যুক্তরাষ্ট্র-পাকিস্তান সম্পর্ক গুরুত্ব হারাতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি। রবিবার যুক্তরাষ্ট্র সফররত পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের সঙ্গে ওয়াশিংটনে তার বৈঠকের আগে কেরি এ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, আমাদের এ সম্পর্কে আরো অনেক আলাপ-আলোচনার প্রয়োজন রয়েছে। বর্তমানে ইসলামাবাদের ড্রোনবিরোধী অবস্থানের কারণে দু’দেশের মধ্যে উদ্বেগজনক সম্পর্ক বিরাজ করছে। এ কারণে পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি এ ধরনের মন্তব্য করলেন বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
জন কেরি পাকিস্তানের গণতন্ত্রের বিষয়ে বলেন, তারা এর জন্য কঠোরভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। জঙ্গি দমনেও তারা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন, যা এ অঞ্চলের স্থিতিশীলতার জন্য অধিক প্রয়োজন। বিবিসি’র সংবাদদাতা রাজিনি ওয়াশিংটন থেকে বলেন, এ ধরনের কথাবার্তা দু’দেশের সম্পর্কের জন্য একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এবং এটি একে অন্যের সঙ্গে সহযোগিতার হাত বাড়াতে এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। কেননা দেশ দুটির মধ্যে বর্তমানে এক অস্থির সম্পর্ক বিরাজ করছে। বিশেষ করে ড্রোন হামলা নিয়ে পাকিস্তানের বর্তমান কঠোর অবস্থানের কারণে তাদের মাঝে একটা শীতল সম্পর্ক বিরাজ করছে। আর এ সম্পর্কের বৈরিতা শুরু হয় ২০১১ সালে পাকিস্তানের অ্যাবোটবাদে ওসামা বিন লাদেনের বিরুদ্ধে মার্কিন অভিযানের পর থেকে। সংবাদদাতা বলেন, সামনে অনেক জিনিস আলোচনায় স্থান পাবে। এগুলোর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে বাণিজ্য। এছাড়া সন্ত্রাসবাদের বিষয়টিও গুরুত্ব পাবে। এটি দমনে পার্শ্ববর্তী দেশ আফগানিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক মজবুতকরণে গুরুত্বারোপ করা হয়।
তবে সুখবর হচ্ছে, এরইমধ্যে পাকিস্তানকে দেয়া যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা সহায়তার আটকে রাখা ৩শ’ ৫ মিলিয়ন ডলার অনুমোদন করতে কংগ্রেসের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ওবামা। যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ কূটনীতিকরা পাকিস্তানকে “অর্থনীতি সচল রাখার জন্য সংগ্রামরত একটি গণতান্ত্রিক দেশ যে বিদ্রোহের মোকাবিলা করছে আর আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ” বলে বিবেচনা করে। ড্রোন হামলাকে পাকিস্তানের জন্য একটি চ্যালেঞ্জ হিসেবে বর্ণনা করে এসব হামলা বন্ধ করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে বলবেন বলে জানিয়েছেন নওয়াজ।
