জাতীয় সম্পদ লুণ্ঠনের ষড়যন্ত্র চলছে

আপডেট : ২১ অক্টোবর ২০১৩, ২২:৪৫
রামপাল বিদ্যুত্ কেন্দ্র, সুন্দরবন, ফুলবাড়ি কয়লা খনি ও বঙ্গোপসাগরের গ্যাস নিয়ে রাজনীতি হচ্ছে। জাতীয় স্বার্থ বিবেচনা না করে সুবিধা দেয়া-নেয়ার বিষয় নিয়েই এই রাজনীতি। দেশে উন্নয়নের নামে জাতীয় সম্পদ লুণ্ঠনের প্রক্রিয়া চলছে। নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশি ও বিদেশি গোষ্ঠীর সঙ্গে বড় দুই দলের সমঝোতা করার চেষ্টা চলছে। সোমবার রাজধানীর ধানমন্ডির বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ল এন্ড ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্স (বিলিয়া) মিলনায়তনে সাপ্তাহিক পত্রিকা ‘সাপ্তাহিক’ আয়োজিত ‘উন্নয়ন, জ্বালানি ব্যবস্থাপনা ও জনস্বার্থ’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনা সভায় বক্তারা একথা বলেন। সাপ্তাহিকের সম্পাদক গোলাম মর্তুজার সঞ্চালনায় এতে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন কমিউনিস্ট পার্টির সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক এমএম আকাশ, কলামিস্ট সৈয়দ আবুল মকসুদ, পাওয়ার সেলের সাবেক মহাপরিচালক বিডি রহমত উল্লাহ ও ইকবাল হাবিব। সিপিবি’র সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, ২৫ অক্টোবর লগি-বৈঠার জবাবে লাঠি-বল্লমের নৈরাজ্যের? মধ্যে দেশ নিমজ্জিত। আওয়ামী লীগ বিএনপি বিরোধী দলে থাকলে জনস্বার্থমূলক কাজ করে। তাই আসুন আমরা সারা জীবনের জন্য দল দুটিকে বিরোধী দলে পাঠাই। দু’দলের বাইরে নতুন একটা বলয় তৈরি করি। উন্নয়ন সম্পর্কে গত দুই দশক যে ধারণা চলছে তা অনেকাংশে ঠিক নয়। গাছ কেটে যদি ফার্নিচার তৈরি করি সেটাও উন্নয়ন। উন্নয়ন সম্পর্কে ধারণা নতুন করে সংজ্ঞায়িত করা দরকার। তা না হলে মানব সভ্যতা সামনের দিকে এগিয়ে নিতে পারবো না। এখন উন্নয়ন হলো জাতীয় আয়ের বৃদ্ধি। উন্নয়নকে মাথাপিছু আয়ের ওপর ভিত্তি করে চিন্তা করি। পরিবারের মাথা পিছু আয় দেখান হচ্ছে এক হাজার ডলারের ওপর। তাহলে সব জনগণ এক হাজার ডলারের ওপর আয় করে। ওপর থেকে পরিকল্পনা না করে তৃণমূল থেকে করতে হবে। তেল গ্যাস খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুত্ বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির সদস্য সচিব আনু মুহাম্মদ বলেন, রামপালে বিদ্যুেকন্দ্র স্থাপনের বিষয়ে আর কোনো কাজ শুরু করলেই হরতাল দেয়া হবে। মানুষ দুই ধরনের বিষচক্রে আছে, অর্থনৈতিক বিষচক্র এবং রাজনৈতিক বিষচক্র। রাজনৈতিক বিষচক্র হচ্ছে দুটি দল দুর্নীতি করছে এতে করে মানুষ একবার আওয়ামী লীগকে ভোট দিচ্ছে আবার আওয়ামী লীগের ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে বিএনপিকে ভোট দিচ্ছে। দেশে গণবিরোধী যে রাজনীতি তৈরি হয়েছে তা রোধ করতে হবে। দেশি- বিদেশি শক্তির সঙ্গে রাজনৈতিক দলের আলোচনা চলছে। কোন দল কাকে বেশি সুবিধা দেবে এই নিয়ে। গবেষক সৈয়দ আবুল মকসুদ বলেন,‘ নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক দলগুলো বায়বীয় প্রতিশ্রুতি দেবে। সরকারের যারা প্রধান তারা খেয়াল খুশি মতো দেশ পরিচালনা করেন। অর্থনীতিবিদ এমএম আকাশ বলেন, রামপাল বিদ্যুেকন্দ্র স্থাপন থেকে সরকারকে সরে আসতে হবে। বিডি রহমত উল্ল¬াহ বলেন, শুধু বিদ্যুত্ উত্পাদন করলেই চলবে না। পাশাপাশি জীববৈচিত্র্য রক্ষা হচ্ছে কি না তাও বিবেচনা করতে হবে। গোলটেবিল বৈঠকে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সাপ্তাহিকের নির্বাহী সম্পাদক শুভ কিবরিয়া। তিনি বলেন, যারা বলেন যে কোনো মূল্যেই বিদ্যুত্ চাই, তারা ঠিক কথা বলেন না। কি মূল্যে, কতটা সাশ্রয়ী দামে, কতটা পরিবেশ-প্রতিবেশ-জীববৈচিত্র্যবান্ধব বিদ্যুত্ পাচ্ছি সেটা বিবেচ্য।