জেলা শহর মাইজদীর প্রধান সড়কের দুই পার্শ্বে পরিকল্পিতভাবে পথচারীদের চলাচলের জন্য ফুটপাত নেই। নোয়াখালী পৌরসভার নির্মিত ৩-৪ ফুট প্রশস্ত ড্রেনের স্ল্যাবের উপর দিয়ে পথচারীদেরকে হাঁটাচলা করতে হয়। এ সামান্য ড্রেনের জায়গাটুকুও দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে দখল হয়ে আছে। এতে করে স্বাভাবিক চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়ে পথচারীদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। অন্যদিকে এ অবৈধ দখলের কারণে শহরের সৌন্দর্য নষ্ট হচ্ছে।
শহরের মধ্যস্থল পুরাতন বাসস্টান্ড থেকে পৌর বাজার পর্যন্ত সড়কের দুই পার্শ্বে অসংখ্য অবৈধ দোকানপাট গড়ে উঠেছে। দোকানিরা তাদের দোকানের সামনের ফুটপাতে মালামাল রেখে ও ড্রেনের উপর অবৈধ দোকানপাট উঠিয়ে চলাচলের পথে বাধাসৃষ্টি করে আসছে। এছাড়া দোকানগুলোর সামনে সিএনজি চালিত অটোরিকশা, মাইক্রোবাস স্ট্যান্ড ও যত্রতত্র যানবাহনের পার্কিং-এর কারণে প্রধান সড়কে প্রতিদিন যানজট লেগে থাকে। বিশেষ করে নোয়াখালী জিলা স্কুলের সামনে ফুটপাতে অসংখ্য অবৈধ দোকানপাট গড়ে উঠেছে। ফুটপাতে চলাচলের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির কারণে শুধু জিলা স্কুলের ছাত্ররা নয়, স্কুল ও কলেজগামী শিক্ষার্থীদের চলাচলে প্রতিদিনই দুর্ভোগে পোহাতে হচ্ছে। ফুটপাত দখল হয়ে যাওয়ায় শিক্ষার্থীরা ও জনসাধারণকে সড়কের মাঝ পথ দিয়ে হাঁটাচলা করতে হয়। এতে করে পথচারীদের প্রায়ই ছোটখাট দুর্ঘটনার শিকার হতে হয়।
নোয়াখালী জিলা স্কুলের সামনের ফুটপাতে কয়েকটি দোকানে দিন রাত বখাটেদের আড্ডা চলে। এ স্কুল সংলগ্ন জামে মসজিদ মোড়দিয়ে চলাচলকারী কলেজ ও স্কুলগামী ছাত্রীরা বখাটেদের উত্পাতের সম্মুখীন হতে হয়। অভিযোগ রয়েছে, ফুটপাতের কয়েকটি দোকানে মাদকের ব্যবসা চলছে। স্কুল কর্তপক্ষ স্কুলের সামনের ফুটপাত অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদের জন্য কয়েকবার জেলা প্রশাসনের কাছে আবেদন জানায়। কিন্তু এ ব্যাপারে কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি বলে অভিযোগ পাওয়া যায়। জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির কয়েকটি বৈঠকে ফুটপাত থেকে অবৈধ দখলদার মুক্ত করার জন্য কয়েকজন সদস্য প্রস্তাব করলে এ ব্যাপারে কোন আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।
এ ব্যাপারে নোয়াখালী পৌরসভার মেয়র হারুনুর রশিদ আজাদ জানিয়েছেন, প্রশাসনের সহযোগিতায় ফুটপাত থেকে অবৈধ দখলদারদের কয়েকবার উচ্ছেদ করা হয়। কিন্তু উচ্ছেদের কিছুদিন পর আবার ফুটপাতগুলো দখল হয়ে যায়। সহসা অবৈধ দখলদারকে উচ্ছেদ করা হবে বলে তিনি জানান।
