সমঝোতার আর কোন পথ নেই :বিএনপি

আপডেট : ১৪ অক্টোবর ২০১৩, ২২:৪৫
আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকে দলীয় সরকারের অধীনে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের সিদ্ধান্ত গ্রহণকে একতরফা নির্বাচনের চূড়ান্ত আয়োজন বলে মনে করছে প্রধান বিরোধী দল বিএনপি। বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আগামী নির্বাচনে বিএনপির সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে ভয় পায় বলেই ক্ষমতাসীন দল একতরফা নির্বাচন করতে চায়। কিন্তু এ ধরনের নির্বাচন প্রতিহত করার জন্য নেতা-কর্মীদের নিয়ে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি গ্রহণ করা হচ্ছে। একতরফা নির্বাচন প্রতিহত করার জন্য যা কিছু করণীয় সবই করা হবে। গত রবিবার আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকে বর্তমান দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন অনুষ্ঠানের এবং নির্বাচন পর্যন্ত বর্তমান মন্ত্রিসভা বহাল রাখার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী বৈঠকের সিদ্ধান্ত সম্পর্কে বিএনপির প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আওয়ামী লীগ নির্বাচনে বিএনপিকে ভয় পায় বলেই একতরফা নির্বাচন করতে চায়। বিএনপিকে নির্বাচনের বাইরে রেখে একতরফা নির্বাচন করার জন্যই তারা দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, বিরোধী দল যা আশংকা করছিল, সরকার সে পথেই অর্থাত্ একতরফা নির্বাচনের পথে অগ্রসর হচ্ছে। দলীয় সরকারের অধীনে আগামী সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের সিদ্ধান্তের পর সমঝোতার আর কোন অবকাশ রইলো না। সরকার দেশকে এক অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। ঈদের পর ১৮ দলের সভায় একতরফা নির্বাচন প্রতিহত করার লক্ষ্যে কঠোর কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে এবং ২৫ অক্টোবরের সভায় এই কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির অপর সদস্য এমকে আনোয়ার বলেন, এই সরকার এমন অবস্থা সৃষ্টি করতে চাইছে যে, তারা কোনভাবেই ক্ষমতা ছাড়বেন না। কিন্তু ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, যারা ক্ষমতা আঁকড়ে থাকতে চায় তাদের শেষ পরিণতি ভাল হয় না। সরকারের গত পাঁচ বছরের অপকর্মের তালিকা এতই দীর্ঘ যে তারা ক্ষমতা ছাড়তে ভয় পায়। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া বলেন, সরকার আগামী নির্বাচন অনুষ্ঠানে আন্তরিক নয় বলেই দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন করতে চায়। গণতন্ত্র ধ্বংস করে তারা যে কোন উপায়ে ক্ষমতায় থাকতে চায়। সরকার দেশকে এক ভয়াবহ পরিণতির দিকে ঠেলে দিচ্ছে। বিএনপির ভাইস-চেয়ারম্যান সাদেক হোসেন খোকা বলেন, দলীয় সরকারের অধীনে বিএনপি কোন নির্বাচনে অংশ নেবে না এবং এ ধরনের কোন নির্বাচন হতে দেয়া হবে না। বিএনপিকে বাদ দিয়ে একতরফা নির্বাচন যে কোন মূল্যে প্রতিহত করা হবে।