ইতিহাস গড়ার লড়াইয়ের অপেক্ষা

আপডেট : ১৯ অক্টোবর ২০১৩, ২১:৩৭
কথায় কথায় বলা হয়—গোল বলের খেলা। সেই গোল বল, মানে ফুটবল বা ক্রিকেট বলকে আসলে কতো বিচিত্র সব উপায়ে খেলায় কাজে লাগানো যেতে পারে, তা একমাত্র অনুশীলনেই বোঝা সম্ভব। গতকাল যেমন তামিম ইকবাল, রুবেল হোসেন, নাসির হোসেনরা ফুটবল দিয়ে ব্যাডমিন্টনের নিয়মে লাথি মেরেই কী এক বিচিত্র খেলা আবিষ্কার করে ফেললেন! আর খেলাটা যেহেতু ব্যাডমিন্টনের নিয়মে, তাই কোটের মাঝামাঝি সীমানা ধরে একজন আম্পায়ারকে দাঁড়িয়েই যেতে হলো; নইলে পয়েন্টের হিসাব নিয়ে বড় গোলমাল হয়ে যাচ্ছিল। আম্পায়ার মহোদয়ের কাছে গিয়ে কথা বলতে চাইলে তিনি বিশাল একটা হাসি দিয়ে বললেন, ‘এখন তো আমি আম্পায়ারিংয়ের কাজে ব্যস্ত!’ হ্যাঁ গতকাল আম্পায়ারই বনে গেলেন সাকিব আল হাসান! সে অনুশীলন শেষ করে আম্পায়ার, রেফারি, কোচ যা খুশি হতে পারেন সাকিব; কিন্তু আগামীকাল থেকে কোমরে হাত দিয়ে এভাবে ‘ম্যাচ পরিচালনা’র সুযোগ আর তার মিলবে না। বরং মিরপুর স্টেডিয়ামের ‘লাকি গ্রাউন্ডে’ প্রিয় শিকার নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে আরো একবার কোমর থেকে হাত সরিয়ে সাকিবকে কাঁধেই নিতে হবে বাংলাদেশের সিরিজ জয়ের স্বপ্ন। অবশ্য সাকিব নিজেও আগের দিন বলে দিয়েছেন, গত কিছুদিন ধরে বাংলাদেশ আর শুধু সাকিব বা তামিম নির্ভর দল নয়। এখন এই দলে অন্তত পাঁচ-ছয় জন খেলোয়াড় আছেন, যারা কার্যতই ম্যাচ জিতিয়ে মাঠ ছাড়ার ক্ষমতা রাখেন। এই কথা নিশ্চিন্তে মেনে নেয়ার পরও আগামীকাল থেকে শুরু হতে যাওয়া টেস্টে সাকিবকে বড় ভরসা বলে না মেনে উপায় থাকবে না মিরপুর এবং নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে তার ইতিহাসটা দেখলে। এসব ইতিহাসকে আরেকবার ফিরিয়ে আনার নেশায় আগামীকাল থেকে মিরপুরে সিরিজ জয়ের স্বপ্নে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট খেলতে নামবে বাংলাদেশ; চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত প্রথম টেস্টে কয়েক দফা এগিয়ে গিয়ে ড্র নিয়ে ফিরেছে স্বাগতিকরা। মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামকে বাংলাদেশের ‘হোম অব ক্রিকেট’ বলেই পরিচিত করাতে চায় ক্রিকেট বোর্ড। যদিও এই মাঠে বাংলাদেশের দলীয়ভাবে টেস্টে অন্তত তেমন কোনো সাফল্য নেই। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষেই ২০০৮ সালের সেই বৃষ্টিবিঘ্নিত ড্র ছাড়া এখানকার বাকী আট ম্যাচেই হেরেছে বাংলাদেশ। সেই মিরপুরেই ১১ মাস পর আগামীকাল টেস্ট খেলতে নামতে হবে মুশফিকুর রহিমদের। ফলে দলীয় দৃষ্টিতে অন্তত এখানকার ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি চাইবেন না তারা। কিন্তু ব্যাপারটা যদি সাকিবের থেকে অনুপ্রেরণা নেয়া হয়, তাহলে আগামীকাল থেকে দলের সবাই চাইবেন মিরপুরের সাকিব এবং নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষের সাকিব হয়ে উঠতে! সাকিব আগের দিনই সাংবাদিকদের সঙ্গে কথোপকথনের সময়ে বলছিলেন, মিরপুরকে তিনি ‘পয়া মাঠ’ বলেই বিবেচনা করেন। তবে তিনি সমর্থকদের প্রত্যাশার ওপর একটু বাধও দিয়ে রেখেছেন ‘মিরপুরে আমি অনেক ভালো পারফর্ম করেছি। এজন্যই এই মাঠকে লাকি বলি। তার মানে আবার এই নয় যে, এই টেস্টে অনেক কিছু করে ফেলব। শূন্য করতে পারি, এক উইকেট নাও পেতে পারি; কিন্তু চেষ্টা করব দলে অবদান রাখার।’ সাকিব যে কেন এটাকে ‘লাকি’ মাঠ মনে করেন, সেটা একটু পরিসংখ্যানে চোখ বুলালেই বোঝা যাবে। এই মাঠে সাকিব এখন পর্যন্ত ৯টি টেস্ট খেলে ৪৭.২৯ গড়ে ৮০৪ রান করেছেন; যেখানে তার ক্যারিয়ার ব্যাটিং গড় হল ৩৬.৬৬! এই মাঠেই ক্যারিয়ার সেরা ১৪৪ রানের ইনিংস খেলেছেন, তিনবার সেঞ্চুরির কাছ থেকে ফিরেছেন; যার মধ্যে দুই বার ৯৬ রান! এই মাঠে ৩ বার ইনিংসে ৫ উইকেটসহ নিয়েছেন ২৮ উইকেট। একইরকম পরিসংখ্যানই সাক্ষ্য দেয়, নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষেও কতোটা বাড়তি অনুপ্রেরণা পান তিনি। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ৫টি টেস্টে সাকিব ৬১ গড়ে রান তুলেছেন এবং ক্যারিয়ার সেরা ৩৬ রানে ৭ উইকেটসহ নিয়েছেন ১৫ উইকেট। সাকিবের এসব পারফরম্যান্সের পাশাপাশি এই মিরপুরে বাংলাদেশ সর্বশেষ টেস্ট থেকেও ফল ছাড়া বাকীটুকু অনুপ্রেরণা হিসেবে নিতে পারে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে চার দিন ধরে জিততে থাকা ম্যাচ শেষ মুহূর্তে হাত ছাড়া হয়ে যায় বাংলাদেশের। ওই পঞ্চম দিনটা ছাড়া বাকীটা ফিরে এলেই বাংলাদেশ নিশ্চয়ই খুশি হবে।