উচ্চ প্রবৃদ্ধির ধারায় চীন

আপডেট : ১৮ অক্টোবর ২০১৩, ২৩:০৩
বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্ অর্থনীতির দেশ চীনের প্রবৃদ্ধি সাড়ে ৭ শতাংশ ছাড়িয়েছে। গেলো প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৭ দশমিক ৮ শতাংশ। এর আগের প্রান্তিকে প্রবৃদ্ধি হয়েছিলো সাড়ে ৭ শতাংশ। চীনা সরকারের তথ্যানুযায়ী শিল্প উত্পাদন বৃদ্ধি পাওয়া, অভ্যন্তরীণ বাজারে খুচরা বিক্রয় বৃদ্ধিসহ স্থায়ী সম্পদে বিনিয়োগ বৃদ্ধির ফলে এ উচ্চ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। চলতি বছর চীন তাদের প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা সাড়ে ৭ শতাংশ নির্ধারণ করেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গত প্রান্তিকে উচ্চ প্রবৃদ্ধির তথ্য লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের নির্দেশনাই বহন করে। বিগত কয়েক দশক ধরে চীনের রপ্তানি এবং শিল্প উত্পাদন বৃদ্ধির সাথে সাথে অবকাঠামোখাতে সরকারের বড় বিনিয়োগ এ প্রবৃদ্ধি অর্জনে সহায়তা করেছে। সামপ্রতিক মন্দার ফলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের বাজারে চাহিদা কমে যাওয়ায় তা চীনের রপ্তানিকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। তবে অভ্যন্তরীণ চাহিদা বৃদ্ধি করে চীন তার ক্ষতি পুষিয়ে নিতে শুরু করে। এ জন্য বছরের শুরুতেই কিছু পদক্ষেপ নেয় চীনা সরকার। আগস্টের শুরুতেই চীনা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী যারা মাসিক ২০ হাজার ইয়েনের (৩২৫২ ডলার) নিচে বিক্রয় করে তাদের মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) প্রত্যাহার করা হয়। সে সময় চীনা মন্ত্রিসভা উল্লেখ করেছিলো, এর ফলে ৬০ লাখ ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান উপকৃত হবে। যার ফলে নিয়োগ বাড়বে ও লাখ লাখ লোকের প্রকৃত আয়ও বাড়বে। শুধু তাই নয়, এ সিদ্ধান্তের ফলে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প উপকৃত হয়েছে। অন্যদিকে চীনের রেলওয়ে নির্মাণখাত বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়ার ঘোষণাও এ ক্ষেত্রে কার্যকর প্রভাব ফেলেছে। অভ্যন্তরীণ খাতের উন্নয়নে এ ধরনের পদক্ষেপের ফলে চীনে উচ্চ প্রবৃদ্ধি হচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।