স্পিন আর উইকেট ‘আতঙ্কে’ ফুলটনরা

আপডেট : ১৯ অক্টোবর ২০১৩, ২১:৩৭
বাংলাদেশের বিপক্ষে বাংলাদেশে খেলাটা যে আসলে স্পিনের বিপক্ষে ধীরগতির ও নিচু উইকেটে খেলার এক পরীক্ষা হবে, এটা নিউজিল্যান্ড দল আগে থেকেই জানতো। এই ফাদে পড়ে তারা ২০১০ সালে হোয়াইট ওয়াশ হয়ে ফিরেছে; তাই ব্যাপারটা না জানার কোনো কারণ নেই। চট্টগ্রামে সেই জানা ব্যাপারটা নতুন করে বুঝেন্ন নিউজিল্যান্ডের ব্যাটসম্যানরা। সোহাগ-সাকিব-রাজ্জাকদের আক্রমনে নুইয়ে পড়া নিউজিল্যান্ড দল মানসিকভাবে অন্তত প্রস্তুত যে, মিরপুরে এর চেয়েও ভয়ঙ্কর চেহারায় আবির্ভূত হবেন বাংলাদেশী স্পিনাররা। আর এটা মেনে নিয়েও তারা জয়ের পরিকল্পনা আটছেন বলেই দাবি করলেন চট্টগ্রাম টেস্টে জোড়া ফিফটি করা পিটার ফুলটন। ফুলটন অকপটে স্বীকার করলেন যে, চট্টগ্রাম টেস্টে বাংলাদেশী স্পিনাররা তাদের একদম নাচিয়ে ছেড়েছেন। সেই সঙ্গে মিরপুরের উইকেট আরও বেশি টার্নিং, আরও নিচু, আরও ধীরগতির হবে বলে তার শঙ্কা। তবে এতোকিছুর মধ্যেও তিনি বলছেন, জয়ের আশা নিয়েই মাঠে নামবেন তারা। তবে নিজেদেরই সতর্ক করে দেওয়ার মতো ভঙ্গিতে বললেন, বাংলাদেশও সেই লক্ষে মাঠে নামবে, ‘আমরা অবশ্যই জয়ের জন্য মাঠে নামবো। আমি নিশ্চিত বাংলাদেশও সে চেষ্টাতেই থাকবে। উইকেট যেমনই হোক, দুদলই চেষ্টা করবে রেজাল্ট বের করে আনতে।’ এই জয় বের করে আনাটা যেন তাদের জন্য বেশি চ্যালেঞ্জের হবে, সেটাও উইকেট দেখে অন্তত বুঝতে পারছেন ফুলটন। উইকেটে ঘাস বলে কিচ্ছু দেখতে পাচ্ছেন না। সেই সঙ্গে ইতিহাস ফুলটনকে শেখাচ্ছে, উইকেট অনেক বেশি টার্নি ও নিচু বাউন্সের হবে, ‘উইকেট খুব শুষ্ক মনে হচ্ছে, খুব ঘাস নেই। চট্টগ্রামের ম্যাচের মতোই হবে। তাই লো ও স্লো উইকেটের জন্যই অনুশীলন করছি। উইকেটে হয়তো একটু বেশিই টার্ন থাকবে চট্টগ্রামের চেয়ে।’ আর এমন উইকেটের সঙ্গে বাংলাদেশী স্পিনারদের স্বভাবসুলভ ত্রাস হয়ে ওঠাটা তাদের জন্য আতঙ্কের ব্যাপারই হয়েছে। ফুলটন স্বীকার করলেন, চট্টগ্রামেই যা ভেবেছিলেন, তার চেয়ে বেশি দৌরাত্ম দেখিয়েছেন বাংলাদেশী স্পিনাররা, ‘আমরা যতটা আশা করেছিলাম বাংলাদেশের স্পিনাররা তার চেয়েও ভালো করেছে। তারা আমাদের ব্যাটিংটা একদম চেপে ধরে রেখেছিল। বিশেষ করে শেষ দিনে আমরা যখন আমরা ইনিংস ঘোষণা করে দেওয়ার চেষ্টা করছিলাম, তখন ওরা ভয়ানকভাবে ঝাপিয়ে পড়েছিল।’ এই পরিস্থিতির মধ্যে ফুলটন আশার দিক দেখছেন তাদের টপ অর্ডারের ফর্মে থাকা। সেই সঙ্গে নিজেদের স্পিনাররা যে ভালো করার খুব কাছাকাছি আছেন, সেটাও বলছেন তিনি, ‘আমাদের স্পিনাররা (চট্টগ্রামে) ম্যাচ যত গড়িয়েছে ততই ভালো করেছে। তারা প্রথম টেস্ট থেকে শিখতে পারে। বোলিং ইউনিট হিসেবে আমরা যদি আমাদের যদি আরও বেশি সময় ধৈর্য্য ধরতে পারি, তবে আমরা উইকেট নিতে পারবো।’ এই উইকেট আর স্পিনারদের সঙ্গে উপমহাদেশের আরেকটা চিরায়ত চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হবে ফুলটনদের—এই শেষ বর্ষার গরম। ফুলটন সেই ভ্যাপসা গরমের চ্যালেঞ্জটাও ভুলছেন না। তবে বলছেন যে, একটু হলেও এ ক দিনের এই আবহাওয়ার সঙ্গে মানিয়ে নিয়েছেন, ‘আমি দেখেছি এই গরমের মধ্যে ব্যাট করা কতোটা কঠিন ছিল প্রথম ইনিংসে। আর সবারও একই অবস্থা। তবে আমরা মানিয়ে নিচ্ছি। এখন কিছুটা সহজ লাগছে।’