বছরের এই সময়ে আবহাওয়া এতটাই অনিশ্চিত থাকে যে ঠিক কখন আপনাকে রোদে পুড়তে হবে আর ঠিক কখন বৃষ্টিতে ভিজতে হবে সেটা আগে থেকে অনুমান করাটাই কষ্টকর। তবে রোদই হোক কিংবা বৃষ্টি, এই সময়ে আপনার সাথে যদি একখানা ছাতা থাকে তাহলে রোদ কিংবা বৃষ্টির কষ্ট অনেকটাই মোকাবেলা করা যায়। অথচ মজার বিষয় হলেও সত্য যে, আধুনিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির যুগেও মানুষের বন্ধু হয়ে থাকা এই ছাতা নামের সামগ্রীটির জন্ম কিন্তু হয়েছিল আজ থেকেও প্রায় হাজার চারেক বছর আগে। তবে প্রাচীন সেই সময়ে ছাতার উপস্থিতি সম্পর্কে জানা গেলেও ঠিক কে কীভাবে তা আবিষ্কার করেছিলেন তা জানা যায় না। বরং ছাতা সম্পর্কে বেশ কিছু ইতিহাসের খোঁজ পাওয়া যায়, ঊনবিংশ শতকের মাঝামাঝি সময় থেকে। বিশ্বের প্রথম ছাতার দোকান ‘জেমস স্মিত অ্যান্ড সন্স’ চালু হয় ১৮৩০ সালে। যদিও সে সময়ে মূলত সূর্যের প্রখরতা থেকে বাঁচতেই ছাতার চল ছিল বেশি। আর বৃষ্টি থেকে বাঁচতে প্রথম ছাতা ব্যবহারের দাবিদার হিসেবে ধরা হয় চীনাদের। ছাতা আবিষ্কারের কাহিনী অনেক পুরনো হলেও অষ্টাদশ শতক পর্যন্ত ছাতার আকৃতি ছিল অনেক বড় এবং ওজনও ছিল বেশি। ১৮৫২ সালে স্যামুয়েল ফক্সস্টিলের চিকন রড দিয়ে রানী ভিক্টোরিয়ার জন্য ছাতা তৈরি করেন। যদিও এই ঘটনারও বহু দিন আগে ১৭১৫ সালে মারিয়াস নামে এক পারস্যের নাগরিক পকেট ছাতা আবিষ্কারের কৃতিত্ব দাবি করেন। এরপর ঊনিশ শতকে ছাতাকে বিভিন্ন ডিজাইনের এবং সহজে বহনযোগ্য করা হয়। ১৮৫২ সালে গেজ নামে একজন ফরাসি নাগরিক স্বয়ংক্রিয় সুইসের সাহায্যে ছাতা খোলার পদ্ধতি আবিষ্কার করেন। ১৯২০ সালে জার্মানির বার্লিন শহরের হ্যানস হাপট নামে এক ব্যক্তি ছাতা তৈরিতে অভিনব পরিবর্তন আনেন। তিনি ছোট সাইজের সহজে পকেটে বহনযোগ্য ছাতা তৈরি করে। ১৯৩৬ সালে লর্ড ও লেডি নামের এই ছাতা গোটা জার্মানি ও তার আশপাশে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছিল। এ ছাড়া ১৯৬০ সালে বাজারে আসা পলিস্টার কাপড়ের ছাতাও ব্যাবহারকারীদের মন জয় করতে সক্ষম হয়। ছাতা নিয়ে মজার আরেকটি দিক হলো ছাতা আবিষ্কারের পর একটা বড় সময় জুড়েই এর রং ছিল প্রধানত কালো। তবে গেল ত্রিশ বছরে ছাতার রং আর বাহারে যেমন পরিবর্তন এসেছে তেমনি পরিবর্তন এসেছে এর আকার, আকৃতি আর উপকরণেও। যদিও উপকরণ আর স্টাইল পাল্টালেও ছাতার প্রয়োজন পাল্টায়নি এক বিন্দুও।
