মহান সৃষ্টিকর্তা শিক্ষকের জীবনকে আলাদা বৈচিত্র্য এবং সুখময় মাধুর্য দিয়ে সন্মানিত করেছেন। যেখানে সুখ আছে, শান্তি আছে এবং আছে আনন্দঘন উচ্ছ্বাসভরা প্রগতিশীলতা। শিক্ষকতা নামক মহান পেশায় পদার্পণকারী ব্যক্তি অবশ্যই সামাজিক ছাঁচে গড়া সুন্দর নৈতিকতা পূর্ণ আদর্শের প্রতীক হবেন। নীতিহীন মানুষ কোনো কালেই আদর্শ শিক্ষক হতে পারেন না। শিক্ষকের সংজ্ঞা দিতে গিয়ে আমাদের পরম শ্রদ্ধাভাজন শিক্ষক ও শিক্ষাবিদ ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ বলেছেন, “শিক্ষক হতে চাও ভাল কথা, মনে রেখো তুমি সারা জীবনের জন্য ছাত্র হলে”। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বলেছেন, “গায়ের জোরে মোড়ল হওয়া যায়, সন্ত্রাসীও বটে, কিন্তু গুরু হওয়া যায় না।” রুশো বলেছেন, সু-অভ্যাস গঠনের নাম শিক্ষা, আর শিক্ষক শিক্ষার্থীর সু-অভ্যাস গঠনের নির্দেশক। জন ডিউই বলেন, সুন্দর বিশ্বস্ত এবং পবিত্র জীবনের উপলব্ধি হলো শিক্ষা, আর শিক্ষক হবেন এ উপলব্ধির মৌলিক কারিগর। পরিশেষে বলা যায়, শিক্ষক হলেন সমাজের এমন একজন আদর্শবান ব্যক্তি যাঁর কথা ও কাজ এক হবে। যাকে অনুসরণ এবং অনুকরণ করে সকলে শিক্ষা লাভ করবে।
একজন ভালো শিক্ষক অবশ্যই ভালো পথপ্রদর্শক, পরিচালক এবং সহযোগিতাকারী। ইংরেজিতে একটি প্রবাদ আছে— A good teacher is he who has good character and teaches better than other অর্থাত্ একজন ভালো শিক্ষক হলেন তিনি, যিনি ভালো নৈতিক চরিত্রের অধিকারী এবং তিনি অন্যদের তুলনায় উত্তম পাঠ দান করেন। কথায় আছে, শাসন করা তাঁরই সাজে সোহাগ করেন যিনি। শিক্ষকগণ শ্রেণিকক্ষের ভেতরে এবং বাইরে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ এবং সমালোচনার ঊর্ধ্বে থেকে শিক্ষাদান করবেন এবং এটাই যথার্থ।
আমরা ছোটবেলায় পড়েছিলাম— A teacher is a poor অর্থাত্ একজন শিক্ষক গরিব। যিনি জাতিকে শিক্ষা দেবেন এবং শিক্ষার আলো দেখাবেন তিনি যদি গরিব হন তাহলে দেশের শিক্ষাব্যবস্থার কী হবে? বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থা উন্নত করতে হলে শিক্ষকের সেই দরিদ্রতা দূর করতে হবে। যুগোপযোগী সর্বজনীন একটি শিক্ষানীতি তৈরি করে সকল শিক্ষাব্যবস্থার মধ্যে সমতা আনতে হবে। শিক্ষকদের সর্বোচ্চ সামাজিক এবং রাষ্ট্রীয় মর্যাদা দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। শিক্ষকদের জন্য আলাদা বেতন কাঠামো নির্ধারণ করে শিক্ষাদানে তাদের আরো বেশি উত্সাহিত এবং অনুপ্রাণিত করতে হবে। মেধাবী ছেলেমেয়েরা যেন শিক্ষকতা পেশায় আসে এ বিষয়ে আরো যত্নশীল হতে হবে। পরিশেষে, আমি একথা বলতে চাই—আমরা আর দরিদ্রতার খেতাব নিয়ে শিক্ষকতা করতে চাই না, সমাজে অন্য একজন ব্যক্তি যেভাবে উন্নত জীবন যাপন করে সেভাবে বাঁচতে চাই। আমাদের ভুলে গেলে চলবে না যে, শিক্ষকদের আধুনিক যুগের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে জীবন যাপন করতে হয়। তাই তাদের ন্যায়সঙ্গত দাবিগুলো সরকার বিবেচনা করে বাংলাদেশের শিক্ষক এবং শিক্ষাকে বিশ্বমানে উন্নীত করবে বলে আশা করি।
কুমিল্লা
