কয়রায় সবজি চাষ করে সংসারে সচ্ছলতা ফিরিয়ে এনেছে সুলতানা মরিয়মসহ অনেকে। আইলায় ভেসে যাওয়া পরিবারগুলোয় বেসরকারি স্বেচ্ছসেবী সংগঠন জেজেএস পরিবর্তন প্রকল্পের সহায়তা পেয়ে ঘুরে বসতে শুরু করেছে প্রত্যন্ত কয়রার বেশকিছু পরিবার। সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, উপজেলার ৫নং কয়রা গ্রামের হাবিবুর গাজীর স্বামীহারা মেয়ে সুলতানা মরিয়মের সাথে কথা হলে সে জানায়, পরিবর্তন প্রকল্প জেজেএস-এর মাধ্যমে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের অর্থায়নে কনসার্ন ওয়ার্ল্ড ওয়াইড-এর সহযোগিতায় বৃষ্টির পানি সংরক্ষণে একটি ৩ হাজার লিটার পানির ট্যাংক পেয়ে তার পবিরার এখন ঐ পানি ব্যবহারের মাধ্যমে বাড়ির আঙিনায় সবজি চাষ করে সংসারে সচ্ছলতা ফিরিয়ে এনেছে। শুধু পানির ট্যাংকি নয়, সবজি চাষের জন্য বীজসহ অন্যান্য সহযোগিতাও তাকে ঐ সংস্থা থেকে দেয়া হয়েছে। আইলা বিধ্বস্ত এ অঞ্চলে লবণাক্ততার কারণে মানুষের ফসল ফলানো তো দূরের কথা মানুষের বসবাস অনুপযোগী হয়ে পড়ে। শুষ্ক মৌসুমে সুপেয় পানির অভাবে লবণাক্ত পুকুরের পানি খেয়ে সাধারণ মানুষের অনেককে জীবন ধারণ করতে হতো। কয়রা সদর ইউনিয়নের ৫নং ৬নং ৪নং পার্শ্ববর্তী উত্তর বেদকাশি ইউনিয়নের পাথরখালি, নলপাড়া, বড়বাড়ি এলাকার মানুষের খাবার পানি সংগ্রহ করতে ১০-১৫ কিঃমিঃ দূরে গিয়ে নলকূপ থেকে খাবার পানি সংগ্রহ করতে হয়। মরিয়মের চাষাবাদ দেখে তার বাড়ির আশপাশ এলাকার অনেক পরিবার বাড়ির আঙিনায় সবজি চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছে। এ প্রসঙ্গে মরিয়ম জানান, এ পর্যন্ত তাকে ঐ সংস্থা থেকে একটি দুর্যোগ সহনশীল ঘর তৈরি করে দেয়া হয়েছে। এ বছর তার ৫ শতক জমিতে সবজি চাষ করে নিজের পরিবারের চাহিদা মিটিয়েও প্রায় ৫ হাজার টাকার সবজি বিক্রি করেছে। জেজেএস পরিবর্তন প্রকল্পের কয়রা উপজেলা ম্যানেজার আব্দুর রব রায়হান জানান, শুধু সুলতানা মরিয়মকে নয় এ ধরনের সহযোগিতা উত্তর বেদকাশি ইউনিয়নের পাথরখালি গ্রামের তাছলিমা বেগম, মহারাজপুর ইউনিয়নের সুতিরকোন গ্রামের রিতা বালা মণ্ডলকেও দেয়া হয়েছে। তাছাড়া এ প্রকল্পের মাধ্যমে আরো অনেকেরই সহযোগিতা করার পরিকল্পনা রয়েছে। সবজি চাষ প্রসঙ্গে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার মোঃ রবিউল ইসলাম বলেন, এ ধরনের প্রকল্প এ এলাকার জন্য খুবই প্রয়োজন। তিনি চাষাবাদ দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
