চাই উন্নত ব্যবস্থাপনা ও টেকসই কৌশল

আপডেট : ২১ অক্টোবর ২০১৩, ২২:৪৭
ভবিষ্যতের সম্ভাব্য পানি সংকট মোকাবেলায় পানির জন্য উন্নততর ব্যবস্থাপনা এবং অঞ্চলভিত্তিক টেকসই কৌশল উদ্ভাবনের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন বিশেষজ্ঞরা। গতকাল সোমবার রাজধানীর ব্র্যাক সেন্টারে দক্ষিণ এশিয়ায় মানব উন্নয়ন ২০১৩-মানব উন্নয়নের জন্য পানি শীর্ষক প্রতিবেদনের প্রকাশনা অনুষ্ঠানে তারা বলেন, একদিকে বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তন এবং অন্যদিকে চাহিদা বৃদ্ধির কারণে আগামীতে পানি নিয়ে বিশ্বজুড়ে বড় ধরনের সংকট সৃষ্টি হবে। সম্ভাব্য সেই সংকটময় পরিস্থিতির বিষয়টি বিবেচনায় রেখেই পানির ব্যাপারে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হবে। তা করা না হলে ভবিষ্যত্ প্রজন্ম পানি নিয়ে বড় ধরনের বিপদের মুখে পড়তে পারে বলে তারা আশঙ্কা ব্যক্ত করেন। ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (আইজিএস) আয়োজিত এই প্রকাশনা অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও বিশিষ্ট পানি বিজ্ঞানী ড. আইনুন নিশাত। সম্মানিত অতিথি ছিলেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগ (সিপিডি)-এর সম্মানিত ফেলো ও বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য, নগর গবেষক অধ্যাপক ড. নজরুল ইসলাম, পানি বিশেষজ্ঞ এম নাসিরউদ্দিন প্রমুখ। এছাড়া দেশি-বিদেশি বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধি, পরিবেশ ও পানিবিশেষজ্ঞ, মানব উন্নয়ন গবেষক এবং কয়েকটি আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। পাকিস্তানের লাহোরভিত্তিক মাহবুব-উল-হক মানব উন্নয়নকেন্দ্রের উদ্যোগে প্রতি বছর নিয়মিতভাবে এই বার্ষিক মানব উন্নয়ন গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। প্রকাশনা অনুষ্ঠানে ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, বাংলাদেশে বর্তমানে পানির জন্য যে আইনি কাঠামো রয়েছে, যুগের চাহিদা বিবেচনায় তা অনেক আগেই অচল হয়ে গেছে। তাই যুগোপযোগী পানি ব্যবস্থাপনার জন্য নতুন আইনি কাঠামো প্রণয়ন জরুরি হয়ে পড়েছে। একটি যথাযথ নতুন আইনি কাঠামোর আওতায় পানি সংরক্ষণের ব্যবস্থা নিতে হবে। পানি নিয়ে আমাদের সামনে বড় দু’টি চ্যালেঞ্জ রয়েছে। প্রথমত: পানির মূল্য নির্ধারণ দ্বিতীয়ত: স্যানিটেশন বা পয়ঃনিষ্কাশনে পানির ব্যবহার। অধ্যাপক ড. নজরুল ইসলাম বলেন, বিশ্বের বেশকিছু অঞ্চলের মতো বাংলাদেশেও বিরাট জনগোষ্ঠী এরইমধ্যে পানি সংকটের মুখোমুখি হচ্ছে। বাস্তব অবস্থার কারণে বহু মানুষ যেমন অস্বাস্থ্যকর উপায়ে সংগৃহীত পানি পান করতে বাধ্য হচ্ছেন, তেমনি পানির অভাবে বিভিন্ন অঞ্চলের কৃষি উত্পাদন মারাত্মকভাবে ব্যহত হচ্ছে। সময় গড়ানোর সাথে সাথে এই সংকট আরও তীব্র হবে। বিশেষত: অপরিকল্পিত নগরায়নের কারণেও পানি সংকট দিন দিন নতুন মাত্রা লাভ করছে। এ অবস্থায় বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে পানি ব্যবস্থাপনার যথেষ্ট উন্নতি এবং পানির জন্য টেকসই ও কার্যকর কৌশল প্রণয়ন করা না গেলে অদূর ভবিষ্যতে আরও মারাত্মক বৈরী পরিস্থিতির মুখে পড়তে হবে বলে হুঁশিয়ার করে দেন তিনি। প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৈশ্বিক তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ায় বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে নতুন করে পানির সংকট দেখা দিচ্ছে। উষ্ণতা ক্রমেই বাড়ছে। এতে পানির স্তর নিচের দিকে নেমে যাওয়ায় সংকট ক্রমশ: তীব্র হচ্ছে। এর ফলে বিশ্বজুড়ে বর্তমানে পানি সংকটের মুখে থাকা ১৫০ কোটি মানুষের কাতারে দাঁড়াতে যাচ্ছে আরও অন্তত ৫০ কোটি মানুষ। এত বিরাট জনগোষ্ঠী স্থায়ীভাবে পানি সংকটের কবলে পড়লে তার প্রতিক্রিয়ায় সামগ্রিক মানব উন্নয়নের ধারা মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হবে। বর্তমানে উন্নত দেশগুলোতে মোট ব্যবহূত পানির ৭০ শতাংশ ব্যবহার করা হয় কৃষিকাজে। উন্নয়নশীল দেশে কৃষিকাজে ব্যয়িত পানির পরিমাণ গড়ে ৯০ শতাংশ। এমন পরিস্থিতিতে পানির জন্য যথোপযুক্ত কৌশল ও ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা না গেলে মানবসভ্যতা নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে বলেও মন্তব্য করা হয়েছে।