ঝম ঝম বৃষ্টি। দিনটাই কেমন ম্যাড়মেড়ে। বিভিন্ন বিপণী বিতান আর ছাউনির নিচে মানুষের অপেক্ষা।
বাইতুল মোকাররমের উল্টোদিকে মোবাইল মার্কেট। অপেক্ষায় থাকা মানুষের সময় আর শেষ হয় না।
‘এমন বৃষ্টি হলে আন্দোলন আর জমবে না।’ কালোপিচের রাস্তায় বড় বড় বৃষ্টির ফোঁটা দেখতে থাকা মানুষগুলো যেন একটা কাজ পেল। মুক থেকে মুখর।
- আন্দোলন করবে নাকি তারা? ঘরের মধ্যেই থাকবে। ঘরের মধ্যে থাকলেই বিএনপির লাভ। রাস্তায় ভাঙচুর মানুষ এখন পছন্দ করে না। ভাঙচুর করলে ভোট হারাবে।
- আরে সেই দিন শেষ। দশ বছর আগের দিন এখন নেই। একটা কথা বললাম আর সবাই মেনে নিল-সেই দিন নেই। এখন মানুষ অনেক বোঝে। কথায় আর চিড়ে ভিজবে না। কাজ করে দেখাতে হবে। যে কাজ দেখাবে সে ফল পাবে।
- কাজ করুক আর না করুক দল ওই দুটোই। আরে আওয়ামী লীগ, বিএনপি ছাড়া অন্য কোন দল আছে নাকি দেশে। হয় আওয়ামী না হয় বিএনপি। নড়ে চড়ে ওই ওরাই। তৃতীয় শক্তি টক্তির কথা যারা বলে তারা ফাও। অন্য কেউ দাঁড়াতেই পারবে না।
- আওয়ামী লীগ এত বেশি আসন পেয়েও অতটা সন্তুষ্টজনকভাবে দেশ চালাতে পারেনি। আর জীবনে কোন দিন এত আসন পাবে নাকি? ফখরুদ্দিন যা দিয়ে গেছে ঐ পর্যন্তই।
- যেভাবেই হোক আওয়ামী লীগ আবার ক্ষমতায় আসবে।
- এরশাদের সম্ভাবনা ছিল। কিন্তু সে তো ঠিক পথে ছিল না। এখনো তার মতি গতি বোঝা যায় না।
- যে যাই বলুক এখন নির্বাচন দিলে বিএনপি ক্ষমতায় আসবে। সিটি নির্বাচন দেখছেন না।
বৃষ্টি ঠেলে একজন ছাতা ঝাড়তে ঝাড়তে ঢুকে পড়লো। ‘যাক বাবা। সরকারের অনেক টাকা বেঁচে গেছে। যে গন্ধ। এক বৃষ্টিতেই সব ধুয়ে শেষ।’
- ঈদের পরে বৃষ্টিটা ভালই কাজে দিল।
কথা বলায় হঠাত্ ভাটা পড়ল। খুব মন দিয়ে বৃষ্টি দেখছে সবাই। তবে মুখ ভার। যেন এই প্রথম তাদের জীবনে এমন একটি ঘটনা ঘটছে। বৃষ্টি দেখা। চুপ করে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষগুলোর মধ্যে কথা বলার তেমন কোন উত্সাহ দেখা যাচ্ছে না। এর একটু পাশে ফুট ওভার ব্রিজের নিচে গরুর দুধের চা বিক্রির দোকানে উপচে পড়া ভিড়। আট টাকা কাপ। সেখানেও বিশৃঙ্খল অবস্থা।
বাইতুল মোকাররম মার্কেটের খেলনা বিক্রেতাদের জটলায় বেশ মুখর লোকজন।
- আজ কোন চাঁদা নেই।
- বিসমিল্লাই হয়নি। চাঁদা দেব কোত্থেকে।
- সামনে বিসমিল্লাহ ছাড়াই আরো দিন পার করতে হবে।
- হ। বৃষ্টি না হইলেও আমাগো দোকান বন্ধ রাখতে হইবো। রাজা হওয়ার লইগা ত্যান্যারা লড়বেন আর আমাদের দোকান বন্ধ রাখতে হইবো।
- নির্বাচনটা হয়ে গেলেই বাঁচি।
- নির্বাচন কি কইরা হইবো? দেহেন না দশটা শর্ত দিয়া মিটিং করবার দিছে। সাড়ে তিন ঘন্টা মিটিং করবার পারবো। করছে সাড়ে পাঁচ ঘন্টা। এই ভাবে দিলে কি নির্বাচন হইবো?
