গল্প নয় সত্যি

আগামীর রেস্তোরাঁ!

আপডেট : ২১ অক্টোবর ২০১৩, ১৯:৪১
শতভাগ বুফে আয়োজন না হলে বড় কোনো খাবার রেস্তোরাঁর সাথে ওয়েটারের সম্পর্কটা অনেকটা অবিচ্ছেদ্যই বলা চলে। আর তাই যেকোনো রেস্তোরাঁয় খাবার খেতে যাওয়ার পর ওয়েটারকে খাবার অর্ডার বুঝিয়ে দেওয়া বা কোনো কিছুর জন্য অনুরোধ করাটাই স্বাভাবিক। তবে প্রযুক্তি নির্ভর এই যুগে আধুনিক রেস্তোরাঁর চিত্রটা কেমন হতে পারে এবার সেটাই সবাইকে দেখিয়ে দিয়েছে জাপানের একটি রেস্তোরাঁ। সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় এবং প্রযুক্তি নির্ভর এই রেস্তোরাঁটিকে ওয়েটারের প্রয়োজন মেটানো হয়েছে প্রযুক্তির সর্বোত্তম ব্যবহারের মাধ্যমে। এখানে যেকোনো একটি টেবিলে খেতে বসার পর টেবিলের সাথে লাগোয়া ট্যাবলেট পিসিতে স্পর্শ করেই নিজের খাবার তালিকা নির্বাচন করা যায়। আর এভাবে টাচ স্ক্রিনের বোতাম স্পর্শ করে নিজের অর্ডার দেওয়া শেষ হতে না হতেই সেটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভেসে ওঠে কিচেনে কাজ করতে থাকা পাচকদের কাছে। এরপর তারা ক্রেতার সেই পছন্দের খাবারটি তৈরি করে একটি কনভেয়ার বেল্টে উঠিয়ে দেন এবং পুনরায় তাদের সামনে থাকা আরেকটি ট্যাবলেট পিসিতে নির্দেশনা দেওয়ার মাধ্যমে সেটিকে ক্রেতার কাছে পাঠিয়ে দেন। পরবর্তীতে দ্রুতগতির কনভেয়ারে চেপেই খাবারটি ঠিক ঠিক হাজির হয় ক্রেতার টেবিলে। শুধু তাই নয় এভাবে স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে কোনো একটি সময়ে রেস্তোরাঁয় ঠিক কতজন মানুষ খাবার গ্রহণ করছেন, কোন খাবার কতটা বিক্রি হচ্ছে বা কোন খাদ্য উপাদানটি শীঘ্রই ফুরিয়ে যাবে ইত্যকার নানা তথ্য ব্যবস্থাপনাও সহজ হয়ে পড়েছে। মজার বিষয় হলো, শুধু খাবার অর্ডার করার পর সেটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে ক্রেতার টেবিলে পৌঁছে দেওয়াই নয়, বরং একই সাথে খাবার শেষে ময়লা পে¬ট সংগ্রহের জন্যও রয়েছে স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা। এর ফলে ক্রেতা তার এঁটো পে¬ট একটি বক্সে ফেললেই সেটি সরাসরি আরেকটি বেল্টের মাধ্যমে চলে যায় ডিশ ওয়াশারে। আর ক্রেতারা যেন উত্সাহ নিয়েই তাদের ময়লা বাসন ফেরত পাঠানোর এই কাজটি করেন সেজন্য প্রতি পাঁচটি পে¬ট পাঠানোর জন্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে ক্রেতার কাছে পৌঁছে যায় বিশেষ উপহারও। তাছাড়া ক্রেতাদের খাবারের বিল করতেও এই প্রক্রিয়াটিকে কাজে লাগানো হয়। সব মিলিয়ে বর্তমান সময়েই আগামী দিনের রেস্তোরাঁর একটি নমুনা দেখিয়ে দিয়েছে জাপানের এই রেস্তোরাঁটি।