নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার স্বাস্থ্য কমপ্লে¬ক্সটি ৩১ শয্যা থেকে ৫০ শর্যায় রূপান্তর করার পর সেবার মানের বেহাল অবস্থা। জুনিয়র কনসালটেন্ট, মেডিক্যাল অফিসার, মেডিসিন, অ্যানেসথেসিয়া, গাইনি, ডেন্টাল সার্জন, সহকারি সার্জন, স্বাস্থ্য পরিদর্শক, নার্স ও মেডিক্যাল টেকনোলোজিস্টের পদগুলো শূন্য থাকার পাশাপাশি কতিপয় চিকিত্সকের অনিয়মের কারণে হাতিয়া দ্বীপের ৫ লাখ মানুষ আধুনিক চিকিত্সা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
অ্যানেসথেসিয়া, মেডিসিন, সার্জারি, শিশু, চক্ষু, চর্ম, প্যাথলজিস্ট, নাক, কান, গলা, অর্থপেডিক ও গাইনির জুনিয়র কলসালটেন্ট-এর ১০টি পদ দীর্ঘদিন শূন্য থাকায় জরুরি প্রয়োজনে রোগীদেরকে হাতিয়া দ্বীপের বাইরে পাঠাতে হচ্ছে। কিন্তু দ্বীপের সঙ্গে বাহিরের যোগাযোগ ব্যবস্থা খুবই ঝুঁকিপূর্ণ ও ব্যয়বহুল হওয়ায় অনেক রোগী মৃত্যুমুখে পতিত হচ্ছে। সহকারি সার্জন এর ৫টি পদ, ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রের মেডিক্যাল অফিসারের ১০টি পদ, সহকারি ডেন্টাল সার্জনের ১টি পদ, নার্সিং সুপারভাইজার ১টি পদ, মেডিক্যাল টেকনোলজিস্ট-এর ১২টি পদ, সিনিয়র স্টাফ নার্স এর ৯টি পদ, এমটি ইপিআই ১টি পদ, স্যানিটারি পরিদর্শকের ১টি পদ, স্বাস্থ্য পরিদর্শকের ৩টি, সহকারি স্বাস্থ্য পরিদর্শক -এর ৫টি পদ, স্বাস্থ্য সহকারির ১৮টি পদ, কার্ডিওগ্রাফার ১টি পদ ও ল্যাবএটেনডেন্ট, সহকারি সেবক এর ২টি পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে।
দ্বীপবাসীকে উন্নত চিকিত্সা দেয়ার লক্ষ্যে প্রায় ২০ কোটি টাকা ব্যায়ে হাতিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লে¬ক্সটি নির্মাণ করা হয়। অথচ অবকাঠামো উন্নয়নের পর ও চিকিত্সা সেবার কোন উন্নতি হয়নি। শুধুমাত্র জনবলের অভাবে অব্যবহূত অবস্থায় পড়ে রয়েছে লক্ষ লক্ষ টাকা মূল্যের ইনকিউবেটর মেশিন, ফটোথেরাপি মেশিন, এনেসথেসিয়া মেশিন, ইসিজি মেশিন, এন্ড্রোসকপি মেশিন, এক্সরে মেশিন। চালকের অভাবে অ্যাম্বুলেন্স অযত্নে পড়ে আছে।
হাসপাতালের ভিতরে চলছে প্রাইভেট প্যাথোলজি ব্যবসা। হাসপাতালে আগত রোগীদের অভিযোগ, উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তাসহ অন্যান্য কর্মরত ডাক্তারগণ অফিস সময়ে রোগী দেখে ফি নিচ্ছেন এবং বিভিন্ন প্রাইভেট প্যাথোলজির প্যাডে ব্যবস্থাপত্র দিচ্ছেন। চুক্তি মাফিক এ সকল প্যাথোলজিতে রোগী পাঠানো হচ্ছে বলে ভুক্তভোগীদের অভিযোগ। কয়েকটি প্রাইভেট প্যাথলজির দালালদের দৌরাত্ম্যের কারণে রোগীরা হাসপাতালে এসে চিকিত্সা সেবা গ্রহণ করতে পারছেন না। অফিস সময়ে মেডিক্যাল রিপ্রেজেনটেটিভদেরকে ডাক্তারকক্ষে বসে থাকতে দেখা যাচ্ছে। হাসপাতালে ভর্তিকৃত রোগীদের অভিযোগ, হাসপাতাল থেকে পর্যাপ্ত ওষুধ সরবরাহ করা হচ্ছে না। ডাক্তারগণ সময়মত ওয়ার্ডে রোগী দেখতে আসেন না। সরকারি বিধি মোতাবেক ভর্তিকৃত রোগীদের মাঝে খাবার সরবরাহ করা হচ্ছে না।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও কর্মকর্তা ডা: আব্দুল কাদিরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ‘স্থানীয় নেতাদের কাছে জিম্মি রয়েছেন’ বলে জানান এবং নিজের দুর্নীতির বিষয়টি অস্বীকার করেন। অপর দিকে জেলা সিভিল সার্জন ডা: আব্দুর রশিদ মোল্লার সঙ্গে হাতিয়া হাসপাতালের অনিয়ম বিষয়ে আলোচনা করা হলে তিনি দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন।
