অফিসের যত ‘হ্যাঁ’ এবং ‘না’

আপডেট : ২৩ অক্টোবর ২০১৩, ২১:১১
অফিসে এমন অনেক কাজ আছে যা করা উচিত না। আবার এমন অনেক কাজ আছে যা করাটাই বুদ্ধিমানের কাজ। প্রফেশনালরা সবসময় এ বিষয়গুলো মেনে চলেন। আপনিও সেগুলো মানলেই ভালো হবে। জেনে নিন চাকরি স্থলে কী কী করবেন, আর কী কী এড়িয়ে চলবেন। যা এড়িয়ে যাবেন বিরোধ তৈরি করে এমন বিষয় সবসময় এড়িয়ে যাবেন। ধর্ম বা রাজনীতির মতো বিষয়গুলো নিয়ে প্রত্যেক মানুষেরই নিজস্ব কিছু ধারণা এবং বিচার থাকে। ফলে আলোচনা করলে এ বিষয়গুলোতেই বিরোধ শুরু হয়। নেতিবাচক মনোভাব দেখানো ঠিক না। অনেকেই সবসময় কিছু কমপ্লেন নিয়ে অবস্থান নেন। এ ধরনের কাজ এড়িয়ে চলুন। কখনই আজে-বাজে শব্দ এবং বিষয় তুলবেন না। চাকরি স্থলে কারও সাথে রূঢ় আচরণ করা উচিত নয়। যখন অন্যরা কথা বলবে সেখানে ইন্টারফেয়ার করার অভ্যাস ত্যাগ করুন। অন্যের ব্যক্তিগত ব্যাপারে হস্তক্ষেপ করবেন না। সবসময় অন্যদের কাছ থেকে কিছুটা দূরত্ব বজায় রেখে অবস্থান নেন। তবে বেশি দূরে গেলে কর্মক্ষেত্রের আন্তরিকতা নষ্ট হবে। অফিসে প্রবেশের সময় কখনই দেরি করবেন না। ৯টার অফিস ৯টার পরে গেলে চাকরি যাওয়ার সার্টিফিকেট নিজ থেকেই তৈরি হবে। নিজের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে আলাপ করবেন না। অনেকেই অফিসে ব্যক্তিগত সম্পর্ক, ছেলে মেয়ের খবর কিংবা বন্ধু-বান্ধবির সম্পর্কে গল্প জুড়ে দেয়, যা ঠিক নয়। অবাস্তব চাহিদা বা আকাঙ্ক্ষা ব্যক্ত করবেন না। যখন তখন মোবাইল ফোনে কথা বলার অভ্যাস পরিত্যাগ করুন। অফিসিয়াল কল ছাড়া অফিসের মোবাইল ব্যবহার করা ঠিক না। এটি মেনে চলার চেষ্টা করবেন সবসময়। তাহলে অন্যদের কাছেই বাহবা পাবেন। যা করবেন ঊর্ধ্বতনদের সম্মান দেখান সবসময়। তবে ভয় পাবেন না বা বেশি নত হয়ে কাজ করার প্রবণতাও ভালো নয়। বয়স, অবস্থান, লিঙ্গ-ভেদে সকল কর্মীকে সম্মান দেখাবেন। সবসময় ইতিবাচক মনোভাব প্রদর্শন করুন। হাসিখুশি এবং সৃজনশীল মনোভাব নিয়ে অন্যদের সঙ্গে কাজ করুন। মনে রাখবেন, যখনই কারও সাথে কথা বলবেন, তার দিকে তাকিয়ে কথা বলুন। কেউ প্রশ্ন করলে বা কিছু বললে তার শেষ হওয়া পর্যন্ত মনোযোগ ধরে রাখুন। এবং উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করুন। পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন দৃষ্টিনন্দন পোশাক বেছে নিন অফিসে ব্যবহারের জন্য এবং অফিসিয়াল পোশাক ব্যবহারে অন্যদেরকেও অনুসরণ করতে পারেন। ভাষার ব্যাপারে মনে রাখবেন অফিস কী ধরনের ভাষা ব্যবহার করে। তবে সবসময় শুদ্ধ এবং স্পষ্ট করে কথা বলবেন যেন অন্যরা সহজেই বুঝতে পারে। নতুন নতুন দক্ষতা অর্জনে সবসময় আগ্রহী হোন। যদি গুরুত্বপূর্ণ কাজ হাতে না থাকে তাহলে অন্যদের সাহায্য করুন। আপনার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার কাছ থেকে শেখার চেষ্টা করুন কীভাবে কাজের উন্নতি করা সম্ভব। তার সঙ্গে সময় সময় পরামর্শ করুন। প্রতিষ্ঠানের নিয়ম-নীতি সবসময় মেনে