বিনিয়োগেও পিছিয়ে নেই তরুণরা

আপডেট : ২৩ অক্টোবর ২০১৩, ২২:৪১
শেয়ারবাজার ধসে বার বার পুঁজি হারালেও এখানে তারুণ্যের দাপট এতোটুকু কমেনি। ব্রোকারেজ হাউসগুলোতে তরুণদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি সেটাই প্রমাণ করে। বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র, সদ্য পাস করা ছাত্র এবং অনেক তরুণ ব্যবসায়ী টাকা হারিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হলেও শেয়ারবাজার থেকে তারা দূরে সরে যেতে পারেন নি। এরই ধারাবাহিকতায় শেয়ারবাজার তথা ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) পরিচালনা পর্ষদের তরুণদের গ্রহণযোগ্যতা বেড়েছে। গত কয়েক বছরে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র থেকে শুরু করে অনেক তরুণ শেয়ারবাজারে টাকা খাটিয়ে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এরপরও তারা শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ বন্ধ করেন নি। ঝুঁকিপূর্ণ হলেও এ ব্যবসায় বিনিয়োগ করে লাভবান হওয়ার সম্ভাবনাও প্রবল। এজন্যই তারা শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ অব্যাহত রাখছেন বলে জানা গেছে। তরুণদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, এখানে বিনিয়োগ করলে খুব বেশি সময় দিতে হয় না। তাছাড়া বুঝে শুনে বিনিয়োগ করতে পারলে কিছু দিন পর পর রিটার্নও পাওয়া যায়। তাই অনেকেই এখানে বিনিয়োগ করছেন। তবে ২০১০ এর পর থেকে শেয়ারবাজার বিনিয়োগকারীদেরকে আশানুরূপ ফল দিতে পারেনি। কয়েকদিন বাজারে দর বাড়লেও দর পতনই হয়েছে বেশি। ফলে হতাশ হতে হয়েছে বিনিয়োগকারীদের। এর মধ্যেও তরুণরা তাদের বিনিয়োগ ধরে রেখেছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোক প্রশাসনের ছাত্র মাহমুদুল হাসান তেমনই একজন তরুণ বিনিয়োগকারী । ২০১০ এ তিনি শেয়ারবাজারে প্রায় ১০ লাখ টাকা বিনিয়োগ করেন। মা ও মামার কাছ থেকে ঋণ করে এ অর্থের যোগান দিয়েছিলেন তিনি। কয়েক মাস না যেতেই শেয়ারবাজারে ধস শুরু হয়। সেই সাথে পুঁজিও কমতে থাকে ধীরে ধীরে। অর্থমন্ত্রী ও নীতি নির্ধারকদের আশ্বাসে আশ্বস্ত হয়ে শেয়ার বিক্রি না করে অপেক্ষা করতে থাকেন হাসান। এতেই তার ক্ষতি সর্বোচ্চ চূড়ায় উঠে যায়। বর্তমানে তার বিনিয়োগকৃত শেয়ারের দাম কয়েক হাজার টাকায় নেমে এসেছে। এরপরও হাসান মুখ থুবড়ে পড়েন নি। তিনি জানান, বর্তমানে কয়েকটি বিও (বেনিফিশিয়ারি ওনার্স) অ্যাকাউন্ট করে প্রাইমারি মার্কেটে ব্যবসা করছেন। এতে মাঝে মাঝে শেয়ার পেয়ে কিছুটা লাভেরও মুখ দেখছেন। লাভের টাকা দিয়ে সেকেন্ডারি মার্কেটে কিছু কিছু বিনিয়োগও করছেন। আর বর্তমানে শেয়ারের দাম খুব কম হওয়ায় মাঝে মাঝে লাভও হচ্ছে। সাধারণ বীমা ব্রোকারেজ হাউস ঘুরে দেখা গেছে, রাজধানীর কাজী নজরুল ইসলাম কলেজের ছাত্র তরিকুল ইসলাম সাগর এসেছেন শেয়ার লেনদেন করতে। অপকটে তিনি জানালেন, কিভাবে ২০১০ এ শেয়ারবাজারে ১৫ লাখ টাকা বিনিয়োগ করে ২০১১ এর শেষের দিকে শূন্য হাতে ফিরে গেছেন বাজার থেকে। তবে হাল ছাড়েননি। আবার বিনিয়োগ করেছেন। তার ভাষ্য হলো- আগে যখন বিনিয়োগ করেছি তখন অনেক ক্ষেত্রেই না বুঝে বিনিয়োগ করেছি। এখন বুঝে শুনে বিনিয়োগ করছি। ফলে শেষ পর্যন্ত লাভের মুখ দেখা যাচ্ছে। শেয়ারবাজার ধসের ক্ষত এখনও শুকায়নি। তারপরও এখানেই কেন ফের বিনিয়োগ-এমন প্রশ্নের জবাবে সাগর উদ্ধৃত করেন ওয়ারেন বাফেটের একটি উক্তি- ‘যেখানে তোমার টাকা হারিয়েছে, পেতে হলে তা সেখানেই খুঁজতে হবে।’