চট্টগ্রামে কাঁচা চামড়ার মূল্য নির্ধারণে বৈষম্য

আপডেট : ১৩ অক্টোবর ২০১৩, ২২:৩১
চট্টগ্রামে কোরবানির পশুর চামড়ার বাজার নিয়ে অস্থিরতার আশংকা করা হচ্ছে। ট্যানারি মালিকরা লবণযুক্ত চামড়ার মূল্য নির্ধারণ করে দেয়ায় কোরবানি দাতারা চামড়ায় ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হবেন বলে পাইকারি ব্যবসায়ীরা জানান। এর ফলে খুচরা বাজারে লবণবিহীন কাঁচা চামড়া প্রতি বর্গফুট ৫০ টাকার বেশি দরে কেনা হলে লোকসানের সম্ভাবনা রয়েছে। কারণ একটি কাঁচা চামড়া লবণ ও শ্রমিক মজুরিসহ রক্ষণাবেক্ষণে প্রায় ২০০ টাকার বেশি খরচ পড়ে। আবার লবণযুক্ত চামড়া ও ট্যানারি মালিকরা ত্রুটি দেখিয়ে প্রতিবর্গফুটে ৬/৭ টাকা কম দিয়ে থাকেন। ফলে এবার কোরবানির দিন চামড়ার খুচরা বাজারে অস্থিরতা দেখা দিতে পারে। কোরবানির চামড়ার বাজার নিয়ে এবার নতুন করে কৌশল নিয়েছেন ট্যানারি মালিকরা। এতে মাঠ পর্যায়ে কোরবানি দাতাদের চামড়ার ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশংকা দেখা দিয়েছে। এমনিতে কোরবানি দাতারা চামড়ার ন্যায্যমূল্য পায় না। ধর্মীয় প্রথামতে কোরবানির পশুর চামড়া বিক্রির টাকা অসহায়, দুস্থদের ও মাদ্রাসায় প্রদান করতে হয়। কোরবানি দাতা এই টাকা ভোগ করতে পারেন না। ফলে চামড়ার ন্যায্যমূল্য না পেলে এই টাকার সুবিধাভোগীরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। গতকাল রবিবার ট্যানারি মালিকরা কোরবানির পশুর চামড়ার ক্রয়মূল্য নির্ধারণ করে দিয়েছে। এবার লবণযুক্ত চামড়ার মূল্য নির্ধারণ করে দেয়া হলেও লবণ ছাড়া চামড়ার মূল্য নির্ধারণ করা হয়নি। লবণযুক্ত গরুর চামড়া প্রতি বর্গফুট ঢাকার বাইরে ৭৫ থেকে ৮০ টাকা, খাসি ৫০ থেকে ৫৫ টাকা, বকিরর ৪৫ থেকে ৫০ টাকা বেঁধে দেয়া হয়েছে। পাইকারি চামড়া ব্যবসায়ীরা জানান, বর্তমানে প্রতিবর্গফুট চামড়া ৫৫ থেকে ৬০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। কোরবানির চামড়া এর চেয়ে বেশি দামে কিনলে লোকসানে পড়তে হবে। কাঁচা চামড়া কিনে রক্ষণাবেক্ষণের পর বিক্রি করার সময় ট্যানারি মালিকরা নানা অজুহাত দেখিয়ে প্রতি বর্গফুটে আরো ৬/৭ টাকা কম দিয়ে থাকেন। এ প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন আড়তদার চামড়া ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মুসলিমউদ্দিন ‘ইত্তেফাক’কে বলেন, ‘খুচরা বিক্রেতাদের কাছ থেকে প্রতি বর্গফুট ৫০ টাকার বেশি দরে কেনা যাবে না। ২০ বর্গফুট পরিমাপের একটি কাঁচা চামড়া সংরক্ষণে ২০০ টাকার বেশি খরচ হয়। ট্যানারি মালিকরা এবার লবণযুক্ত মূল্য নির্ধারণ করায় খুচরা পর্যায়ে কাঁচা চামড়ার ন্যায্যমূল্য থেকে কোরবানি দাতারা বঞ্চিত হতে পারেন।’ কোরবানির দিন চট্টগ্রামে প্রায় চার লাখ গরুর চামড়া ও এক লাখ ছাগলের চামড়া বেচা-কেনা হয়ে থাকে। কাঁচা চামড়া ৬ ঘণ্টার মধ্যে লবণ না দিলে নষ্ট হয়ে যায়। কিন্তু অধিকাংশ মানুষের ধারণা না থাকায় কাঁচা চামড়া ক্ষতিগ্রস্ত হয়। প্রতিবার দেখা যায়, মাঠ পর্যায়ে মেপে চামড়া বেচা-কেনা হয় না। চামড়ার সাইজ অনুসারে গড়মূল্য হিসাবে বেচা-কেনা হয়ে থাকে। ফলে কোরবানি দাতারা প্রতি চামড়া ৪০০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ১২০০ টাকার বেশি পান না। এছাড়া চামড়া পশু থেকে আলাদা করার সময় ছিদ্র হয়ে যায়। ইট, পাথরে ঘষা লেগে চামড়া ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এসব ক্ষতিগ্রস্ত চামড়া রপ্তানি করা যায় না। ব্যবসায়ীরা জানান, চট্টগ্রামে কাঁচা চামড়া দীর্ঘসময় সংরক্ষণের কোন ব্যবস্থা নেই। আড়তদাররা লবণ দিয়ে দেড় মাস পর্যন্ত গুদামে মজুদ রাখতে পারেন। পরে ট্যানারি মালিকদের কাছে বিক্রি করে দিতে হয়। চট্টগ্রামে এক সময় ৭/৮টি ট্যানারি ছিল। বর্তমানে মাত্র দু’টি ট্যানারি রয়েছে। তারা চট্টগ্রামে কোরবানির পশুর ৩০ শতাংশ চামড়া কিনে থাকেন। নগদ টাকায় কেনার কারণে পাইকারি ব্যবসায়ীরা তাদের কাছে বিক্রি করতে আগ্রহ দেখায়। কিন্তু চট্টগ্রামের একটি ট্যানারি চামড়া কিনছে না বলে জানা গেছে। আড়তদার ব্যবসায়ীরা জানান, ঢাকার ৮ থেকে ১০টি ট্যানারির মালিক চট্টগ্রাম থেকে চামড়া কিনে থাকেন। তাদের কাছে চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীদের গত বছরের প্রায় ১২ কোটি টাকা বকেয়া পাওনা রয়েছে। ট্যানারি মালিকরা সরকারিভাবে বিপুল অংকের ব্যাংক ঋণের সুবিধা পেলেও নগদ টাকায় চামড়া না কেনায় আড়তদার ও পাইকারি বিক্রেতাদের অর্থ সংকটে পড়তে হয় বলে অনেকেই অভিযোগ করেছেন।