সাদিয়া সৌধ
এই জায়গার অনেক নাম আছে। তবে মেরাই থং নামেই সবচেয়ে বেশি মানুষ চেনে। এছাড়া ‘মারায়ংতং’, ‘মারাইংতং’, ‘মেরাইথং’সহ কত নাম! অনেকের মতে, এটি সাজেক ও নীলগিরির চেয়েও সুন্দর। পায়ের পাতায় মেঘের ছোঁয়া, চোখের পাতায় মেঘলা ধোঁয়া, আর ছাতা মাথায় ভেজা ঘাসে শোয়া—সবকিছু বারবার অপার্থিব সুখের জানান দেয়।
পাহাড়টি অবস্থিত বান্দরবানের আলিকদমে। এটির উচ্চতা প্রায় ১৬৪০ ফুট। পাহাড়ের চূড়ায় উঠেই যেটা সবার আগে চোখে পড়ে, তা হলো বিশাল একটি জাদি। জাদি মানে বৌদ্ধদের পূজা-অর্চনার জন্য বানানো বুদ্ধমূর্তি। এমনভাবে জাদিটি বানানো যেন সে দূর কোনো প্রান্তের দিকে তাকিয়ে প্রকৃতির রহস্য নিয়ে ভাবছে, আর স্মিত হাসি ফুটে উঠছে তার ঠোঁটে। জাদির চারদিকে খোলা ও ওপরের দিকে চালা।
ওপরের অংশটুকু সমতল। এখান থেকে যত দূর দৃষ্টি যায় শুধু পাহাড় আর পাহাড়। সেসবের ফাঁকে ফাঁকে উঁকি দিচ্ছে জনবসতি। নিচে সাপের মতো এঁকেবেঁকে বয়ে চলেছে মাতামুহুরী নদী। তার দুই কূলে দেখা যায় ফসলের মাঠ। এ পাহাড়ে রয়েছে বিভিন্ন আদিবাসীর বসবাস। এদের মধ্যে ত্রিপুরা, মারমা ও মুরং অন্যতম। এই পাহাড়ের নিচে থাকে মারমারা। আর পাহাড়ের ভাঁজে ভাঁজে রয়েছে মুরংদের পাড়া। এরা পাহাড়ের ঢালে তাঁদের বাড়ি বানিয়ে বসবাস করে। মাটি থেকে সামান্য ওপরে এদের টংঘর। এসব ঘরের নিচে থাকে বিভিন্ন গবাদিপশু যেমন—গরু, ছাগল, শূকর, মুরগি। কখনো গবাদিপশুর পাশাপাশি প্রয়োজনীয় জ্বালানি কাঠও রাখা হয় স্তুপ করে।
কীভাবে যাবেন
ঢাকা থেকে চকরিয়া বাসস্ট্যান্ডে নেমে চাঁন্দের গাড়ি দিয়ে আলীকদম যাওয়ার পথে আবাসিকে নেমে যাবেন, ভাড়া পড়বে জনপ্রতি ৬০ টাকা করে। আবাসিকে নেমে ডান পাশের রাস্তাটা ধরে প্রায় আড়াই থেকে তিন ঘণ্টা হাঁটলেই পৌঁছে যাবেন আলীকদমের সবচেয়ে উঁচু পাহাড় মেরাই থংয়ে। সেখানে খাবার ও পানির কোনো ব্যবস্থা নেই, কাজেই শুকনো খাবার ও পানি সমতল থেকেই নিয়ে যেতে হবে।
ছবি : লেখক ও সংগৃহীত
