গোপালগঞ্জে পৃথক তিনটি সংঘর্ষে কমপক্ষে ৫৫ জন আহত হয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশ ২৮ জনকে আটক করেছে। বৃহস্পতিবার রাতে গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার বনগ্রাম ও কংশুর গ্রামের লোকজনের মধ্যে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে সংঘর্ষে ১৫ জন, দুপুর ও বিকালে গ্রামে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দফায় দফায় সংঘর্ষে সদর উপজেলার চন্দ্রদিঘলিয়া গ্রামে ৩০ জন ও একই দিন সকালে মোবাইলে মেয়েদের ছবি তোলার ঘটনায় প্রতিপক্ষের হামলায় ১০ জন আহত হয়েছে। এ সময় একটি বেসরকারি এম্বুলেন্স, দোকান ও বসতঘর ভাংচুর করা হয়। মারাত্মক আহত ১০ জনকে গোপালগঞ্জ আড়াইশ’ বেড হাসপাতালে ভর্তির পর তারা গ্রেফতার এড়াতে পালিয়ে যায়। বৃহস্পতিবার রাতে সদর উপজেলার বনগ্রাম ও কংশুরের মধ্যে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে দু’ পক্ষের সংঘর্ষে ১৫ জন আহত হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানিয়েছেন, চন্দ্রদীঘলিয়া গ্রামের আধিপত্য বিস্তার নিয়ে নূর মোহাম্মদ ও ময়েন উদ্দিনের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল। বৃহস্পতিবার নূর মোহাম্মদের এক সমর্থককে ময়েন উদ্দিনের লোকজন মারপিট করে। এ ঘটনার জের ধরে দুপুরে উভয় পক্ষের সমর্থক দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। পরে বিকেলে তারা ফের সংঘর্ষে লিপ্ত হলে উভয় গ্রুপের অন্তত ৩০ জন আহত হয়।
গোপালগঞ্জ সদর থানার ওসি মোঃ জাকির হোসেন মোল্লা দু’স্থানে সংঘর্ষের কথা স্বীকার করে বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। রাতে দু’স্থান থেকে ২৮ জনকে আটক করা হয়েছে। অন্যদিকে কাশিয়ানীতে মোবাইলে মেয়েদের ছবি তোলার ঘটনায় প্রতিপক্ষের হামলায় কমপক্ষে ১০ জন আহত হয়েছে। এ সময় বাড়িঘর ও দোকানপাট ভাংচুর করা হয়। বৃহস্পতিবার কাশিয়ানী উপজেলার মাজড়া গ্রামে হামলা ও ভাংচুরের ঘটনা ঘটেছে।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানিয়েছে, ঈদের দিন বিকেল মাজড়া পশ্চিমপাড়া গ্রামের একদল যুবক মাজড়া পূর্বপাড়া গ্রামে গিয়ে মোবাইলে মেয়েদের ছবি তোলে। এ নিয়ে দু’গ্রামের যুবকদের মধ্যে বাকবিতন্ডার এক পর্যায়ে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনার জের ধরে পূর্বপাড়ার লোকজন সংঘবদ্ধ হয়ে বৃহস্পতিবার সকালে পশ্চিমপাড়ার বেশ কয়েকটি বাড়ি ও দোকানপাটে হামলা চালিয়ে ভাংচুর করে। এ সময় হামলাকারীদের নিক্ষিপ্ত ইটের আঘাতে পশ্চিমপাড়া গ্রামের অন্তত ১০ জন আহত হয়। কাশিয়ানী থানার ওসি মনিরুল ইসলাম এ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেছেন, এখন এলাকার পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।
অস্ট্রিয়া প্রবাসী রাবেটের
লাশ দাফন
গোপালগঞ্জে কঠোর নিরাপত্তায় শান্তিপূর্ণভাবে অস্ট্রিয়া প্রবাসী শেখ মাসুদুর রহমান রাবেটের লাশ দাফন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার বাদ জোহর শহরের আলীয়া মাদ্রাসা মসজিদ প্রাঙ্গণে দ্বিতীয় নামাজে জানাজা শেষে গেটপাড়া কবরস্থানে রাবেটের মরদেহ দাফন করা হয়।
জানাজায় অংশ নিয়ে ডিএমপি কমিশনার আইন-শৃংখলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য গোপালগঞ্জবাসীকে ধন্যবাদ জানিয়ে তার বক্তব্যে বলেন, এটি একটি নৃশংস হত্যাকাণ্ড। এ ঘটনায় জড়িত অনেককেই আমরা গ্রেফতার করেছি। পলাতক আসামিদের গ্রেফতার করে বিচারের আওতায় আনা হবে। জানাজায় গোপালগঞ্জের পুলিশ সুপার মোঃ মিজানুর রহমান, আওয়ামী লীগ নেতা এম.বদরুল আলম বদর বক্তব্য রাখেন।
উল্লেখ্য গত রবিবার রাতে সিকদারপাড়ার দুর্গাপূজার অনুষ্ঠানে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে একদল দুর্বৃত্ত শহরের সাহাপাড়ায় বাড়ির সামনে প্রবাসী রাবেটকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করে। এ ঘটনায় পুলিশ বেশ কয়েকজনকে গ্রেফতার করে মামলা দায়ের করেছে।
হামলায় জেলা বিএনপির
সভাপতি আহত
গোপালগঞ্জে ইভটিজিং-এর ঘটনায় হামলায় জেলা বিএনপির সভাপতি মোঃ সিরাজুল ইসলাম সিরাজ আহত হয়েছেন। শুক্রবার তার নিজ গ্রাম গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার আড়পাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
