ঋণসীমা বিল পাস, সাময়িক স্বস্তি পেল যুক্তরাষ্ট্র সরকার

আপডেট : ১৮ অক্টোবর ২০১৩, ২৩:০২
নানা নাটকীয়তা আর রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতির অবসান ঘটিয়ে খাদের কিনার থেকে আপাতত কিছুটা নিরাপদ দূরত্বে সরে আসতে সক্ষম হয়েছে বিশ্বের সবচে’ বড় অর্থনীতির দেশ যুক্তরাষ্ট্র। স্বাস্থ্যবিল নিয়ে সৃষ্ট অচলাবস্থার জেরে তৈরি হওয়া ‘শাটডাউন’ পরিস্থিতি থেকে সাময়িক রেহাই পেয়েছেন বারাক ওবামা। দফায় দফায় বৈঠক আর দর কষাকষির পর একেবারে শেষ মুহূর্তে এসে বন্ধ থাকা সরকারি কার্যক্রম চালু এবং সরকারের ঋণ নেয়ার সুযোগ বাড়ানোর প্রস্তাব পাস করেছে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস। এর ফলে বেকার হয়ে পড়া লাখ লাখ মার্কিনীর বসে কর্মহীনতার অবসান ঘটে। সব আনুষ্ঠানিকতা শেষ হবার পর তারা কাজে ফিরে যায়। ন্যাশনাল পার্ক, যাদুঘর, নাসা এবং অপরাপর প্রতিষ্ঠানে ফিরে আসে কর্মচঞ্চল পরিবেশ। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ১৬ দিনের এই অচলাবস্থার জন্য দায়ী করেছেন বিরোধী রিপাবলিকানদের। তিনি বলেছেন, বিরোধী দলের একগুয়েমির কারণে গত ১৬ দিনে যুক্তরাষ্ট্রের মানুষ যে ক্ষতি প্রত্যক্ষ করেছে আর কোনোকিছু তেমন ক্ষতি করতে পারেনি। এই কয়েকদিনে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষতি হয়েছে প্রায় ২ হাজার কোটি ডলার। খবর এএফপি, রয়টার্স ও বিবিসির। এর আগে ক্ষমতাসীন ডেমোক্র্যাটদের নিয়ন্ত্রিত কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ সিনেটে গত বুধবার এই ‘সমঝোতার বিল’ পাস হয় ৮১-১৮ ভোটে। বিরোধী দল রিপাবলিকানদের নিয়ন্ত্রণে থাকা প্রতিনিধি পরিষদ আগের অবস্থান থেকে পিছু হটে। তারা এবার বিলটিতে আর বাধা দেয়নি। প্রতিনিধি পরিষদ ২৮৫-১৪৪ ভোটে বিলটি অনুমোদন করে। সবশেষে প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ওই বিলে সই করেন। সাময়িক স্বস্তি ফিরে আসে দেশটিতে। আর এই সমঝোতা সম্ভব হয়েছে ১৭ অক্টোবরের আগেই। বুধবারের মধ্যে বিপুল অংকের অর্থ ধার করার ছাড়পত্র না পেলে ওবামার সরকার আগের ঋণ শোধ করতে না পেরে খেলাপী হয়ে যেত। যার প্রভাবে বিশ্ব আবারো ২০০৮ সালের মতো মহামন্দার হুমকিতে পড়ে যেত। তেমনটি ঘটলে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে তা হতো প্রথম। বিশ্লেষকরা বলছেন, বুধবারের সমঝোতার মাধ্যমে সমস্যার স্থায়ী সমাধান আসেনি। কারণ সরকারের ব্যয় ও ঘাটতি নিয়ে মূল আলোচনায় রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাটরা এখনো ঐকমত্যে পৌঁছাতে পারেনি। দেশটির আইনপ্রণেতারা আপাতত বিল পাস করে সঙ্কটকে কয়েক মাস পিছিয়ে দিয়েছেন মাত্র। এর মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র সরকার ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত খরচ চালানোর মতো তহবিল পাবে। আর ৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আগের তুলনায় বেশি হারে ঋণ নিতে পারবে। প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ওই সময়ের মধ্যে বিরোধী দলকে নিয়ন্ত্রণে আনতে না পারলে আগামী বছরের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রকে আরেকবার ‘শাটডাউন’ দেখতে হতে পারে। তবে বিশ্ববাসীকে ‘আপাতত’ উত্কণ্ঠা থেকে মুক্তি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের দুই প্রধান রাজনৈতিক দল। বুধবারের মধ্যে ১৬ দশমিক ৭ লাখ কোটি ডলারের বেশি ধার করার ছাড়পত্র না পেলে ওবামার সরকার আগের ঋণ শোধ করতে পারতো না। যুক্তরাষ্ট্রে অর্থবছর শুরু হয় ১ অক্টোবর থেকে। কিন্তু ‘ওবামাকেয়ার’ হিসেবে পরিচিত পাওয়া স্বাস্থ্য বিল নিয়ে দুই দলের মতানৈক্যে বাজেট আটকে যাওয়ায় মাসের শুরু থেকেই ভয়াবহ অর্থাভাবে পড়ে প্রশাসন। ফলে বন্ধ হয়ে যায় দেশটির বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম। অগণিত সরকারি সেবা বন্ধ হয়ে যায়। স্ট্যাচু অব লিবার্টি দেখতে যাওয়ার ফেরি বন্ধ হয়ে যায়। ১৪০টি ন্যাশনাল পার্কের গেট বন্ধ হয়ে যায়। নাসাসহ বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়। কর্মহীন হয়ে পড়েন প্রায় ৭ লাখ মানুষ। কিন্তু ঋণসীমা বিলটি পাস হবার পর বর্তমানে ১৬ দশমিক ৭ ট্রিলিয়ন ডলার পর্যন্ত ধার করতে পারবে আমেরিকা সরকার। যুক্তরাষ্ট্র সরকার ঋণখেলাপি হলে বিভিন্ন দেশে মার্কিন বন্ডের দাম পড়ে যেত। ডলারের দর ধরে রাখা যেত না। যুক্তরাষ্ট্রের ক্রেডিট রেটিংয়ে অবনমন ঘটতো। তবে এই সমঝোতার মাধ্যমে সমস্যার স্থায়ী সমাধান আসেনি। কারণ, বহুল আলোচিত স্বাস্থ্য খাতে সরকারের ব্যয় ও ঘাটতি নিয়ে মূল আলোচনায় রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাটরা এখনো ঐকমত্যে পৌঁছাতে পারেনি। নতুন করে সংকটে পড়ার বিষয়টি মাথায় রেখেই বিলে সই করে আইনপ্রণেতাদের সতর্ক করেন ওবামা। তিনি বলেছেন, এই টানাপড়েনে যুক্তরাষ্ট্রের মানুষের যে আস্থা তারা হারিয়েছেন, তা অবশ্যই পুনরুদ্ধার করতে হবে। এভাবে সঙ্কটের আবর্তে আটকে থাকার অভ্যাস ওয়াশিংটনকে ছাড়তে হবে।