পদ্মা সেতু দুর্নীতি মামলা

শুনানি পর্যবেক্ষণে কানাডা যাচ্ছেন আনিসুল হক

আপডেট : ২২ অক্টোবর ২০১৩, ২২:৪৫
পদ্মা সেতুর পরামর্শক নিয়োগে দুর্নীতি মামলার অধিকতর তদন্তে দুর্নীতি দমন কমিশনের প্রতিনিধি হিসেবে ফের কানাডা যাচ্ছেন অ্যাডভোকেট আনিসুল হক। এ নিয়ে দ্বিতীয় বারের মতো দুদক টিম কানাডা যাচ্ছে। কানাডার আদালতে মামলার শুনানির সময় আনিসুল হকের আদালতে উপস্থিত হওয়ার সুযোগ থাকলেও পদ্মা সেতু দুর্নীতির কোন নথিপত্র পাওয়ার নিশ্চয়তা দেয়নি কানাডা সরকার। কানাডার আদালতের নিষেধাজ্ঞার কারণেই তাদের দেশে চলমান এ তদন্তের কোনো নথিপত্র দুদককে দেয়া হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে কানাডার রয়্যাল মাউন্টেড পুলিশ (আরসিএমপি)। অপরদিকে এর আগে গত ১৯ মে দুদকের পক্ষ থেকে আনিসুল হক ও পদ্মা সেতু দুর্নীতি তদন্তকারী কর্মকর্তা মির্জা জাহিদুল আলম কানাডায় গেলেও শূন্য হাতে ফিরে আসেন। কানাডা থেকে তথ্য পাওয়ার কোনো ধরনের নিশ্চয়তা না পাওয়ার পরও দ্বিতীয়বার এ সফরে তদন্তের কতটা অগ্রগতি হবে তা নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এ ব্যাপারে দুদক চেয়ারম্যান মো. বদিউজ্জামান জানান, চলতি মাসের শেষ দিকে দুদকের আইন উপদেষ্টা আনিসুল হক কানাডায় যাচ্ছেন। ১ নভেম্বর কানাডায় পদ্মা সেতু দুর্নীতির মামলায় অনুষ্ঠেয় শুনানি পর্যবেক্ষণ এবং তদন্তের আরও অগ্রগতি নিশ্চিত করতে তাকে পাঠানো হচ্ছে। এ সফরে তার সঙ্গে তদন্ত টিমের আর কোনো সদস্য যাচ্ছেন না। এ বিষয়ে আইন উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট আনিসুল হক জানান, গত কিছু দিন আগে কানাডা সরকারের কাছে ভিসা আবেদন করা হয়েছিল। সমপ্রতি ভিসা পাওয়া গেছে। নভেম্বর মাসের এক তারিখ সে দেশের (কানাডার) একটি আদালতে পদ্মা সেতু প্রকল্পে ঘুষ বিষয় নিয়ে করা মামলার শুনানি রয়েছে। ওই শুনানির সময় সেখানে উপস্থিত থাকতে কানাডায় যাওয়া হচ্ছে। পদ্মা সেতু দুর্নীতির ঘুষের তালিকা তৈরি করার অভিযোগে কানাডায় গ্রেফতার হয়েছিলেন এসএনসি লাভালিনের কর্মকর্তা ভারতীয় বংশোদ্ভূত রমেশ শাহ ও বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মোহাম্মদ ইসমাইল। গ্রেফতারের পর তারা এখন জামিনে রয়েছেন। কানাডার অন্টারিও সুপিরিয়র কোর্ট অব জাস্টিসে তাদের বিচার চলছে। সুপিরিয়র কোর্ট অব জাস্টিসে দুই দফা তারিখ পরিবর্তনের পর ৯ সেপ্টেম্বর প্রাক-শুনানি হওয়ার কথা থাকলেও তখনও প্রাক শুনানি হয়নি। পরে ১৯ সেপ্টেম্বর আদালতে ১ নভেম্বর প্রাক-শুনানির দিন নির্ধারণ করা হয়। কানাডার আদালতের নিয়মানুসারে কোনো অভিযোগ চূড়ান্ত বিচারে যাবার আগে তার প্রাক শুনানি হতে হয়। তারই ধারাবাহিকতায় ১ নভেম্বর সকলপক্ষের আইনজীবী আদালতে এসে মামলা কিভাবে অগ্রসর হবে তা নির্ধারণ করবেন।