চামড়ার দর বৃদ্ধির জন্য মৌসুমী ব্যবসায়ীদের দোষারোপ

আপডেট : ১৮ অক্টোবর ২০১৩, ২১:৫৭
চট্টগ্রাম মহানগরী এবং আশপাশের অঞ্চলে এবার ঈদুল আজহায় গরু, ছাগল, মহিষসহ প্রায় ৪ লাখ গবাদিপশু কোরবানি দেয়া হয়েছে। চামড়া ব্যবসার সাথে জড়িত ট্যানারি ব্যবসায়ী, কাঁচা চামড়ার ব্যবসায়ীসহ সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলো কোরবানির আগে পশুর চামড়া কেনার ক্ষেত্রে প্রতি বর্গফুটে দর নির্ধারণ করে দিলেও অতিরিক্ত মূল্যে চামড়া কিনে চামড়ার বাজারে মৌসুমী ব্যবসায়ী নামের মধ্যস্বত্বভোগীরা অস্থিরতার সৃষ্টি করেছে বলে অভিযোগ করেছেন কাঁচা চামড়া ব্যবসায়ী সমিতি। বেশি দরে চামড়া কেনার ফলে এবছর লাভক্ষতি কেমন হবে তা আগামী এক সপ্তাহের আগে বলা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন সমিতি নেতৃবৃন্দ। তাদের মতে, চামড়া কেনা-বেচার ক্ষেত্রে মৌসুমী বা মধ্যস্বত্বভোগী ব্যবসায়ীরা এবার বেপরোয়া লেনদেন করে নিজেরা লাভবান হয়েছে। এখন এই চামড়া কিনে ট্যানারী মালিকদের সাথে বড় ধরনের দর কষাকষির দায় কাঁচা চামড়া ব্যবসায়ীদের ঘাড়ে পড়েছে। তারা তাদের লাভক্ষতির স্বার্থে সেটা করবেন বলে জানান চট্টগ্রাম চামড়া ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক খোরশেদ আলম। তিনি আরো জানান, গরুর চামড়ার ক্ষেত্রে প্রতি বর্গফুট মূল্য ৮০ টাকা পূর্বনির্ধারিত থাকলেও মৌসুমী ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে তা কিনেছে ১১০ টাকা দরে। ছাগলের চামড়ার পূর্বনির্ধারিত দর প্রতি বর্গফুট ৫০ টাকা থাকলেও তারা কিনেছে ৬০ টাকা দরে। মহিষের চামড়ার পূর্বনির্ধারিত মূল্য প্রতি বর্গফুট ৩০ টাকা থাকলেও তারা কিনেছে ৪০/৪৫ টাকা দরে। ফলে কাঁচা চামড়া ব্যবসায়ীদের যথাযথভাবে চামড়া সংরক্ষণের জন্য উচ্চমূল্যেই মধ্যস্বত্বভোগীদের কাছ থেকে চামড়া কিনে নিতে হয়েছে। তিনি বলেন, ৩০ বর্গফুটের একটি গরুর চামড়া যেখানে ২২শ’ টাকায় কেনার কথা ছিলো সেখানে মৌসুমী ব্যবসায়ী বা মধ্যস্বত্বভোগীরা ২০ বর্গফুটের গরুর চামড়া ২২শ’ টাকায় কিনেছে। একারণে কাঁচা চামড়া ব্যবসায়ীরা এবার ক্ষতির আশংকার মধ্যে রয়েছেন। তবে এবছর টার্গেটের চেয়ে কাঁচা চামড়া সংগ্রহের পরিমাণ ৫০ হাজার বেশি হওয়ায় তারা ক্ষতি পুষিয়ে নিতে ট্যানারী মালিকদের সাথে দর কষাকষি করতে পারবেন বলে জানান সমিতি নেতা খোরশেদ আলম। কাঁচা চামড়া ব্যবসায়ী সূত্র জানায়, এবার তারা সাড়ে ৩ লাখ গরুর চামড়া, ৭০ হাজার ছাগলের চামড়া এবং ৫ হাজার মহিষের চামড়া মৌসুমী ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে কিনে নিয়েছেন।