রাউজানে আওয়ামী লীগ নেতাকে গুলি, গণপিটুনিতে দুইজন নিহত

আপডেট : ২৩ অক্টোবর ২০১৩, ২২:৫৭
চট্টগ্রামের রাউজানে আওয়ামী লীগ নেতা ও ইউপি সদস্যকে গুলি করে পালানোর সময় উত্তেজিত জনতার গণপিটুনিতে দুই সন্ত্রাসী নিহত হয়েছে। গতকাল সকাল ১১টায় উপজেলার পাহাড়তলী চৌমুহনী বাজারে এ ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন উপজেলার বাগোয়ান ইউনিয়নের পাঁচখাইন গ্রামের আবু মিয়ার ছেলে মোজামেল (৩৮) ও একই এলাকার ইসহাক মিয়ার ছেলে মোহাম্মদ সুমন (৩৪)। পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে। গুলিবিদ্ধ বাগোয়ান ইউপি সদস্য আব্দুল খালেককে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। স্থানীয়দের ধারণা রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে ঘটনার সূত্রপাত হতে পারে। উত্তর জেলা বিএনপির সভাপতি গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী জানান, নিহতরা কোনভাবেই বিএনপি ও অঙ্গ-সংগঠনের সাথে জড়িত নয়। বরং নিহত সুমন আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত। এই হত্যাকাণ্ড আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের ঘটনা। বাগোয়ান ইউপি চেয়ারম্যান ভুপেশ বড়ুয়া বলেন, বাগোয়ান ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও ৫নং ওয়ার্ডে ইউপি সদস্য আব্দুল খালেক মেম্বার ইউপি কার্যালয়ে আসার পথে পাঁচখাইন বড়পীর (রহ.) এর দরগার সামনে মোজাম্মেল ও সুমনসহ ৭/৮ জনের সশস্ত্র দল আক্রমণ করে। মেম্বার খালেক পালিয়ে যেতে চাইলে অস্ত্রধারীরা এলোপাতাড়ি গুলি ছুঁড়তে থাকে। এতে মেম্বার খালেক গুলিবিদ্ধ হন। এলাকার লোকজন খবর পেয়ে সন্ত্রাসীদের ধাওয়া করতে থাকে। মোবাইল ফোনে তারা পার্শ্ববর্তী এলাকার লোকজনকে জানায়। সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যাওয়ার সময় উপজেলার পাহাড়তলী চৌমুহনী বাজারে স্থানীয় লোকজন ২ জনকে আটক করে গণপিটুনি দেয়। দলের বাকিরা পালিয়ে যায়। গণপিটুনিতে ঘটনাস্থলেই দু’জন নিহত হয়। থানা সূত্রে জানা যায়, নিহত সুমন যুবলীগ নেতা মোবারক হত্যার অন্যতম আসামি। নিহতদের বিরুদ্ধে রাউজান থানায় হত্যা ও ডাকাতিসহ বিভিন্ন মামলা রয়েছে। রাউজান থানার ওসি এনামুল হক বলেন, ‘লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। মামলার প্রস্তুতি চলছে।’