রাবি ক্যাম্পাসে পথশিশুদের মাঝে শিক্ষার আলো ছড়াচ্ছে ‘ইচ্ছে’

আপডেট : ১৯ অক্টোবর ২০১৩, ২১:৫০
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ও আশেপাশে অসংখ্য পথশিশু আছে যারা তিন বেলা খেতে পায় না। শিক্ষার মৌলিক অধিকার থেকেও বঞ্চিত। যে বিশ্ববিদ্যালয়টি ষাট বছরের বেশি সময় ধরে অগণিত মানুষকে শিক্ষার আলোয় আলোকিত করেছে, তার ক্যাম্পাসের পথশিশুদের খোঁজ-খবর নিতে কারও ফুসরত হয় না। এ যেন সেই বহুল প্রচলিত বাংলা প্রবাদ ‘আলোর নিচেই অন্ধকার’-এর বাস্তব চিত্র। তাই এসব পথশিশুর পাশে দাঁড়িয়েছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়েরই কিছু স্বপ্নবাজ তরুণ-তরুণী। অবহেলিত এসব পথশিশু ও দুস্থদের পাশে দাঁড়াতে তারা প্রতিষ্ঠা করেছে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘ইচ্ছে’। উদ্দেশ্য শিক্ষাবঞ্চিত পথশিশুদের মাঝে শিক্ষার আলো ছড়ানো, পাশাপাশি শীতার্ত ও দুস্থদের সেবায় আত্মনিয়োগ। জানা যায়, ‘ইচ্ছে’ প্রতিষ্ঠার পেছনে রয়েছে ছোট্ট একটি গল্প। দিনটি ছিল ২০১২ সালের ২ ফেব্রুয়ারি। ক’দিন পরই বিশ্ব ভালোবাসা দিবস। তাই এ উপলক্ষে ক্যাম্পাস ও শহরের বিভিন্ন স্থানে ফুল বিক্রির ধুম পড়ে। ক্যাম্পাসের একঝাঁক তরুণ বিশ্ববিদ্যালয়ের চত্বরে বসে গেলেন ফুল বিক্রি করতে। উদ্দেশ্য ফুল বিক্রির লভ্যাংশ দিয়ে গরিব ও দুস্থদের সেবা। কিছু দিন পর দেখা গেল, ফুল বিক্রি করে বেশ কিছু অর্থ উপার্জিত হয়েছে। ঐ টাকা দিয়ে তারা গরিব ও দুস্থদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করলেন এবং তাদের একবেলা খাবার খাওয়ালেন। কিন্তু এত ভালো কাজ তো আর বন্ধ হয়ে যেতে পারে না! তাই তারা সিদ্ধান্ত নিলেন একটি সংগঠন গড়ে তুলবেন। যেই ভাবনা, সেই কাজ। মানব সেবায় নিবেদিত প্রাণ তরুণেরা গড়ে তুললেন ‘ইচ্ছে’ নামক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। ‘মেধা দেই শ্রম দেই, আর্ত মানবতার সেবা করে পৃথিবীকে বদলে দেই” শীর্ষক শ্লোগানে শুরু তাদের পথচলা। শিক্ষা বঞ্চিত পথশিশুদের অক্ষর জ্ঞান শেখাতে তারা সংগঠনের উদ্যোগে ইতোমধ্যে প্রতিষ্ঠা করেছেন ‘ইচ্ছে প্রাক-প্রাথমিক বিদ্যালয়’ যেখানে বর্তমানে প্রায় ২৫ জন পথশিশু শিক্ষাগ্রহণ করছে। প্রতিদিন বিকাল ৪টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত এসব শিশুদের পাঠদান করানো হয়। শত প্রতিবন্ধকতার মধ্যেও ক্যাম্পাসের মেডিক্যাল সেন্টারের পাশের গো-খামারের বারান্দায় চলছে এই আলো ছড়ানোর কার্যক্রম। ছোট্ট একটি বারান্দায় কষ্ট করে শুধু ইচ্ছার জোরে পড়াশুনা করছে ওই শিশুরা। তবে শিশুদের মনে আনন্দের কোন কমতি নেই। কারণ এখানে নেই কোন বেতের ভয়, নেই বেতনের মতো কোন ঝামেলা। আনন্দের মাধ্যমেই এখানে শিশুরা সব কিছু শেখে। শিশুদের বই-খাতা, কলম-পেন্সিলসহ যাবতীয় শিক্ষা উপকরণের খরচ ‘ইচ্ছে’ বহন করে। এসব ব্যয়ভার বহনে ‘ইচ্ছে’র পেছনে কোন দাতা সংস্থা বা আলাদা কোন ফান্ড নেই। সংগঠনের সদস্যদের চাঁদা এবং বিভিন্ন দিবসে ফুল বিক্রির লভ্যাংশ দিয়ে চলে যাবতীয় কার্যক্রম। তবে সংগঠনের অনেক সীমাবদ্ধতার কথা জানালেন সংগঠনটির আহ্বায়ক অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী আরিফুজ্জামান সুমন। তিনি বলেন, ‘শিশুদের বই খাতা কিনতে অনেক অর্থের প্রয়োজন হয়। শুধু সদস্যদের চাঁদায় ঐ টাকার জোগান দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। তারপরও আমাদের এই কার্যক্রম চালিয়ে যেতে চাই।’