দফতরবিহীন মন্ত্রী সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত এমপি গত রবিবার ঢাকায় এক আলোচনাসভায় বলেছেন, রাষ্ট্রপতি চাইলে সংসদের মেয়াদ আরো এক বছর বাড়তে পারে। তার এই বক্তব্যকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। কেউ কেউ বলছেন, তিনি কি বাংলাদেশ (প্রজাতন্ত্র) যুদ্ধে লিপ্ত হবে- এমন আশংকা করছেন?
সুরঞ্জিত সেন গুপ্ত বাংলাদেশের সংবিধান প্রণয়ন কমিটির একজন সদস্য এবং অভিজ্ঞ পার্লামেন্টারিয়ান। তার সংবিধান এবং আইন সংশ্লিষ্ট মন্তব্য বা ব্যাখ্যা অনেকেই গুরুত্বের সংঙ্গে গ্রহণ করেন। দেশের সংবিধানের ৭২ (৩) অনুচ্ছেদে উল্লেখ রয়েছে, ‘রাষ্ট্রপতি পূর্বে ভাঙ্গিয়া না দিয়া থাকিলে প্রথম বৈঠকের তারিখ হইতে পাঁচ বত্সর অতিবাহিত হইলে সংসদ ভাঙ্গিয়া যাইবে ; তবে শর্ত থাকে যে, প্রজাতন্ত্র যুদ্ধে লিপ্ত থাকিবার কালে সংসদের আইন দ্বারা অনুরূপ মেয়াদ এককালে অনধিক একবত্সর বর্ধিত করা যাইতে পারিবে, তবে যুদ্ধ সমাপ্ত হইলে বর্ধিত মেয়াদ কোনক্রমে ৬ মাসের অধিক হইবে না।’
সংবিধানের এই বিধান অনুযায়ী কেবলমাত্র প্রজাতন্ত্র যুদ্ধে লিপ্ত হলেই সংসদের মেয়াদ একবছর বাড়ানো যায়। তবে সেক্ষেত্রেও মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়ে আইন প্রণয়ন করতে হবে। অন্যদিকে সংসদের মেয়াদ অবসানের পরও রাষ্ট্রপতি সংসদের অধিবেশন আহবান করতে পারেন বলে ক্ষমতাসীন দলের দায়িত্বশীল নেতৃত্ব থেকে বলতে দেখা যাচ্ছে। সংবিধান অনুযায়ী প্রজাতন্ত্র কেবলমাত্র যুদ্ধে লিপ্ত থাকলেই ভেঙ্গে যাওয়া বা মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়া সংসদের অধিবেশন ডাকা যায়। এ বিষয়টি সংবিধানের ৭২ (৪) অনুচ্ছেদে স্পষ্ট করে উল্লেখ রয়েছে। এতে বলা হয়েছে, “সংসদ ভঙ্গ হইবার পর এবং সংসদের পরবর্তী সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠানের পূর্বে রাষ্ট্রপতির নিকট যদি সন্তোষজনকভাবে প্রতীয়মাণ হয় যে, প্রজাতন্ত্র যে যুদ্ধে লিপ্ত রহিয়াছে, সেই যুদ্ধাবস্থার বিদ্যমানতার জন্য সংসদ পুনরাহ্বান করা প্রয়োজন, তাহা হইলে যে সংসদ ভাঙ্গিয়া দেওয়া হইয়াছিল, রাষ্ট্রপতি তাহা আহবান করিবেন”।
