গাইবান্ধা-সাঘাটা সড়কে আলাই নদীর ওপর প্রাচীন বাদিয়াখালী সেতুটি যান চলাচলের অনুপোযোগী হয়ে পড়েছে। সেই পুরাতন ঢালাই ভেঙ্গে পড়া সেতুর ওপর কোনরকমে জোড়াতালি দিয়ে নির্মাণ করা হয় বেইলী সেতু। ভারী যানবাহন চলাচলের কারণে সেতুটি আবারও ভেঙ্গে পড়ার উপক্রম হয়ে পড়েছে।
সেতুটি বিপদজনক হওয়ায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এক প্রান্তে সর্তক লেখা সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দিয়েছে। তবুও চলাচলের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় মারাত্মক ঝুঁকি নিয়ে প্রতিনিয়ত সেতুর ওপর দিয়ে অসংখ্য ভারী যানবাহন চলাচল করছে। ফলে যে কোন মুহূর্তে ঘটতে পারে বড় ধরণের দুর্ঘটনা। এছাড়াও সেতুটি সরু হওয়ায় দুইপাড়ের ছেড়ে আসা যানবাহন ও পথচারীদের পারাপারের সময় দুর্ভোগ পোহাতে হয়।
গাইবান্ধা-ফুুলছড়ি-ভরতখালী-সাঘাটা সড়কে ৫৪.৫১ মিটার ঝুঁকিপূর্ণ বেইলী সেতুটি বাদিয়খালী নামক স্থানে অবস্থিত।
গাইবান্ধা সড়ক ও জনপদ অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয়ে এবং স্থানীয় লোকজনের কাছে পুরাতন সেতুটির তেমন তথ্য পাওয়া না গেলেও সেতুটি পাকিস্তান আমলে নির্মাণ করা হয়েছে বলে এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে। স্থানীয় রামনাথের ভিটা গ্রামের আব্দুল করিম (৮৫) সাথে কথা হলে তারা জানান, সেতুটি পাকিস্তান আমলে নির্মাণ করা হয়েছে।
জেলা শহরের সঙ্গে সাঘাটা-ফুলছড়ি দুই উপজেলার মানুষের যোগাযোগ সহজতর করার জন্য এ সেতু নির্মাণ করা হয়। স্বাধীনতা যুদ্ধ চলাকালীন সময় পাকবাহিনীদের মধ্যে ভীতি সৃষ্টি করার জন্য এ সেতুর ওপর মুক্তিযোদ্ধারা বোমা নিক্ষেপ করে। এতে সেতু একাংশ ভেঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরবর্তীতে সেতু মেরামত করে যানবাহন চলাচলের উপযোগী এবং সেতুর দু’পারের সড়ক ১২ ফুট প্রশস্ত পাকাকরণ করা হয়।
কিন্তু মাত্রাঅতিরিক্ত যানবাহন চলাচলের কারণে সেতু দুর্বল হলে বিগত ২০০৭ সালে সেতুর উপরের ঢালাই ভেঙ্গে পড়ে এবং দুইপাশের বিমে ফাটল ধরে এবং সেতুর নীচে পিলারের ইটের মাঝ মাঝে থেকে ইট খুলে পড়ে যায়। এতে সেতু ভেঙ্গে পড়ার উপক্রম হয়ে পড়লে তৎকালীন অনির্বাচিত সরকার আমলে সেবাহিনীর তত্বাবধানে তড়িঘড়ি করে সেতুর ওপর জোড়াতালি দিয়ে অস্থায়ীভাবে বেইলী ব্রিজ স্থাপন করে কোনরকমে ছোট ছোট যানবাহন চলাছলের ব্যবস্থা করা হয়। পরবর্তীতে সড়ক ১৮ ফুট পর্যন্ত প্রশস্ত করণ করা হলেও ওই স্থানে নতুন সেতু নির্মাণের ব্যবস্থা হয়নি।
সাঘাটা ফুলছড়ির জনসংখ্য বৃদ্ধির পাশাপাশি এই সড়কে যানবাহন চলাচলে ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পেলে গত অর্থবছরে সেতুর দুপাড়ের সড়ক ১২ থেকে বর্ধিত করে ১৮ ফুট প্রশস্ত করা হয়। কিন্তু এ প্রকল্প থেকে বাদ রাখা হয় বাদিয়াখালীর সেতুটি।
রামনাথের ভিটা গ্রামের নুর হোসেন (৮২) জানান, ঝুঁকিপূর্ণ সেতুর ওপর প্রতিদিন অসংখ্য ভারী বাস, মালবাহী ট্রাক, দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে সাঘাটা-ফুলছড়িতে এ সেতুর ওপর দিয়ে চলাচল করে। এছাড়া এ্যাম্বুলেন্স, পুলিশের পিকআপ, স্কুল কলেজের ছাত্রছাত্রী বহনকারী গাড়ীসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহন চলাচল করে এই সেতুর ওপর দিয়ে।এজন্য আমাদের সব সময় আতংকের মধ্যে থাকতে হয়। ব্রিজটি ভেঙ্গে কখন যে কি হয়ে যায় !
ফ্রেস কোম্পানীর মালবাহী ট্রাক ড্রাইভার লিটন জানান, এই সেতু ছাড়া সাঘাটা-ফুলছড়ি উপজেলায় প্রবেশের আর কোন পথ না থাকায় ঝুঁকি নিয়ে সেতু পারাপার হতে হচ্ছে। সেতুটি ভেঙ্গে ফেলে নতুন করে নির্মাণ করা প্রয়োজন, অন্যথায় সেতুর দুপাড়ের সড়কের সুবিধা থেকে এলাকাবাসী বঞ্চিত হবে।
সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের অধিনে গাইবান্ধা-ফুলছড়ি-ভরতখালী-সাঘাটা সড়কটি ইতিমধ্যেই ১২ ফুট হতে ১৮ ফুট পর্যন্ত প্রশস্তকরণ এবং ব্রিজ পূনঃ নির্মাণ করা হলেও ওই প্রকল্পের আওতায় রাখা হয়নি ঝুঁকিপূর্ণ বাদিয়াখালী সেতুটি।
আরও পড়ুন: মেলান্দহে সাংবাদিক পরিবারকে নির্যাতনের প্রতিবাদ সভা
এ ব্যাপারে গাইবান্ধা জেলা সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী আসাদুজ্জামানের সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, ঝুঁকিপূর্ণ সেতুটির স্থানে নতুন একটি সেতু নির্মাণ হবে। এজন্য ইতিমধ্যে ঢাকায় এর টেন্ডার হয়েছে। আগামী জুনের পরই নির্মাণ কাজ শুরু করা হবে।
ইত্তেফাক/নূহু

