হিন্দু সম্প্রদায়ের সঙ্গে আমাদের কোন দূরত্ব নেই :খালেদা জিয়া

আপডেট : ১৯ অক্টোবর ২০১৩, ২৩:১০
নির্বাচনকালীন সর্বদলীয় মন্ত্রিসভা গঠনের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে প্রস্তাব দিয়েছেন, সে সম্পর্কে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করলে কিছু বলতে রাজি হননি বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। শুভ বিজয়া উপলক্ষে গতকাল ইস্কাটনে লেডিস ক্লাবে হিন্দু সম্প্রদায়ের সঙ্গে আয়োজিত শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর প্রস্তাব সম্পর্কে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে খালেদা জিয়া বলেন ‘আজ এই সুন্দর পরিবেশে এসব বিষয়ে কোনো কথা বলবো না। এগুলো নিয়ে পরে কথা বলবো। আজ (শনিবার) আমাদের দলের স্থায়ী কমিটির মিটিং আছে, এরপর ১৮ দলের মিটিং হবে। সেখানে আলোচনা করে তারপর কথা বলবো।’ সদ্য সমাপ্ত দুর্গাপূজা উপলক্ষে হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজনকে শুভেচ্ছা জানিয়ে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে বিরোধী দলীয় নেতা খালেদা জিয়া বলেন, সবসময় একটা ভুল ধারণা দেয়া হয় যে, বিএনপির সঙ্গে নাকি হিন্দু সম্প্রদায়ের একটা দূরত্ব রয়েছে। এটা ঠিক নয়। আমরা পারস্পরিক সম্প্রীতিতে বিশ্বাস করি। আমরা সব ধর্মের লোক মিলেমিশে কাজ করে দেখিয়ে দিতে চাই যে, আমাদের মধ্যে কোনো দূরত্ব নেই, আমরা সবাই এক। খালেদা জিয়া বলেন, আমরা সবসময় বলেছি বাংলাদেশ একটি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। এখানে বহু ধর্মের মানুষ রয়েছে। তাদের সঙ্গে সম্প্রীতি বজায় রেখে আমরা ঈদ, পূজা, বড়দিন ও বৌদ্ধপূর্ণিমা উদযাপন করে থাকি। এই সম্প্রীতিকে আমরা আরও সুন্দর ও সুদৃঢ় করতে চাই। কোনো ধর্মের ওপর কেউ আক্রমণ করার চেষ্টা করলে আমরা শক্তহাতে প্রতিহত করবো। তিনি বলেন, সংখ্যায় কেউ কম হলেই তারা সংখ্যালঘু হয়ে যান না। এখানে সংখ্যাগরিষ্ঠ বা সংখ্যালঘু বলতে কিছু নেই। মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রীস্টান সবাই আমরা বাংলাদেশের নাগরিক। এটাই আমাদের একমাত্র পরিচয়। এটাকে ধারণ করেই আমরা একযোগে কাজ করবো, দেশ গড়বো। কারণ আজকে যারা ছোট ছেলেমেয়ে তারা তো ধর্মের পার্থক্য বোঝে না। তাদের জন্য আমরা সবাই মিলে একটি সুন্দর ভবিষ্যত্ নির্মাণ করে যেতে চাই। আমরা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে চাই। বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, এবারের পূজার সময় আমি দেশে ছিলাম না। তবে আমাদের দলের নেতারা বিভিন্ন পূজামণ্ডপে গিয়ে শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন। এটা আমরা প্রতিবছরই করি। শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে বিএনপি নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, হান্নান শাহ, ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া, ড. আব্দুল মঈন খান, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আব্দুল্লাহ আল নোমান, আব্দুল আউয়াল মিন্টু, এডভোকেট গৌতম চক্রবর্তী, নিতাই রায় চৌধুরী, ফজলুল হক মিলন ও খায়রুল কবীর খোকন প্রমুখ। হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- এডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, বাসুদেব ধর ও স্বপন সরকার প্রমুখ।