বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে বহিঃসমর্পণ চুক্তি কার্যকর

আপডেট : ২৩ অক্টোবর ২০১৩, ২২:৫৫
বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে স্বাক্ষরিত ‘বহিঃসমর্পণ’ চুক্তিতে গতকাল বুধবার অনুসমর্থন দিয়েছে দুই দেশ। চুক্তি অনুযায়ী দুই দেশ ফৌজদারি মামলায় বিচারাধীন বা দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি বিনিময় করতে পারবে। দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তির সাজার মেয়াদ ন্যূনতম এক বছর পূর্ণ হলেই তাকে হস্তান্তর করা যাবে। তবে রাজনৈতিক আশ্রয়প্রার্থীর ক্ষেত্রে এটি প্রযোজ্য হবে না। আর এ চুক্তির মাধ্যমে আসামের বিদ্রোহী সংগঠন উলফার সাধারণ সম্পাদক অনুপ চেটিয়াকেও ফিরিয়ে নিতে পারবে ভারত। তবে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের স্বার্থে বহিঃসমর্পণের যে কোন প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানের সুযোগ থাকবে। গতকাল বুধবার বিকাল ৩টার দিকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভা কক্ষে মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব সি কিউ কে মুসতাক আহমদ এবং ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার পংকজ শরণ নিজ নিজ সরকারের পক্ষে অনুসমর্থন দলিল স্বাক্ষর ও বিনিময় করেন। এসময় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, অপরাধ দমনের ক্ষেত্রে এটি একটি নতুন দিগন্ত। এ চুক্তির আলোকে অপরাধীকে শনাক্ত করা সহজ হবে এবং সন্ত্রাসীরা অভয়ারণ্য খুঁজে পাবে না। ফলে শুধু এ দু’দেশেই নয় দক্ষিণ এশিয়ায়ও অপরাধ প্রবণতা কমে যাবে। তিনি আরও বলেন, বঙ্গবন্ধুর কয়েকজন খুনি বিদেশে আশ্রয় নিয়েছে বলে আমরা জানি। তাদের শনাক্তকরণ ও বহিঃসমর্পণে ভারত সরকার সহযোগিতা করবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। অনুপ চেটিয়া প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। দু’দেশের সমঝোতার মাধ্যমে ও উচ্চ আদালতের রায়ের ভিত্তিতে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে। অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (রাজনৈতিক) ড. কামাল উদ্দিন আহমেদ চুক্তির উল্লেখযোগ্য বিষয়সমূহ তুলে ধরে জানান, চুক্তির বিধান অনুযায়ী আইনানুগ কর্তৃপক্ষের অনুরোধে এক দেশ অপর দেশের নিকট দণ্ডপ্রাপ্ত বা বিচারাধীন ব্যক্তিকে অভিযুক্ত অপরাধের সাজার মেয়াদ ন্যূনতম এক বছর হলে বহিঃসমর্পণ করতে পারবে। তবে চুক্তিতে বর্ণিত বিধানাবলী সাপেক্ষে রাজনৈতিক চরিত্রের অপরাধের ক্ষেত্রে কোন বহিঃসমর্পণের অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করার সুযোগ থাকবে। কোন দণ্ডপ্রাপ্ত বা অভিযুক্তকে স্বল্প সময়ের জন্য সাময়িকভাবেও বহিঃসমর্পণ করা যাবে। একই ব্যক্তির বিষয়ে একাধিক দেশ হতে বহিঃসমর্পণের অনুরোধ থাকলে সে ক্ষেত্রে কতিপয় শর্ত সাপেক্ষে অনুরোধ প্রাপ্ত দেশ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারবে। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে আইজিপি, বিজিবি ও কোস্ট গার্ডের মহাপরিচালক, ডিবির অতিরিক্ত মহা পুলিশ পরিদর্শকসহ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও ঢাকার ভারতীয় দূতাবাসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।