কুরবানির পশু নির্বাচনে লক্ষণীয় বিষয়

আপডেট : ১৪ অক্টোবর ২০১৩, ২০:৫১
মহান ত্যাগের মহিমায় ভাস্বর মুসলিম উম্মাহর বৃহত্ ধর্মীয় উত্সব ঈদুল আযহা। সূরা হজ্বে বলা হয়েছে, ‘‘এগুলোর গোশত ও রক্ত আল্লাহর কাছে পৌঁছে না, কিন্তু তোমাদের তাকওয়া পৌঁছে যায়।’’ আল্লাহর বান্দারা কে কতটুকু ত্যাগ ও আল্লাহভীতির পরিচয় দিতে প্রস্তুত এবং আল্লাহপাকের নির্দেশ পালন করেন তিনি তা-ই প্রত্যক্ষ করেন কেবল। কুরবানির শিক্ষা- কুরবানির মূল শিক্ষা হলো আত্মত্যাগ। পাশাপাশি বনের পশুর সাথে মনের পশুকে কুরবানি করাই হচ্ছে কুরবানির শিক্ষা। আমাদের মনে পশুত্বসুলভ যে স্বভাবগুলো রয়েছে কুরবানির সাথে সাথে যদি সেগুলোকে কুরবানি করতে পারি তা হলেই আমাদের কুরবানি সার্থক হবে। কুরবানির পশু নির্বাচন, কুরবানির নিয়ম ইসলাম সম্মত হওয়া জরুরি। বিভিন্ন কিতাবাদি এবং মুহাক্কেক আলেমদের নিবন্ধ থেকে এ বিষয়ে যা জানা যায় তা হলো: কুরবানির পশু চয়ন:গরু, ছাগল, উট ও দুম্বা এই কয় প্রকার গৃহপালিত পশু দ্বারা কুরবানি করা জায়েজ। এগুলো ব্যতিত অন্য পশু যত মুল্যবানের হোকনা কেন তা দিয়ে কুরবানি জায়েজ হবেনা। ছাগল, ভেড়া ও দুম্বা কমপক্ষে পূর্ণ এক বত্সর বয়সের হতে হবে। বয়স যদি কিছু কমও হয় কিন্ত এমন মোটা তাজা যে, এক বত্সর বয়সীদের মধ্যে ছেড়ে দিলেও তাদের চেয়ে ছোট মনে হয় না, তাহলে তার দ্বারা কুরবানি জায়েজ আছে। তবে বকরী কোন অবস্থা এক বত্সরের কম হলে চলবে না। গরু ও মহিষের বয়স কম পক্ষে দুই বত্সর হতে হবে। উট এর বয়স কম পক্ষে পাঁচ বত্সর হতে হবে। কুরবানির পশু ভাল এবং হূষ্টপুষ্ট হওয়াই উত্তম। যে প্রাণী লেংড়া অর্থ্যাত্ যা তিন পায়ে চলতে পারে-এক পা মাটিতে রাখতে পারে না বা রাখতে পারলেও ভর করতে পারে না এমন পশু দ্বারা কুরবানি হবে না। যে পশুর একটিও দাঁত নেই তার দ্বারা কুরবানি হবে না। যে পশুর কান জন্ম হতে নেই তা দ্বারা কুরবানি জায়েয নয়, তবে কান ছোট হলে অসুবিধা আছে। যে পশুর শিং মুল থেকে ভেঙ্গে যায় তা দ্বারা কুরবানি বৈধ নয়। তবে শিং উঠেইনি বা কিছু পরিমাণ ভেঙে গিয়েছে এমন পশু দ্বারা কুরবানি জায়েজ আছে। যে পশুর উভয় চোখ অন্ধ বা একটি চোখের দৃষ্টি শক্তি এক তৃতীয়াংশ বা তার বেশি নষ্ট তা দ্বারা কুরবানি জায়েজ নেই। যে পশুর একটি কান বা লেজের এক তৃতীয়াংশ কিংবা তার চেয়ে বেশি কেটে গিয়েছে তা দ্বারা কুরবানি সঙ্গত নয়। অতিশয় কৃশকায় ও দুর্বল পশু দ্বারা কুরবানি বৈধ নয়। ভাল পশু ক্রয় করার পর এমন দোষ ত্রুটি দেখা দিয়েছে যার কারণে কুরবানি দুরস্ত হয় না-এরূপ হলে সেটিই কুরবানি দেয়া দুরস্ত হবে। গর্ভবতী পশু কুরবানি করা জায়েজ। যদি পেটের বাচ্চা জীবিত পাওয়া যায় তাহলে সে বাচ্চাও জবাই করে দিতে হবে। তবে প্রসবের নিকটবর্তী হলে সেরূপ পশু কুরবানি দেয়া মাকরুহ। বন্ধ্যা পশু কুরবানি করা জায়েজ আছে। কুরবানির নিয়ম :নিজের কুরবানি নিজে কারাই হচ্ছে উত্তম। নিজে না জানলে যিনি জানেন তার মাধ্যমে জবেহ করানো জায়েয আছে। জবেহ করার সময় কুরবানিদাতা নিকটে থাকা উত্তম। কুরবানির নিয়ম মনে করলে হবে। হযরত আনাছ রাদিআল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাদা-কালো শিং বিশিষ্ট দুটি ভেড়া কুরবানি করলেন নিজ হাতে। আমি দেখেছি যে, তিনি এগুলোর বাহুর ওপর নিজের পা রেখে বিসমিল্লাহি আল্লাহু আকবার বলেছিলেন (বোখারী ও মুসলিম)। যাকে দিয়ে পশু জবেহ করাবেন তাকে অবশ্যই কিছু হাদিয়া দেবেন। জবেহ করার সময় বিসমিল্লাহি আল্লাহু আকবার’বলা জরুরী্। জবেহ করার সময় কুরবানির পশুকে কিবলামুখী করে শুইয়ে এ দু’আয়াটি পড়া সুন্নাত : ইন্নি ওয়াজ্জাহতু ওয়াজিহিয়া নিল্লাযি ফাতারাছ ছামাওয়াতি ওয়াল আরদা হানিফাও ওমা আনা মিনাল মুশরিকিন। ইন্না ছালাতি ওয়া নুছুকী ওয়া মাহইয়াইয়া ওয়া মামাতী লিল্লাহি রাবিবল্ আ’লামিন। আল্লাহুম্মা তাকাববাল মিন্নি অমিন আহলে বায়তি—কুরবানি যদি নিজের পক্ষ থেকে হয় তাহলে জবেহ করার পর এই দুআ পড়বে। আর যদি অন্য কারো পক্ষ থেকে কুরবানির পশু জবেহ করা হয়, তাহলে জবেহকারী ‘মিন্নির স্থলে মিন’ বলে যার কুরবানি করছে তার নাম উচ্চারণ করবে। যিলহজ্বের ১০, ১১, ১২ ও ১৩ তারিখ পর্যন্ত তিনদিন কুরবানি করা জায়েয। তথ্যসুত্র ঃ রাইট পাথ অব ইসলাম, ত্রৈ-মাসিক রহমাতুল্লিল আলামীন, সদালাপ [email protected]