দুর্গাপূজা ও ঈদের ছুটিতে রামেক হাসপাতালে রোগীদের দুর্ভোগ

আপডেট : ১৮ অক্টোবর ২০১৩, ২১:৫৬
দুর্গাপূজা ও ঈদের ছুটিতে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতাল প্রায় বিশেষজ্ঞ চিকিত্সক ও নার্স শূন্য হয়ে পড়ে। চরম দুর্ভোগে পড়ে আগত রোগীরা। প্রায় একই অবস্থা হয় রামেকের চিকিত্সকনির্ভর বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকও। তবে রামেক হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, ছুটিতে বিশেষজ্ঞ চিকিত্সক না থাকলেও বিশেষ ব্যবস্থায় পর্যাপ্ত চিকিত্সকের মাধ্যমে আগত রোগীদের চিকিত্সা দেয়া হয়েছে। কেউ বিনা চিকিত্সায় মারা যায়নি। অভিযোগ রয়েছে, এবার দুর্গাপূজা ও ঈদুল আজহার ছুটির কারণে গত রবিবার থেকে রামেক হাসপাতাল ছাড়তে শুরু করেন বিশেষজ্ঞ চিকিত্সকরা। ঈদের দিন থেকে হাসপাতালের ওয়ার্ডে চিকিত্সকদের চেম্বার ফাঁকা হয়ে পড়ে। ফলে বিভিন্ন ওয়ার্ডে ভর্তি রোগীদের চিকিত্সা সেবার গতি ঝিমিয়ে পড়ে। ঈদের পরদিন বৃহস্পতিবার রামেক হাসপাতালের ৮নং ওয়ার্ডের রোগী শাজাহান শেখ (৫৫) বলেন, ঈদের দিন থেকে প্রফেসরদের ‘রাউন্ড’ বন্ধ। নেই অভিজ্ঞ নার্সও। এমনকি ওয়ার্ডের ইন্টার্নি চিকিত্সক ও স্টুডেন্ট নার্সরাও ডিউটির নিয়ম মানেননি। ঈদের ছুটির কারণে সংশ্লিষ্ট সকলে ওয়ার্ডে ইচ্ছেমত ডিউটি করেছেন। এতে গ্রামাঞ্চল থেকে আগত রোগীরা চিকিত্সা না পেয়ে হাসপাতাল ছেড়ে যেতে বাধ্য হন। অথচ হাসপাতালের নিয়মানুযায়ী প্রতিটি ইউনিটের জন্য অবশ্যই একজন করে রেজিস্ট্রার, একজন বিশেষজ্ঞ চিকিত্সক, ইন্টার্নি চিকিত্সক ও নার্সের দায়িত্ব পালন করার কথা। হাসপাতালের ওয়ার্ড মাস্টার অফিসে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত সোমবার থেকে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত বিভিন্ন ওয়ার্ডে ৪৯ রোগীর মৃত্যু হয়েছে। তবে চিকিত্সক ও নার্স না থাকার কারণে নয়, দুর্ঘটনা এবং জটিল রোগে তাদের মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি করেন ওয়ার্ড মাস্টার মোশারফ হোসেন। এবিষয়ে রামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. সাইদুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, বিশেষজ্ঞ চিকিত্সক না থাকলেও ঈদের ছুটিতে বিশেষ ব্যবস্থায় পর্যাপ্ত চিকিত্সক ও নার্স রোগীদের চিকিত্সা দিয়েছেন। রবিবারের মধ্যে বিশেষজ্ঞ চিকিত্সকগণ কাজে যোগ দিলে চিকিত্সা সেবা আরো গতিশীল হবে বলে উল্লেখ করে তিনি জানান, এনিয়ে কেউ কোনো অভিযোগ করেননি।