চলুন এবং প্রতিষ্ঠানের নিয়ম-নীতিকে সম্মান দেখান। মনে রাখবেন- প্রতিষ্ঠানের গোপনীয়তা রক্ষা করা আপনারই কাজ। অফিসটা সরকারি হোক অথবা বেসরকারি, সেখানকার ‘একজন’ হিসেবে আপনাকে এসকল বিষয় মেনে চলতেই হবে। এর পাশাপাশি অফিসের সম্পদ সংরক্ষণের বিষয়েও সচেতন হোন। অফিসের পরিবেশ সুন্দর রাখতেও আপনার সহযোগিতা সকলেই কামনা করবে। তাই এসকল বিষয় নিয়ে যেন কেউ আপনাকে দায়ী না করতে পারে, তা নিশ্চিত করুন। যে নিয়ম মেনে চলা উচিত্  অফিসে ঠিক সময়ে পৌঁছবেন।  নিজের বসার জায়গাটা ও টেবিলটা একটু গুছিয়ে রাখবেন।  অফিসে গম্ভীর মুখে থাকার কোনো মানে হয় না। তার চেয়ে সহজ-সাবলীল হোন।  সময়ের কাজ সময়ে করুন। অযথা ফাইল জমিয়ে রাখবেন না।  চিঠি কিংবা ইমেইলের উত্তর দিতে দেরি করবেন না। আর কাউকে অ্যাপয়েন্টমেন্ট দেওয়া থাকলে তাকে অপেক্ষায় রাখবেন না। তাতে আপনার অফিসের ভাবমূর্তি নষ্ট হবে, আপনার নিজেরও।  কোনো কিছু না জানলে তা স্বীকার করে নিন। কী করে কাজটা করতে হয়, তা অভিজ্ঞ কারও কাছে বুঝে নিন।  অফিস গসিপে জড়াবেন না। তাতে অফিসের সময় নষ্ট হয়। আর ব্যক্তিগত সমস্যা নিয়ে আলোচনা না করাই বাঞ্ছনীয়। গেট আপ  পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন পোশাকে অফিসে আসবেন। ইস্ত্রি করা পোশাক পরাটাই শ্রেয়।  কেমন পোশাক পরবেন, সেটা নির্ভর করবে আপনার কর্মক্ষেত্রের ধরনের ওপর। অন্যদের দেখেই সেটা নির্ধারণ করুন। সহকর্মীদের সঙ্গে  সহকর্মীদের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক বজায় রাখুন। উইশ করুন, কেউ উইশ করলে উইশ ব্যাক করবেন।  শুধু নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত না থেকে অন্যদের সুবিধা অসুবিধার দিকেও নজর রাখুন।  অন্যের প্রাইভেসিকে সম্মান করুন। আর কেউ কাজে ব্যস্ত থাকলে বিরক্ত করবেন না।  সহকর্মীদের প্রমোশনে অভিনন্দন জানাতে ভুলবেন না যেন।  মাঝে মাঝে সবাই মিলে কোথাও ঘুরে আসুন। অফিস মিটিংয়ে  মিটিংয়ের আগে দরকারি কাগজপত্র গুছিয়ে প্রস্তুত হয়ে নিন। মিটিং শুরুর পর যেন এগুলোর জন্য বাইরে যাওয়ার দরকার না হয়।  মিটিংয়ের সময় কী আলোচনা হচ্ছে মন দিয়ে শুনে নিন।  অন্যের বক্তব্য মন দিয়ে শোনার অভ্যাস তৈরি করুন।  অন্যের কথার মাঝে কথা বলবেন না।  মোবাইল ফোন সাইলেন্ট মোডে রাখুন। টেলিফোনে  অফিসের ফোন থেকে ব্যক্তিগত ফোন করবেন না।  ফোন এলে সাথে সাথেই রিসিভ করুন।  ফোনটা শুধু অফিসিয়াল কাজে ব্যয় করুন। প্রয়োজনের বেশি ফোন ব্যবহার না রেখে সেটা ফ্রি রাখার চেষ্টা করুন।  সহকর্মী ফোনে কথা বললে কান খাড়া করে শুনবেন না। সহকর্মী যখন সমস্যার কারণ  আপনার যদি মনে হয় আপনাকে অবহেলা করা হচ্ছে, তবে নিজেই সমাধান করার চেষ্টা করুন। আর তাতে ফল না হলে বসকে জানান। তবে সহকর্মী সম্পর্কে কখনও নেতিবাচক ধারণা রাখবেন না। এটা নিজের জন্যই ভালো হবে।  ছোটখাটো ভুল-ত্রুটিকে সরিয়ে রেখে সহকর্মীদের ভাল গুণ নজর করতে শিখুন। তাতে সম্পর্ক ভালো থাকবে।