গ্রামে বাজার বসলো দেড়শ বছর পর!

আপডেট : ২৩ অক্টোবর ২০১৩, ২১:৪৫
দেড়শ’ বছরের পুরনো গ্রাম ছাতিরচর। হাওর অধ্যুষিত নিকলী উপজেলা সদর থেকে প্রায় দশ কিলোমিটার দূরে একেবারে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন, নদী পরিবেষ্টিত দ্বীপসদৃশ গ্রামে এই শুকনো মৌসুমে পায়ে হেঁটে ও বর্ষায় নৌকা ছাড়া উপজেলা সদরের সঙ্গে যোগাযোগের কোন বিকল্প নেই। ১১ টি পাড়া নিয়ে ছাতিরচর গ্রাম এবং এই একটি গ্রাম নিয়েই ছাতিরচর ইউনিয়ন গঠিত। প্রতিনিয়ত ভাঙনের শিকার এই গ্রামের মানুষ। প্রতিবছরই অনেক পরিবারকে পৈত্রিক ভিটা হারিয়ে ও একেবারে নি:স্ব হয়ে অন্যত্র আশ্রয় নিতে হয়। বর্তমানে এই গ্রামের লোকসংখ্যা ১০ সহস্রাধিক। আশ্চর্যের বিষয় এই যে, দেড় শতাধিক বছর পূর্বে সৃষ্টির পর থেকেই এই গ্রাম বা ইউনিয়নে কোন স্থায়ী বাজার গড়ে উঠেনি। ফলে কাঁচা মালামাল কিংবা নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি কিনতে গ্রামবাসীকে ভোগ করতে হয়েছে নানা দুর্ভোগ। ছুটে যেতে হয়েছে দশ কিলোমিটার দূরে নিকলী উপজেলা সদর কিংবা হিলচিয়া বাজারে। এ যাবত্কাল কেউ কেউ বাড়ির আঙ্গিনায় কিংবা উঠোনেই এবং চলাচলের প্রধান রাস্তার ওপরই মালামালের পসরা সাজিয়ে দোকানদারি করে এসেছে। এমতাবস্থায় গ্রামবাসীর সাহায্যার্থে এগিয়ে আসে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা পপি’র রিকল প্রকল্প। এলাকাবাসীর সহযোগিতায় ছাতিরচরে একটি কমিউনিটি বাজার গড়ে তোলার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। কমিউনিটি বাজার সৃষ্টির জন্য ২৯ জন এলাকাবাসী প্রায় ৫০ শতাংশ ভূমি দশ বছর ব্যবহার করতে দেয়ার জন্য লিখিতভাবে চুক্তি সম্পাদন করে। পপি প্রথমেই বাজারের জন্য নির্ধারিত স্থানে ১১ ফুট উঁচু করে মাটি ভরাট করে। এরপর দরিদ্র ও অতিদরিদ্র নির্ধারণ করে ৬০ জন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীর মধ্যে দোকানঘর নির্মাণের জন্য স্থান বরাদ্দ করে। পপি বিশুদ্ধ পানীয়জলের জন্য নলকূপ ও ল্যাট্রিনের ব্যবস্থা করে। বর্তমানে বাজারটি পুরোদমে চালু হয়েছে। বাজারে গিয়ে কয়েকজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীর সঙ্গে আলাপ হয়। কলু মুন্সিরহাটি পাড়ার সিদ্দিক মিয়ার স্ত্রী নাজমা বেগম (৫০) মুদির দোকান দিয়েছেন। প্রতিদিন সকাল থেকে বেলা প্রায় একটা পর্যন্ত চালু থাকে। প্রতিদিন প্রায় হাজার টাকার বিক্রি হয়। দৈনিক লাভ থাকে দেড় থেকে দুই শত টাকা। আগে বাড়ির আঙ্গিনায় দোকানদারি করতেন। এখন কমিউনিটি বাজারে নির্দিষ্ট স্থানে বসতে পেরে তিনি মহাখুশি। বিকিকিনিও আগের থেকে আনেক বেড়েছে। চা ও মুদির দোকান একসঙ্গে দিয়েছেন তোহরা খাতুন, মনোয়ারা, প্রতিবন্ধী রবিউল আউয়াল। তাদের আগে ব্যবসার জন্য কোন নির্ধারিত স্থান ছিল না। ছাতিরচর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. হানিফ ইসলাম জানান, কমিউনিটি বাজার স্থাপনের ফলে যুগ যুগ ধরে অবহেলিত ছাতিরচরবাসীর একটি দীর্ঘদিনের স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। পপি রিকল প্রকল্পের প্রকল্প সমন্বয়ক এ কে এম ওবায়দুল ইসলাম জানান, দোকানের জায়গা বরাদ্দ দেয়ার ক্ষেত্রে নারী ও অতিদরিদ্র ব্যবসায়ীদের অগ্রাধিকার দেয়া হয়েছে।