নাজমুল হাসান
ধরুন এক অপরিচিত লেকের গা ঘেঁষে আপনি হেঁটে চলেছেন প্রকৃতির স্নিগ্ধ মোহন মায়ায়, দুপুরের ঝলমলে রোদ্দুরে ছায়াঘেরা পাখির কলতানের অভয়ারণ্যে। কী অদ্ভুত নীরব সুনসান, আপনি ছাড়া ওখানে আর কেউ নেই, হঠাত্ কারো পায়ের শব্দ। মনে হচ্ছে কেউ একজন আপনার পেছন পেছন হাঁটছে, চমকে পেছনে তাকালেন, কিন্তু সেখানে কেউ নেই, বাতাসে কয়েকটি পাতা উড়ে গেল। একটা খটকা নিয়ে আপনি একটু সামনে এগোতেই দেখলেন গাছের ডালে বীভত্স দুটি পুতুল গলায় দড়ি দিয়ে ঝুলছে, তাদের কারো চোখ নেই, চোখ উপড়ে ফেলা হয়েছে, গায়ের জামায় রক্তের ছিটে। আপনি আরো ভয় পেয়ে অন্য রাস্তায় তাড়াহুড়ো করে ওখান থেকে চলে যেতে চাইছেন, রাস্তাগুলো কেমন জানি অপরিচিত মনে হচ্ছে, দুপুরের তপ্ত রোদের মাঝেও মনের ভেতরে ঘোর অন্ধকার। হঠাত্ বুঝতে পারলেন একটু দূরে আড়ালে গাছের পেছন থেকে কেউ আপনাকে উঁকি মেরে দেখছে। আপনি কোনোকিছু না বুঝে দৌড়াতে লাগলেন, আপনার এই ভয় দেখে আপনার চারপাশে শুধু অদৃশ্য বাচ্চাদের হাসির শব্দ। অবাক হচ্ছেন! সত্যিই কী এমন কোনো জায়গা থাকতে পারে? মনে মনে হয়তো নিজেকে প্রশ্ন করছেন!
তবে আজ আপনাদের সাথে পরিচয় করিয়ে দেবো আইসল্যান্ডের এক বিস্ময়কর পুতুল বনের সাথে। যেখানে প্রতিটি গাছের ডালের সাথে ভাঙা দরজায় ঝুলে আছে ভয়ানক বীভত্স সব পুতুল। মেক্সিকো সিটি থেকে দু-ঘণ্টার দূরত্বে একটি লেকের সাথেই অবস্থিত ‘চাইনাম্পা’ শহর থেকে নৌকা করে সেখানে পৌঁছাতে হয়। এই জায়গার মালিকের নাম জুলিয়ান শানতানা। প্রায় ৫০ বছর আগে এই লেক পাড় দিয়ে হাঁটার সময় তিনি একটি মেয়ের লাশ ভেসে যেতে দেখেন, লাশ টিকে পানি থেকে তোলার সময় তিনি দেখতে পান একটি পুতুল ও ভেসে আসছে। ওইদিন রাতে শানতানা ঘুমাতে গেলে তিনি স্বপ্নে দেখে একজন নারী তাঁর কানের কাছে এসে ফিসফিস করে কিছু একটা বলছে এবং তিনি দেখেন সেই মেয়েটি গাছের সাথে একটি পুতুলসহ গলায় দড়ি দিয়ে ঝুলে আছে। এ দৃশ্য তিনি পরপর অনেকদিন স্বপ্নে দেখেন। তারপর শানতানা বিশ্বাস করতে শুরু করলেন যে, এই মেয়েটির আত্মাটি অপরিতৃপ্ত, তখন সে আত্মাটিকে অশুভ ছায়া থেকে মুক্ত করতে নানা ধরনের ভয়ানক পুতুল সেই লেকের পাড়ে গাছের সাথে ঝুলিয়ে রাখতে শুরু করেন। তিনি মনে করতেন, এই ভয়ানক আকৃতির পুতুল খারাপ শক্তিকে দূর করতে সাহায্য করবে। তবুও তিনি ওই মহিলাটিকে স্বপ্নে দেখা থেকে মুক্তি পাননি।
হঠাত্ ২০০১ সালে একইভাবে একদিন শানতানা এই লেকের পানিতে ডুবে মারা যান। তাঁর এক চাচাতো ভাই ঠিক ওই মেয়েটির মতোই তাঁকে লেকের পানিতে ভাসতে দেখেন। কিভাবে তাঁর মৃত্যু হয়েছিল সেটা আজো জানা যায়নি। শানতানার পরিবারের সাথে কথা বলে জানা যায়, তারাও নাকি এখনো রাতে ঘুমানোর সময় ছোট একটা বাচ্চাকে বিভিন্ন জায়গায় পুতুল কোলে করে নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে। এই জায়গায় যাঁরা ঘুরতে যান তাঁরা জানান, প্রায় সময় এই জায়গাতে ফিসফিস শব্দ, বাচ্চাদের হাসি আর কান্নার শব্দ তাঁরা শুনতে পান। আর সন্ধ্যায় ফিরে আসার সময় বোঝা যায় গাছে ঝুলন্ত পুতুলগুলো ঘাড় বাঁকিয়ে আর চোখ দিয়ে তাঁদের দিকে তাকিয়ে আছে।
