পা মাটিতেই রাখছেন সোহাগ

আপডেট : ১৩ অক্টোবর ২০১৩, ২২:০৯
টেস্টে বাংলাদেশের আগেও একটি হ্যাটট্রিক ছিল। মুলতানের মাটিতে সেই হ্যাটট্রিকের কল্যাণে টেস্ট জয়ের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গিয়েছিল বাংলাদেশ। কিন্তু ইনজামাম উল হকের বীরোচিত এক ইনিংসে ‘চুরি’ হয়ে যায় বাংলাদেশের স্বপ্ন। এবার আর এমনটা ঘটলো না। না জিতলেও অনেক ইতিবাচকতা দিয়েই নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে চট্টগ্রামের মাটিতে প্রথম টেস্ট ড্র করলো বাংলাদেশ। মোটা দাগে বাংলাদেশ ক্রিকেটের আনন্দায়ক দিনগুলোর মধ্যে একটি এনে দেয়ার কৃতিত্ব অবশ্যই সোহাগ গাজী’র। স্যার ইয়ান বোথাম, গ্যারি সোবার্স কিংবা জ্যাক ক্যালিসের মতো ইতিহাস সেরা অল রাউন্ডারদের টপকে প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে একই টেস্ট ম্যাচে গড়লেন হ্যাটট্রিক ও সেঞ্চুরি করার রেকর্ড। আর এমন রেকর্ড গড়ার পরও পা মাটিতেই রাখছেন গাজী। জাতীয় লিগে আগেও দুটি সেঞ্চুরি করেছেন। আছে চারটি হাফ সেঞ্চুরী পার হওয়া ইনিংস। ঘরোয়া ক্রিকেটে অল রাউন্ডার বলেই পরিচিত সোহাগ এর আগে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে বিশ্বের মাত্র ১২তম খেলোয়াড় হিসেবে একই ম্যাচে সেঞ্চুরি ও হ্যাটট্রিক করেছিলেন। গত বছর অক্টোবর মাসে জাতীয় লিগে এই ‘কাণ্ড’ ঘটান তিনি। তবে, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এতোদিন এ রকম বিধ্বংসী রূপে দেখা যায়নি সোহাগকে। অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম সেটা মেনেই বললেন, ‘সোহাগকে নতুন করে চিনলাম। এর আগে ওকে কখনো এরকম ব্যাটিং করতে দেখিনি। অনেক মারধর করতো। কিন্তু এবার সাবলীল ইনিংস খেলে নিজের অভিষেক শতক তুলে নিয়েছেন। রবিউলের সাথে শতরানের জুটি করেছে। এক কথায় অসাধারণ।’ বাংলাদেশের হয়ে এর আগেও ছয় উইকেট ও সেঞ্চুরি করেছেন একজন। ২০১১ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে ঢাকার মাটিতে ১৪৪ রান করার পাশাপাশি ৮২ রান দিয়ে ছয় উইকেট নিয়েছিলেন সাকিব আল হাসান। তবে, সোহাগ গাজীর কীর্তি আলাদা গুরুত্ব পাচ্ছে তার হ্যাটট্রিকের সুবাদে। ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে তাই ঘুরে ফিরেই এলো সোহাগের কথা। আর তার প্রশংসায় পঞ্চমুখ অধিনায়ক বলেন, ‘সোহাগ কাজ বেশি করে কথা কম বলে। ও যেই সময়ে ইনিংস খেলা শুরু করে সেই সময়ে বাংলাদেশের ওরকম একটা ইনিংস খুব জরুরি ছিলো। সে ধন্যবাদ পাবার যোগ্য’। ব্যাটিংয়ের পারফরম্যান্সটা এই প্রথমবারের মতো দেখা গেলে এর আগেই টেস্টে অসাধারণ বোলিং করেছেন সোহাগ। গত বছর ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে অভিষেকের পর এখন পর্যন্ত সাত টেস্টে ৩৪ উইকেট পেয়েছেন এই ক্রিকেটার। নিজের সেরা বোলিং পারফরম্যান্সের সাথে সাথে এই টেস্টে নিয়েছেন আট উইকেট। অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম তাই বলেন, ‘সোহাগ একাই ২০ উইকেট নেবার সামর্থ্য রাখে। সে দীর্ঘ সময় বোলিং করতে পারে। এরকম উইকেটে স্পিনারদের সাফল্য পাওয়া বেশ কষ্টকর।’ অনন্য রেকর্ড করার পরও পা মাটিতেই রাখছেন সোহাগ। সামনের ম্যাচেও ভাল করার লক্ষ্যের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এই ম্যাচ মনে থাকবে না। এটা মনে রাখলে নেক্সট ম্যাচগুলো ক্যাজুয়াল হবে। এখনো সিরিজের একটি টেস্ট বাকি রয়েছে। কনফিডেন্ট আছি। এই ম্যাচের সাফল্য সামনের ম্যাচে কাজে লাগাবো।’ নিজের হ্যাটট্রিক নিয়ে তিনি জানান, ‘বলটি করার আগে একবারও চিন্তা করিনি যে হ্যাটট্রিকই করতে হবে। এটা হয়ে যায়। বোলিং করেছি আর হয়ে গেছে।’ বিশ্বরেকর্ড গড়েছেন, পিছনে ফেলেছেন বিশ্বের সর্বকালের সেরা অল রাউন্ডারদের। অথচ সংবাদ সম্মেলনে আসার আগে ব্যাপারটা জানাই ছিল না সোহাগ গাজীর। বিশ্বরেকর্ড সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি মাত্র জানতে পারলাম। অনুভূতিটা অনেক ভালো। ভালোর উপর কিছু নেই। আর আলাদা কোন আনন্দ নেই।’ তবে হ্যাটট্রিক করতে সহায়তা করা সতীর্থদের কথা বলতে ভুললেন না। বললেন, ‘হেলমেট ছাড়া অনেক টাফ ক্যাচ ধরেছে মুশফিক ভাই। তাছাড়া সাকিব ভাইও একটি টাফ ক্যাচ ধরেছেন। হ্যাটট্রিকের ক্ষেত্রে অর্ধেক অবদান তাদেরই।’ টেস্টে বাংলাদেশের একই ম্যাচে সেঞ্চুরি ও পাঁচ উইকেট খেলোয়াড় প্রতিপক্ষ পারফরম্যান্স সাল ভেন্যু সাকিব আল হাসান পাকিস্তান ১৪৪ ও ৬/৮২ ২০১১ ঢাকা সোহাগ গাজী নিউজিল্যান্ড ১০১* ও ৬/৭৭ ২০১৩ চট্টগ্রাম টেস্টে বাংলাদেশের দুই হ্যাটট্রিক খেলোয়াড় প্রতিপক্ষ সাল ভেন্যু অলোক কাপালি পাকিস্তান ২০০৩ মুলতান সোহাগ গাজী নিউজিল্যান্ড ২০১৩ চট্টগ্রাম স্কো র কা র্ড নিউজিল্যান্ড : ১ম ইনিংস ৪৬৯ (উইলিয়ামসন ১১৪, ওয়াটলিং ১০৩; রাজ্জাক ৩/১৪৭)। বাংলাদেশ : ১ম ইনিংস ৫০১/১০ (মোমিনুল ১৮১, সোহাগ ১০১*, ব্রেসওয়েল ৩/৯৬)। নিউজিল্যান্ড : ২য় ইনিংস রান বল ৪ ৬ ফুলটন এলবিডব্লিউ ব সোহাগ ৫৯ ১৮৯ ৩ ২ রাদারফোর্ড এলবিডব্লিউ ব নাসির ৩২ ৪৫ ৩ ১ উইলিয়ামসন ক আমানুল ব সোহাগ ৭৪ ১৫০ ২ ১ টেইলর অপরাজিত ৫৪ ১০৫ ৪ ০ ম্যাককলাম ব সোহাগ ২২ ৩২ ১ ১ অ্যান্ডারসন এলবিডব্লিউ ব সোহাগ ৮ ৬ ০ ১ ওয়াটলিং ক মুশফিক ব সোহাগ ০ ১ ০ ০ ব্রেসওয়েল ক সাকিব ব সোহাগ ০ ১ ০ ০ সোদি অপরাজিত ২২ ১২ ১ ২ অতিরিক্ত : (বা ১১, লেবা ৪, নো ১) ১৬ মোট (৯০ ওভারে) ২৮৭/৭ উইকেট পতন : ১/৪০, ২/১৪৯, ৩/২০০, ৪/২৫০, ৫/২৬০, ৬/২৬০, ৭/২৬০। বোলিং : রাজ্জাক ৩২-৫-১১৬-০, রুবেল ৬-০-২১-০, সোহাগ ২৬-৪-৭৭-৬, সাকিব ৯-১-১৯-০, নাসির ৯-৪-২০-১, রবিউল ৪-১-৯-০, মোমিনুল ৪-০-১০-০। বাংলাদেশ : ২য় ইনিংস রান বল ৪ ৬ তামিম ক উইলিয়ামসন ব মার্টিন ৪৬ ৯৫ ৮ ০ আমানুল ক অ্যান্ডারসন ব মার্টিন ১৮ ৫৪ ২ ০ মার্শাল এলবিডব্লিউ ব সোদি ৩১ ৬৫ ১ ১ মোমিনুল অপরাজিত ২২ ৪১ ৩ ০ সাকিব অপরাজিত ৫০ ৩৯ ৪ ৩ অতিরিক্ত (বা ২, নো ৪) ৬ মোট (৪৮.২ ওভারে) ১৭৩/৩ উইকেট পতন : ১/৩৯, ২/৯৯, ৩/১০১। বোলিং : বোল্ট ৪-১-৯-০, ব্রেসওয়েল ৫-০-১৪-০, অ্যান্ডারসন ২-২-০-০, উইলিয়ামসন ১০-৩-২৪-০, মার্টিন ১৬-৪-৬২-২, সোদি ১০.২-১-৫৭-১, টেইলর ১-০-৫-০।