প্রধানমন্ত্রীর প্রস্তাব বাস্তবায়নের জন্যও আলোচনা দরকার

আপডেট : ১৮ অক্টোবর ২০১৩, ২৩:০৯
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক আবুল কাশেম ফজলুল হক বলেছেন, জাতির উদ্দেশে দেয়া প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে একটিই নতুন কথা, সেটি হল-নির্বাচনকালীন সরকারের মন্ত্রিসভায় বিরোধী দল থেকেও সদস্য নেয়া যেতে পারে। বিরোধী দলের যারা সংসদ সদস্য রয়েছেন, তাদের মধ্য থেকে মন্ত্রী মনোনয়ন করবে বিরোধী দল। প্রধানমন্ত্রীর এই প্রস্তাব বাস্তবায়ন করতে হলেও সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে আলোচনা প্রয়োজন। কিন্তু এই আলোচনার জন্য সময় বেশি নেই। যদি সংসদ বহাল রেখেই নির্বাচন করতে হয় তাহলে এই সময়ের মধ্যেই এই আলোচনা সারতে হবে। গতকাল শুক্রবার রাতে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ শোনার পর ইত্তেফাকের কাছে এই অভিমত তুলে ধরেন তিনি। অধ্যাপক আবুল কাশেম বলেন, প্রধানমন্ত্রী যে বিরোধী দল থেকেও মন্ত্রিসভায় সদস্য নেয়ার কথা বলেছেন, সেখানে বিরোধী দল বলতে তিনি কী শুধুই বিএনপিকে বুঝিয়েছেন কিনা তা স্পষ্ট নয়। কারণ বর্তমান সংসদে বিএনপি ছাড়াও আরও কয়েকটি দলও বিরোধী দলে রয়েছে। এছাড়া নির্বাচনকালীন সরকারের মন্ত্রিসভায় বিরোধী দল থেকে কখন, কীভাবে ও কতজন সদস্য নেয়া হবে—প্রধানমন্ত্রী সেটিও স্পষ্ট করে বলেননি। তবে প্রধানমন্ত্রী যে বিরোধী দল থেকেও মন্ত্রী নেয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন, তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এর মধ্য দিয়ে আলোচনার একটি সূত্রপাত হলো। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই শিক্ষকের মতে, প্রধানমন্ত্রীর প্রস্তাব বাস্তবায়ন করতে হলে সরকারকেই উদ্যোগী ভূমিকা নিতে হবে। এমনকি সরকারকে নমনীয়ও হতে হবে। নির্বাচনকালীন সরকারের মন্ত্রিসভায় যদি কোনো একটি পক্ষের সদস্য সংখ্যা বেশি থাকে এবং তারা একতরফা কিছু করতে চায় তাহলে মূল সমস্যার সমাধান হবে না। বর্তমান সংসদে আওয়ামী লীগ সংখ্যাগরিষ্ঠ দল হলেও বিরোধী দলকে আসন সংখ্যা দিয়ে বিচার করা ঠিক হবে না। কারণ যে অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে তা সমাধান করতে হলে সমঝোতা অপরিহার্য। অধ্যাপক আবুল কাশেম ফজলুল হকের পর্যালোচনা অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী ভাষণে বিগত বিএনপি সরকারের এবং বর্তমান বিরোধী দলের সমালোচনা করেছেন। নির্বাচনকে সামনে রেখে এখন এভাবে সমালোচনা না করলেই ভালো হতো। কেননা এর ফলে বিরাজমান বিরুদ্ধভাব আরও জটিল হতে পারে। তাছাড়া বিগত বিএনপি সরকারের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী যে অভিযোগগুলো করলেন, এসব অভিযোগ বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধেও করা যায়। কারণ তখনকার ছাত্রদল, যুবদলসহ বিএনপির লোকজন যেমন জনজীবন অতিষ্ঠ করে তুলেছিল, বর্তমানেও ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও সরকারি দলের লোকজন জনজীবনকে দুর্বিসহ করে তুলেছে। কাজেই প্রধানমন্ত্রী তার ভাষণে এই দোষারোপ না করলেই ভালো করতেন। তিনি আরও বলেন, গত ৮/৯ মাস ধরে দেখছি প্রধানমন্ত্রী প্রায় প্রতিটি বক্তব্যে তার সরকারের উন্নয়নচিত্র তুলে ধরছেন। জাতির উদ্দেশে রাখা ভাষণেও সেটি দেখলাম। আইয়ুব খানও যখন ক্ষমতায় ছিলেন তখন বেশি বেশি করে তার উন্নয়নের বর্ণনা দিতেন। কিন্তু সেটি যদি অতিমাত্রায় হয়ে যায় তাহলে তার যে বিরূপ প্রতিক্রিয়াও হতে পারে, সেটি আমরা আইয়ুবের সময় দেখেছি। সেজন্য প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ শোনার সময় আমার সে কথাটি মনে পড়ছিল।