ইভটিজিংয়ের প্রতিবাদ করায় এক বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে ঈদের পরদিন খুলনার রূপসা ব্রিজ এলাকায়। নিহতের নাম রাজু ব্যাপারি (২৩)। সে ঢাকার একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিবিএ ক্লাসের ছাত্র।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বৃহস্পতিবার বিকালে রাজু রূপসা ব্রীজে ঘুরতে যান। সেখানে কয়েকজন যুবক বেড়াতে আসা তরুণীদের উত্ত্যক্ত করছিল। রাজু এর বিরোধিতা করলে যুবকরা তাকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করে। ঈদের ছুটিতে রাজু খুলনায় নানা বাড়ি বেড়াতে এসেছিলেন। এছাড়া একই দিন খুলনা সিটি কর্পোরেশনের ৭ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর সুলতান মাহমুদ পিন্টুকে সন্ত্রাসীরা গুলি করলে তিনি গুরুতর আহত হন। এদিকে সর্বশেষ এই হত্যাকাণ্ডটিসহ গত প্রায় দেড় মাসে দক্ষিণাঞ্চলের কয়েকটি জেলায় অন্তত ১৯ জন খুন হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে রাজনৈতিক নেতা-কর্মী, জনপ্রতিনিধি, ছাত্রসহ নানা শ্রেণীর মানুষ রয়েছেন। জাতীয় নির্বাচনের আগে এমন অবস্থা দক্ষিণ জনপদের বিভিন্ন শ্রেণি ও পেশার মানুষের মাঝে উদ্বেগ-উত্কণ্ঠা বাড়িয়ে তুলেছে। রাজনৈতিক বিরোধ, এলাকায় আধিপত্য বিস্তার ও দখলদারিত্বই এসব খুন-সংঘাতের মূল কারণ বলে জানা গেছে।
পুলিশ সূত্র জানায়, গত তিন সপ্তাহে একমাত্র যশোরের চৌগাছা উপজেলা এলাকায়ই ৩ রাজনৈতিক নেতা-কর্মী নিহত হয়েছেন। এদের মধ্যে রয়েছেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের ২ নেতা ও যুবদলের এক কর্মী। এছাড়া বিগত দেড় মাসের মধ্যে সাতক্ষীরায় ৯টি খুনের ঘটনা ঘটে। নিহতদের মধ্যে ৪ জন রাজনীতিক, একজন ঘের কর্মচারী, দু’জন মহিলা ও ২ জন কৃষক। এ সময় হামলা চালানো হয়েছে স্থানীয় পুলিশ ক্যাম্পেও। গত ৪ সেপ্টেম্বর যশোরের চৌগাছা উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি আমিরুল ইসলামকে পিটিয়ে হত্যা করে জামায়াত-বিএনপি সমর্থকরা। এ ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই ২৩ সেপ্টেম্বর রাতে জগন্নাথপুর গ্রামের যুবদলের সমর্থক আতিয়ার রহমানকে কুপিয়ে হত্যা করে সন্ত্রাসীরা। এই হত্যাকাণ্ডের তিন দিন পর ২৬ সেপ্টেম্বর দুপুরে মশিউরনগর মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে প্রকাশ্য দিবালোকে সন্ত্রাসীরা জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি সিংহঝুলি ইউপি চেয়ারম্যানকে গুলি করে হত্যা করে। এছাড়া গত ১০ অক্টোবর অভয়নগর উপজেলার শীর্ষ চরমপন্থি জাহাঙ্গীর আলম মল্লিক (৩২) খুন হন। গত ৮ অক্টোবর যশোরে পূর্ব বিরোধের জের ধরে এক আওয়ামী লীগ নেতা ও এক পরিবহন শ্রমিককে গুলি করে দুর্বৃত্তরা।
সাতক্ষীরা প্রতিনিধি মনিরুল ইসলাম মিনি জানান, গত ১৩ সেপ্টেম্বর হরতাল চলাকালে জেলার দেবহাটায় উপজেলা শ্রমিক লীগের সহ-সভাপতি দক্ষিণ পারুলিয়ার আলমগীর হোসেনকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে গুরুতর জখম করে হরতাল সমর্থকরা। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজে নেয়ার দুইদিন পর সেখানে তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় নিহতের পরিবার একটি হত্যা মামলা করেছে। গত ২৬ আগস্ট রাত ১০ টার দিকে সদর উপজেলার হরিশপুর নামক স্থানে শিবপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রবিউল ইসলামকে কুপিয়ে হত্যা করে সন্ত্রাসীরা ।
গত ৬ সেপ্টেম্বর বেলা ১১ টার সময় সাতক্ষীরা শহরের শহীদ আব্দুর রাজ্জাক পার্কস্থ শিল্পকলা একাডেমিতে জেলা বিএনপির কর্মী সম্মেলনে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের জের ধরে পিটিয়ে ও কুপিয়ে জেলা মত্স্যজীবী দলের সাধারণ সম্পাদক আমান উল্লাহ আমানকে হত্যা করা হয়।
