বিরোধী দলীয় নেত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া গতকাল সোমবার সংবাদ সম্মেলনে ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে গঠিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সদস্যদের মধ্য থেকে ১০ জনকে নিয়ে নতুন তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের যে প্রস্তাব দিয়েছেন, তা কার্যকর হওয়ার সুযোগ খুব কম। কারণ ঐ দুই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের মধ্যে বেঁচে আছেন মাত্র ১৪ জন এবং এদের মধ্যে দুইজন নতুন তত্ত্বাবধায়ক সরকারে যোগ দিতে রাজি নন।
খালেদা জিয়া নির্বাচনকালীন নির্দলীয় সরকারে ১৯৯৬ ও ২০০১ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ২০ জনের মধ্য থেকে ১০ জনকে চাইলেও তাদের মধ্যে সবাইকে পাওয়ার সুযোগ নেই।
ওই দুই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের যারা উপদেষ্টা ছিলেন, তাদের মধ্যে চারজন মারা গেছেন। তাদের মধ্যে ব্যারিস্টার ইশতিয়াক আহমেদ ছিলেন দুই সরকারে। জীবিতদের মধ্যে ব্যবসায়ী নেতা মঞ্জুর এলাহীও ছিলেন দুটি সরকারেই।
ফলে বিরোধী দলীয় নেতার প্রস্তাব গৃহীত হলে ১৪ জনের মধ্য থেকেই ১০ জনকে মনোনীত করতে হবে। প্রস্তাব অনুযায়ী, আওয়ামী লীগ মনোনীত করবে পাঁচজনকে এবং বাকি পাঁচজনকে মনোনীত করবে বিএনপি।
এক যুগের বেশি সময় আগে অবসরে থাকা অবস্থায় যারা তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দায়িত্ব নিয়েছিলেন, তাদের মধ্যে অনেকেই এখন বার্ধক্যজনিত কারণে অসুস্থ।
জীবিতদের মধ্যে অর্থনীতিবিদ ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ নিজে নতুন করে দায়িত্ব নিতে রাজি নন বলে জানিয়েছেন। সাবেক মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক এম হাফিজউদ্দিন নিজে রাজি নন জানিয়ে আরো বলেছেন, তার তখনকার সহকর্মী কেউও দায়িত্ব নিতে রাজি হবেন না।
১৯৯৬ সালে বিচারপতি মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান নেতৃত্বাধীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারে উপদেষ্টা ছিলেন অর্থনীতিবিদ ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ।
ওই সরকারের উপদেষ্টাদের মধ্যে ব্যারিস্টার সৈয়দ ইশতিয়াক আহমেদ এবং অধ্যাপক শামসুল হক মারা গেছেন্।
মঞ্জুর এলাহী ও ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ ছাড়া ওই সরকারে দায়িত্ব পালনকারীদের মধ্যে বেঁচে আছেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস, সাবেক গভর্নর সেগুফতা বখত চৌধুরী, অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল আব্দুর রহমান খান, অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা এ জেড এম নাসিরউদ্দিন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক নাজমা চৌধুরী এবং বুয়েটের অধ্যাপক জামিলুর রেজা চৌধুরী।
হাফিজউদ্দিন ছিলেন ২০০১ সালে বিচারপতি লতিফুর রহমান নেতৃত্বাধীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারে।
ওই সরকারে দায়িত্ব পালনকারী বিচারপতি বিমলেন্দু বিকাশ চৌধুরী ও অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল মইনুল হোসেন চৌধুরী মারা গেছেন। প্রয়াত ইশতিয়াক আহমেদ আগের সরকারেও ছিলেন।
ওই সরকারে হাফিজউদ্দিন ও মঞ্জুর এলাহীর সহকর্মীদের মধ্যে জীবিত আছেন সাবেক পুলিশ প্রধান এ এস এম শাহজাহান, অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আব্দুল মালেক, আব্দুল মুয়ীদ চৌধুরী, এ কে এম আমানুল ইসলাম চৌধুরী ও ব্যবসায়ী রোকেয়া আফজাল রহমান।
