গল্প নয় সত্যি

গর্ভকালীন সময়ে বিষণ্নতা নয়

আপডেট : ১৮ অক্টোবর ২০১৩, ১৭:২০
গর্ভকালীন সময়ে মায়ের অনেক আচার-আচরণ আর ভাবনাই যে অনাগত সন্তানকে প্রভাবিত করতে পারে সেটা বহুকাল ধরেই বলে আসছিলেন চিকিত্সা বিজ্ঞানী ও গবেষকরা। তবে তাই বলে গর্ভকালীন সময়ে মায়ের মাঝে দেখা দেওয়া বিষণ্নতার অনুভূতি যে সন্তানের মাঝেও সঞ্চারিত হতে পারে এতকাল ধরে সে কথা সন্দেহাতীতভাবে জানা ছিল না মানুষের। আর অজানা এবং চমকে ওঠার মতো এই খবরটিই সম্প্রতি জানিয়ে দিয়েছেন ব্রিটেনের একদল গবেষক। তাদের দাবি, বিষণ্নতার মতো রোগটি প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের ক্ষেত্রে অনেক বেশি প্রকাশিত রূপে দেখা দিলেও অবিশ্বাস্যভাবে এটি প্রভাবিত করতে পারে মার্তৃগর্ভে থাকা ভ্রুণকেও। এর ফলে যে মায়েরা গর্ভকালীন সময়ে বিষণ্নতায় আক্রান্ত হন তাদের বিষণ্নতা পক্ষান্তরে বিষণ্নতা রোগের ঝুঁকিতে ঠেলে দেয় অনাগত সন্তানদেরও। মজার বিষয় হলো, সন্তানের মাঝে এই বিষণ্নতার প্রকাশ অন্য আর দশটা বংশগত রোগের মতো দ্রুত প্রকাশ পায় না। বরং ধীরে ধীরে সন্তান যখন প্রাপ্তবয়স্ক হয় তখনই গর্ভকালীন এই বিষণ্নতা ধীরে ধীরে প্রকাশিত হয়। বিষয়টির স্বপক্ষে নিজেদের প্রমাণ তুলে ধরতে যেয়ে ব্রিটিশ গবেষকরা জানিয়েছেন, প্রায় আট হাজার নারীর ওপর গবেষণা চালিয়ে তারা দেখেছেন যেসব নারী গর্ভকালীন সময়ে বিষণ্নতায় ভোগেন তাদের সন্তান প্রাপ্তবয়সে অর্থাত্ ১৮ বছরের পরে তুলনামূলক বেশি (অন্যদের চাইতে ১.৩ গুন) বিষণ্নতার ঝুঁকিতে থাকেন। এ কারণে গর্ভকালীন সময়ে নারীদের অন্যান্য অসুখ-বিসুখ পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি তাদের বিষণ্নতার বিষয়টিও আমলে নেওয়া এবং এজন্য প্রয়োজনীয় মানসিক সহায়তা দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন এই গবেষকেরা।