পথে-ঘাটে

আপডেট : ২৩ অক্টোবর ২০১৩, ২২:৫৪
‘যত গর্জে তত বর্ষে না।’ দিলকুশায় ফুটপাতের উপরে ‘ইটালিয়ান’ হোটেলে খেতে খেতে একজন বয়স্ক ভদ্রলোক বললেন কথাটা। গাদাগাদি করে বেঞ্চে আরো কয়েকজন। বেঞ্চে বসার অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে কয়েকজন। ফুটপাতের অর্ধেক জুড়ে এই হোটেল। বয়স্ক ভদ্রলোক আর কোন কথাই বললেন না। একজন খুব শান্তভাবে নিজের আঙ্গুল দিয়ে কানের ময়লা পরিষ্কার করে নাকের কাছে আঙ্গুলটা নিয়ে আসলেন। তারপর শান্তভাবে বললেন, ‘দেখেন না বিডিআর নেমে গেছে।’ আর একজন পাশ থেকে বলে উঠলো - বিডিআর না বিজিবি। - ঐ হলো। অর্ধেক আর্মি। দুই আঙ্গুলে ডলা দিয়ে কানের ময়লা ফেলতে ফেলতে আবার শুরু করলেন তিনি। প্রত্যেকবার কানের ময়লা পরিষ্কার করছেন আর শুকছেন। একটু করে ময়লা শুকছেন আর একটি করে বাক্য আওড়ানোর চেষ্টা করছেন। - শুনলামতো। ঢাকায় বিজিবি নেমে গেছে। - আজকেই বিজিবি নেমে গেছে? কোথায়? - গুজব সব গুজব। - কত কথাই তো শোনা যাচ্ছে। বিএনপি যদি গণ্ডগোল করে তবে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করবে আওয়ামী লীগ। আর এই জরুরি অবস্থায় দেশ চলতে থাকবে। গণ্ডগোল করার কোন সুযোগই দেবে না। - গণ্ডগোল তারা করবেও না। - ভাই সরকারও ভয়ের মধ্যে আছে। না হলে বিজিবি নামাবে কেন? - বিজিবি নামায়নি তো। এক এক টিভিতে এক এক রকম খবর। কেউ বলছে নামানো হয়ে গেছে। কেউ বলছে সিদ্ধান্ত হয়নি। - আমি তো আজ বাড়ি থেকে কাউকে বের হতে দেইনি। এই দুই দিন বাসায় থাকতে হবে। আমার স্যারে তো আজ গাড়িও আনেননি। রিক্সা দিয়ে অফিসে এসেছেন। একজনের হাতের ধাক্কায় অন্যজনের খিচুড়ি খাওয়ার চামচ পড়ে গেল। চামচটা তুলতে গিয়ে নিজের ডিমের ঝোল নিজের শার্টে লেগে গেল। যথারীতি কাটাকাটি। কিন্তু বেশি দূর আগালো না। রসিক একজন বলে উঠলো, ভাই সবাই তো ভয়ে আছে। ভয়ে ভয়ে হাত নড়ে গেছে। কিছু মনে করবেন না। সত্যিই, ভয়ের কথা শুনে ভয় পেল কিনা জানা গেল না। কিন্তু পরিস্থিতি শান্ত হয়ে গেল। ঢাকায় এমনভাবে পরিস্থিতি শান্ত হতে খুব একটা দেখা যায় না। চামচ দিয়ে খিচুড়ি খেতে খেতে খুব বুদ্ধিদীপ্ত কণ্ঠে পাশ থেকে একজন বললেন- আজ থেকেই ভয় শুরু হয়ে গেল। - কিছু হোক না হোক ঢাকার মানুষ কিন্তু ভয়ে আছে। দেখেন না রাস্তাঘাট কেমন ফাঁকা ফাঁকা। মনে হয় ঈদের ছুটি এখনো শেষ হয়নি। - এই ভয় আর সহসা কাটবে না। নির্বাচনী প্রচারণা শুরু হওয়ার আগে আর এই ভয় কাটবে না। - নির্বাচন হবে? মনে হয় হবে না। তখন দুপুর পার হয়েছে। ভিড় বাড়ছে। অফিস পাড়ার লোকজন বেশি। ডিম খিচুড়ি অথবা মুরগি খিচুড়ি খেতে হবে। চাইলে ডিম পরোটাও আছে। হোটেলের ছেলেটা খুব বিরক্ত। কেউ এই ভিড়ের মধ্যে কথা বলে সময় নষ্ট করুক, তা সে চায় না। কারণ এখানে বেশ কয়েকটি ইটালিয়ান হোটেল আছে। এক বেঞ্চে জায়গা না হলে অন্য বেঞ্চ। কেউ তো অপেক্ষা করবে না। বিরক্তি নিয়ে যার খাওয়া শেষ তাকে বললেন, অন্যকে বসতে দেন ভাই।