ঘড়ি বলছে, তখনও মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ড ম্যাচ চলার কথা। কিন্তু মাঠের দিকে তাকালে সেটাকে স্টেডিয়ামের চেয়ে পুকুর বলেই বেশি মনে হচ্ছিল! চারপাশে জমে যাওয়া পানিতে ঢেউ খেলা দেখে এখানে আগামী কয়েকদিনে খেলা হবে বলে বিশ্বাস করা কঠিন। ফলে অনেকেই এখনই এই নিউজিল্যান্ড-বাংলাদেশ দ্বিতীয় টেস্টের ভাগ্যে ড্র দেখতে পাচ্ছেন। কিন্তু দু’ দল অন্তত তেমন মনে করছে না। দু’ দলের প্রতিনিধিই সংবাদ সম্মেলনে এসে বলে গেলেন, বৃষ্টি নতুন করে বাগড়া না দিলে খেলায় ফলাফল আসবে বলেই তারা মনে করছেন। সাকিব আল হাসান বেশ জোর দিয়ে বললেন, ‘চট্টগ্রামে বাংলাদেশ দাপট দেখিয়ে ড্র করে ফেরার পর এই ঢাকা টেস্টটাকে অনেকেই নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজ জয়ের সুযোগ হিসেবে দেখছিলেন। এই সাকিব আল হাসান বা অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম ম্যাচের আগে পরিষ্কার বলেছেন, এই সুযোগটা তারা হারাতে চান না। এখনও ম্যাচের যে অবস্থা, তাতে বাংলাদেশ ব্যাকফুটে চলে গেছে, তেমনও ভাবা যাবে না। সাকিব নিজেও বলছেন, তাদের রানটা সামান্য কম হলেও ম্যাচে একেবারে পিছিয়ে নেই তারা। কিন্তু সমস্যা হল, বৃষ্টি। বৃষ্টি এখন বাংলাদেশের দ্বিতীয় প্রতিপক্ষ হয়ে গেছে। যখনই ম্যাচ জমে উঠছে, তখনই বেরসিক বৃষ্টি এসে বাগড়া দিয়ে বসছে। বৃষ্টির এই বাগড়া নিয়ে কথা বলতে গিয়ে সাকিব তার স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতে বললেন, ‘এটা তো কারো নিয়ন্ত্রণে নেই। তাই এ নিয়ে আফসোস করেও লাভ নেই।’ তবে সাকিবের ধারণা নতুন করে বৃষ্টি না হলে বাকী যে তিন দিন আছে, সে সময়ে এই টেস্টে খুব ফলাফল হওয়া সম্ভব, ‘এখনও যদি পুরোপুরি খেলা হয় তাহলে ম্যাচের ফলাফল অবশ্যই আসবে। তিন দিন যদি খেলা হয় তাতে, যেভাবে সব কিছু এগোচ্ছে তাতে ম্যাচের ফলাফল হবার কথা।’
সাকিব এই কথার পক্ষে ভালো যুক্তিও দিলেন। কিউরেটররা তাকে নিশ্চিত করেছেন, উইকেটে তারা স্পিনাররা ভালো সহায়তা পাবেন এবং আবহাওয়াও একটা ভূমিকা রাখবে। ফলে বোলাররাই এই ম্যাচে ফলাফল নিয়ে আসবে বলে তার বিশ্বাস, ‘যতো দিন যাবে, মনে হয় উইকেট আরও কঠিন হবে। কিউরেটররা আমাদেরকে যে ধারণা দিয়েছে, তাতে আমি যতটুকু বুঝতে পেরেছি যে তৃতীয় দিন থেকে স্পিনাররা সুবিধা পাবে। ফলে দু’ দলের ব্যাটসম্যানদের জন্যই রান করাটা কঠিন হয়ে যাবে। তাই ফলাফল হয়ে যাওয়াটা খুবই সম্ভব।’ বৃষ্টির কারণে বল করাটাও খুব কষ্টের ব্যাপার হবে বলে অন্তত সাকিব মনে করছেন না। কারণ তার অভিজ্ঞতাই বলছে, এই ম্যাচে সে সমস্য হচ্ছে না। সেই সঙ্গে সাকিব বেশ আশাবাদী যে উইকেট এখনও ঠিক স্পিন সহায়ক না হলেও তৃতীয় দিন থেকে সেটা হবে, ‘গতকালও বৃষ্টি হয়েছে। তাতে আমাদেও বল করতে খুব একটা সমস্যা হয়নি। আর কালকে (আজ) যদি বৃষ্টি না হয় তাহলে কোন সমস্যা হবার কথা না। মাত্রই দ্বিতীয় দিন। অনেক স্পিনিং উইকেট হলেও তাতে তৃতীয় দিন থেকে স্পিন কাজ করে। তাই এখনই বলে দেয়া মুশকিল।’ সে জন্য নিজেদের করণীয়টাও বলে দিয়েছেন সাকিব। তারা নিউজিল্যান্ডকে ৩০০ রানের মধ্যে আটকে ফেলতে চান। আর এই আটকে ফেলার জন্য এখন উইকেটে থাকা কেন উইলিয়ামসন ও রস টেলরকে ফিরিয়ে দেয়াটাই প্রধান চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছেন তিনি, ‘আগামীকাল (আজ) এই দু’জন ব্যাটসম্যানকে যতো দ্রুত সম্ভব আউট করতে হবে। এরপরও ওদের ব্যাটসম্যান আছে। কিন্তু এই দু’জনের একজন দলের ভাইস ক্যাপ্টেন (কেন উইলিয়ামসন) আরেক জন অনেক সিনিয়র খেলোয়াড় (রস টেলর)। তাই এই দুটো উইকেট খুব গুরুত্বপূর্ণ। আমরা দুটো উইকেট তাড়াতাড়ি নিয়ে নিতে পারলে সবই সম্ভব। এমনকি দু’শো রানের মধ্যেও ওদেরকে বেঁধে ফেলা সম্ভব। আর আমরা যদি একটা বাস্তবসম্মত টার্গেটের কথা ভাবি তাহলে আমরা ওদের ৩০০ রানের মধ্যে আটকে ফেলার চেষ্টা করবো। সেটা করতে পারলে আমাদের জয়ের সুযোগ থাকবে।’
পরিকল্পনা শুধু সাকিব আটছেন, ব্যাপারটা তেমন তো নয়। এই বৃষ্টিকে এড়িয়ে জয় পেতে হলে কী করতে হবে, সে পরিকল্পনা ওয়াগানররাও আটছেন। তিনিও পরিষ্কার বলে গেলেন, এই ম্যাচে জয় পাওয়া সম্ভব। তবে সে জন্য তাদের পরিকল্পনা আগে লিড নেয়া, ‘আমাদের ইনফর্ম কয়েকজন ব্যাটসম্যান এখনও আছে। তারা ঠিকমতো পারফরম করতে পারলে, গোটা দুয়েক জুটি করতে পারলে লিড নেয়া সম্ভব। আর সে ক্ষেত্রেই ম্যাচে ফলাফল আশা করা যায়।’
ফলাফলটা সবাই আশা করছেন। বাংলাদেশিরা সেটা নিশ্চয়ই সাকিবের পরিকল্পনামতোই আশা করছেন।
স্কোরকার্ড
বাংলাদেশ প্রথম ইনিংস : (আগেরদিনের ২২৮/৫)
ব্যাটসম্যান রান বল চার ছয়
তামিম ক উইলিয়ামসন ব ওয়াগনার ৯৫ ১৫৩ ১৭ ০
বিজয় ক উইলিয়ামসন ব বোল্ট ৭ ১০ ১ ০
মার্শাল ব ওয়েগনার ৪১ ৬২ ৬ ০
মমিনুল হক ক ওয়াটলিং ব অ্যান্ডারসন ৪৭ ৫৯ ৮ ০
সাকিব এলবিডব্লিউ ব সোধি ২০ ৩২ ০৩ ০
মুশফিকুর ক ফুলটন ব ওয়াগনার ১৮ ৩২ ৩ ০
নাসির হোসেন ক টেলর ব সোধি ১৯ ৪৮ ২ ০
সোহাগক উইলিয়ামসন ব ওয়াগনার ১৪ ২১ ১ ১
আব্দুর রাজ্জাক ব সোধি ১৩ ১৫ ০ ১
রুবেল ক ওয়াটলিং ব ওয়াগনার ৪ ৬ ১ ০
আল-আমিন অপরাজিত ০ ১ ০ ০
অতিরিক্ত (বাই-২, লেগবাই-১, ওয়াইড-১) ৪
মোট (৭৪.৫ ওভারে অলআউট) ২৮২
উইকেট পতন: ১/২৩ (এনামুল), ২/৯০ (মার্শাল), ৩/১৬৬ (মমিনুল), ৪/২০৮ (তামিম), ৫/২২৮ (সাকিব), ৬/২৪৬ (মুশফিক), ৭/২৫২ (নাসির), ৮/২৬৬ (সোহাগ), ৯/২৭৪ (রুবেল), ১০/২৮২ (রাজ্জাক)।
বোলিং: ট্রেন্ট বোল্ট ১৬-২-৫৫-১, ডগ ব্রেসওয়েল ১৪-১-৫৭-০, নেইল ওয়াগনার ১৯-৫-৬৪-৫, ইশ সোধি ১৮.৫-৩-৫৯-৩, কেন উইলিয়ামসন ৪-০-৩০-০, কোরি অ্যান্ডারসন ৩-০-১৪-১।
নিউজিল্যান্ড প্রথম ইনিংস
ব্যাটসম্যান রান বল চার ছক্কা
পিটার ফুলটন এলবিডব্লিউ ব সাকিব ১৪ ৪৩ ২ ০
রাদারফোর্ড ক মমিনুল ব সাকিব ১৩ ৪২ ১ ০
কেন উইলিয়ামসন অপরাজিত ২৮ ৩৮ ৩ ০
রস টেলর অপরাজিত ৩৭ ৬১ ৩ ০
ব্রেন্ডন ম্যাককালাম ক রুবেল ব সাকিব ১১ ১৭ ২ ০
অতিরিক্ত (বাই ৪) ৪
মোট (৩৩.৩ ওভারে তিন উইকেটে) ১০৭
উইকেট পতন : ১/৩১ (রাদারফোর্ড), ২/৩২ (ফুলটন), ৩/১০১ (ম্যাককালাম)।
বোলিং: আল-আমিন ৬-৩-১৪-০, সোহাগ গাজী ৬-০-১৩-০, সাকিব ১১-১-২৫-৩, রাজ্জাক ৫-১-৩৩-০, রুবেল ৫.৩-০-১৮-০
