‘মুকুটটা তো পড়ে আছে রাজাই শুধু নেই’

আপডেট : ২৪ অক্টোবর ২০১৩, ২২:৩০
‘আবার হবে তো দেখা.....’ হাজার বার হাজারভাবে শোনা গান। এতদিন এ গান আমাদের মনে বেদনা ছড়াত সেই সঙ্গে আশাটিকেও জাগিয়ে রাখত- ‘এ দেখাই শেষ দেখা নয় তো?’ ভাবনাটা এরকম—আবার দেখা হলে হতেও তো পারে! কিন্তু গতকাল বৃহস্পতিবার থেকে সবাই জেনে গেছে, এই গানের শিল্পী মান্না দে চলে গেছেন প্রিয় পৃথিবী ছেড়ে। তার সেই যাদুকরী কণ্ঠ আর কখনো সুরের মায়াজাল ছড়াবে না। যার গান শুনে শুনে এদেশের বেশিরভাগ মানুষের শৈশব, কৈশোর, যৌবন কেটেছে- অতুলনীয় কণ্ঠের অধিকারী সেই শিল্পী আর নেই। তার সেই যাদু মাখানো কণ্ঠ থেমে গেছে চিরতরে। গতকাল বৃহস্পতিবার ভোর রাতে বেঙ্গালুরু হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন উপমহাদেশের কিংবদন্তী সঙ্গীত শিল্পী মান্না দে। বয়স হয়েছিল ৯৪ বছর। শরীরটা ভালো যাচ্ছিল না আগে থেকেই। গত ৮ জুন বেঙ্গালুরুর একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তাকে। বার্ধক্যজনিত নানা সমস্যায় ভুগছিলেন প্রবাদপ্রতীম এই সঙ্গীত শিল্পী। স্ত্রী সুলোচনা কুমারণ মারা গেছেন গত বছর। স্ত্রীকে হারিয়ে মানসিকভাবে ভেঙ্গে পড়েছিলেন মান্না দে। গতকাল তিনিও চলে গেলেন না ফেরার দেশে। রেখে গেছেন দুই কন্যা সুরমা আর সুমিতা এবং গোটা উপমহাদেশজুড়ে তার অগণিত গুণমুগ্ধ শ্রোতা। গতকাল দুপুরে বেঙ্গালুরু হম্বাল মহাশ্মশানে তার মরদেহ দাহ করা হয়। এর আগে শেষ শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য তার মরদেহ রাখা হয় শহরের রবীন্দ্র কলা কেন্দ্রে। অগণিত ভক্ত তার প্রতি শেষ শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী মান্না দের মরদেহ কলকাতায় নিয়ে আসার অনুরোধ জানালেও প্রয়াত শিল্পীর কন্যা সুমিতা সে অনুরোধ রাখেননি। তিনি জানান, বাবা চেয়েছিলেন, মায়ের মত তাকেও যেন এই শ্মশানে দাহ করা হয়। সত্তর বছরের সঙ্গীত জীবনে তিনি বাংলা ছাড়াও বিভিন্ন ভাষায় গেয়েছেন প্রায় সাড়ে তিন হাজার গান। তিনি গেয়েছেন, ধ্রুপদী, রবীন্দ্র সঙ্গীত, নজরুল সঙ্গীত, আধুনিক, দ্বিজেন্দ্রগীতি, অতুল প্রসাদী, রজণীকান্তের গান, কীর্তন, লোকগীতিসহ নানা মেজাজের গান এবং সবই ভিন্ন মাত্রা পেয়েছে তার কণ্ঠে। শৈশবে স্বপ্ন ছিল কুস্তিগীর হওয়ার। সেটা যদি না হয় তবে ব্যারিস্টার বা অন্য কিছু। তবে সঙ্গীত শিল্পী হওয়ার কোন স্বপ্নই দেখতেন না তিনি। কলকাতার ছেলে। সব কিছুতেই একটা সেয়ানা সেয়ানা ভাব আর ভারি ফুর্তিবাজ। দুই মিনিটের মধ্যে যে কারো সাথে ভাব জমিয়ে ফেলতে জুড়ি ছিল না। তবে কুস্তির প্যাচে ত্যাড়া লোকদের ‘টাইট’ করার একটা বড় সাধ ছিল শৈশবে। ১৯১৯ সালের ১ মে কলকাতার ৯ নম্বর মদন ঘোষ লেনের বাড়িতে তার যখন জন্ম হয়, বাবা পূর্ণ চন্দ্র দে আদর করে নিজের নামের সাথে মিলিয়ে ছেলের নাম রাখেন প্রবোধ চন্দ্র কিন্তু মা মহামায়া দেবী ছেলেকে অমন খটোমটো নামে ডাকতে চাইতেন না। তিনি তার এই ডাকাবুকো ছেলেটাকে বরাবরই ডাকতেন ‘মানা’ বলে। ডানপিঠে গোছের। পড়াশুনার চেয়ে খেলাধুলার দিকেই ঝোঁক। সুযোগ পেলেই পাড়ার আখড়ায় গিয়ে কুস্তির লড়াই দেখা ছিল তার কাছে সবচেয়ে প্রিয় কাজ। ইন্দুবাবুর পাঠশালায় পড়ার