ্রতি সে দেশে ফিরে এসে আবার অপরাধ জগতের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছে।
