ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সংঘর্ষে নিহত ২

আপডেট : ১৮ অক্টোবর ২০১৩, ২৩:০২
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পৃথক সংঘর্ষে দুইজন নিহত এবং পুলিশ ও নারীসহ দেড় শতাধিক আহত হয়েছে। সংঘর্ষ চলাকালে ৩০টি বাড়িঘর ও একটি মার্কেটের ৭/৮টি দোকান ভাংচুর করা হয়। পুলিশ সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণে ৬০ রাউন্ড টিয়ার সেল ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে। গতকাল শুক্রবার জেলা সদরে ও ঈদের আগের দিন রাতে নবীনগরে এসব সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, জেলার সদর উপজেলার সাদেকপুর গ্রামে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে স্থানীয় ইকবাল চেয়ারম্যান ও নাসিরের পক্ষের লোকজনের মধ্যে গতকাল সকালে সংঘর্ষে অন্তত ৪০ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে ২ জন হাসপাতালে আনার পথে মারা যান। এরা হলেন শামসুল ইসলাম (৪৫) ও ইসমাইল (৩৮)। অন্যদের সদর হাসপাতালে চিকিত্সা দেয়া হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা খলিলুর রহমান জানান, দীর্ঘদিন ধরে গ্রামের একই গোষ্ঠীর ওই দুইব্যক্তির মধ্যে দ্বন্দ্ব চলছিল। এর জের ধরে সকাল ১০টার দিকে দুই পক্ষের ৪/৫শ’ লোক দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। খবর পেয়ে সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ১০ রাউন্ড কাঁদানে গ্যাস ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। রাতে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত থেমে থেমে সংঘর্ষ চলছিল। এদিকে ঈদের দিন বিকেলে সদর উপজেলার বেহাইর গ্রামের কালাগাজীর বাড়ির একটি ছেলেকে মারধর করে এলাকার নাগরবাড়ির ছেলেরা। এর জের ধরে শুক্রবার সকাল ৬টার দিকে নাগরবাড়ির পক্ষে আম্বরবাড়ি, রহমতপাড়া, আদলেরবাড়িসহ ৬টি গোষ্ঠীর কয়েকশ’ লোক দেশীয় অস্ত্র নিয়ে কালাগাজী গোষ্ঠীর লোকজনের উপর হামলা চালায়। সংঘর্ষ চলাকালে আলফাজের মার্কেটের ৬টি দোকান এবং মনোর বাড়ির ২টি দোকানসহ কালাগাজীর গোষ্ঠীর ৩০টি বাড়িঘর ভাংচুর ও বেশ কয়েকটি গরু ও মালামাল লুট করে নিয়ে যায় প্রতিপক্ষের লোকজন। ৪ ঘণ্টাব্যাপী চলা সংঘর্ষে নারীসহ কমপক্ষে ৪০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। খবর পেয়ে সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ব্যাপক লাঠিচার্জ করেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হলে অর্ধশত রাউন্ড টিয়ার সেল ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে। পুলিশ এ সময় বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে ৬ দাঙ্গাবাজকে আটক করে। জেলা পুলিশ সুপার মনিরুজ্জামান পিপিএম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়া বৃহস্পতিবার দুপুরে শহরের বিজয়নগরে কবর খোঁড়াকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের হামলায় ১০জন আহত হয়েছেন। জানা গেছে, বুধবার রাতে উপজেলার পত্তন ইউনিয়নের শ্রীপুর গ্রামের মতি মিয়া (৭০) মারা যান। পরদিন সকালে কবর খুঁড়তে গেলে একই গোষ্ঠীর জমসিদ মিয়া ও তার লোকজন বাধা প্রদান করে। এ সময় কবর খোঁড়ার সরঞ্জাম দিয়ে হামলা চালিয়ে ১০ জনকে আহত করা হয়। আহতদের সরাইল ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে চিকিত্সা দেয়া হয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ৩জনকে গ্রেফতার করেছে। অন্যদিকে ঈদের আগের দিন মঙ্গলবার রাতে শহরের দাসপাড়ায় প্রতিমা বিসর্জন শেষে ২০/২৫জন সন্ত্রাসী কমপক্ষে ১০জনকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। আহতদের ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় আহত সজল বাদি হয়ে সদর থানায় মামলা করেছেন। নবীনগর সংবাদদাতা জানান, মঙ্গলবার রাতে উপজেলার বড়িকান্দি ইউনিয়নের বড়িকান্দি ও থোল্লাকান্দি গ্রামবাসীর মধ্যে ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে ১৯ রাউন্ড রাবার বুলেট ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। সংঘর্ষে ১০-১২টি ককটেল বিস্ফোরিত হয় এবং পুলিশসহ প্রায় অর্ধশত লোক আহত হয়। ১৪ জনকে গুরুতর অবস্থায় স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সংঘর্ষে আহত পুলিশ সদস্য হাবিলদার শাহাদাত হোসেন (৫২), কনস্টেবল মনির হোসেনসহ (৪৬) অন্তত ১৫ জনকে নবীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়েছে। স্থানীয় সলিমগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মাহবুব আলম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। মামলার প্রস্তুতি চলছে।