সময় সহপাঠিদের কুস্তির দুই একটা প্যাঁচ কষেও দিতে ছাড়তেন না। এ নিয়ে কম ঝক্কি পোহাতে হয়নি শিক্ষক ইন্দুবাবুকে। ইন্দুবাবুর পাঠশালা শেষ করার পর তাকে ভর্তি করিয়ে দেয়া হল স্কটিশ চার্চ কলেজিয়েট স্কুলে। আর প্রবোধ চন্দ নিজের আগ্রহে সে আমলের বিখ্যাত কুস্তিগীর (লাইট হ্যাভিওয়েটে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন) গোবর পালোয়ানের কাছে শিখতে লাগলেন কুস্তির নানা প্যাঁচ। ওদিকে অন্ধ গায়ক কাকা কৃষ্ণ চন্দ্র দের তখন সারা ভারতে নামডাক। তিনিই ভাইপোকে ধরে এনে বসিয়ে দিলেন তানপুরার সামনে। নিজেই সযত্নে তালিম দিতে লাগলেন। ব্যস, সঙ্গীত, লেখাপড়া আর কুস্তি চলতে লাগল একই সাথে। স্কটিশ চার্চ কলেজ থেকে ডিগ্রি পাস করে প্রবোধ চন্দ্র ভর্তি হলেন বিদ্যাসাগর কলেজে। সঙ্গীতে ভাইপোর প্রতিভা বুঝতে কষ্ট হয়নি কাকা কৃষ্ণ চন্দ্রের। তিনি তাকে তালিম নিতে পাঠালেন ওস্তাদ দবির খাঁর কাছে। কলেজে বন্ধুদের কাছেও গাইয়ে হিসাবে কদর বাড়তে লাগল তার। ক্লাসের ফাঁকে ফাঁকে বন্ধুরা এসে জেঁকে ধরত, “এই মানা, গা না একখানা প্লিজ!” বেশি সাধাসাধির দরকার হত না। টেবিল চাপড়ে শুরু হয়ে যেত কে.এল. সায়গল, পঙ্কজ কুমার মল্লিক বা তার কাকার গাওয়া বিখ্যাত সব গান। আস্তে আস্তে কলেজের শিক্ষকরাও জেনে গেলেন প্রবোধ চন্দ্রের গুণের কথা। কলেজ ফাংশন মানেই ‘মানা’। পরপর তিন বছর আন্তঃকলেজ সঙ্গীত প্রতিযোগিতায় প্রথম হয়ে তিনি তাক লাগিয়ে দিলেন সবাইকে। খাতাপত্রে নাম প্রবোধ চন্দ্র দে হলেও বন্ধুবান্ধব আর শিক্ষকরা তাকে তার মায়ের দেয়া সেই ‘মানা’ নামে ডাকতেই অভ্যস্ত হয়ে উঠলেন। তবে তিনি নিজে শুধু এই নামের শেষ অক্ষরটার সাথে আরো একটা ‘ন’ যুক্ত করে হয়ে গেলেন মান্না। এভাবেই সৃষ্টি হল সমস্ত বাঙালির প্রিয় নাম ‘মান্না দে’। লোকে আগ্রহ ভরে শুনত, মান্না গাইতেন। মহল্লার জলসাগুলোতে প্রায় অনিবার্য হয়ে উঠলেন মান্না। কিন্তু তাই বলে গান নিয়ে তার কোন বাড়তি স্বপ্ন ছিল না। ভাবতেন পড়াশুনা শেষ করে ব্যারিস্টার-ট্যারিস্টার হবেন হয়তো। অথবা কাকার হাত ধরে ঢুকে পড়বেন ফিল্ম লাইনে। প্রথম সুযোগটা এল ১৯৪২ সালে। কাকা কৃষ্ণ চন্দ্র তখন বম্বেতে (এখনকার মুম্বাই) এইচ. পি. দাস পরিচালিত একটা ছায়াছবিতে সঙ্গীত পরিচালনা করছেন। মান্না বম্বেতে গিয়ে ওই ছবির সহকারী সঙ্গীত পরিচালকের দায়িত্ব নিলেন। ফুর্তিবাজ মান্না খুব সহজে মন জয় করলেন সবার। হাসিঠাট্টা, চুটকিতে মাতিয়ে রাখতেন গোটা স্টুডিও। কাকা কৃষ্ণ চন্দ্র ছাড়া সে আমলে বম্বের আরেক ডাকসাইটে বাঙালি সঙ্গীত পরিচালক ছিলেন আমাদের কুমিল্লার মানুষ—কুমার শচীন দেব বর্মন। যাকে সবাই শচীন কর্তা নামে ডাকতে অভ্যস্ত। একই বছর মান্না দে তারও সহকারী হিসাবে দায়িত্ব নিলেন। তবে গানে তালিম নেয়াটা ছাড়লেন না। বম্বেতে ওস্তাদ আমান আলি খাঁ ও ওস্তাদ আব্দুল রহমত খাঁর কাছে চলতে লাগল তার সঙ্গীতে তালিম। চলচ্চিত্রে মান্নার প্রথম প্লেব্যাকের সুযোগ এল ১৯৪২ সালে। কাকা কৃষ্ণ চন্দ্র দের সুরে ‘তামান্না’ ছবিতে। সুরাইয়ার সঙ্গে কণ্ঠ মিলিয়ে গাইলেন ‘জাগো আয়ি ঊষা পঞ্ছি বোলে জাগো’। কিন্তু সে গান সেভাবে মন কাড়েনি শ্রোতা-দর্শকদের। এরপরের বছর, অর্থাত্ ১৯৪৩ সালে ‘রামরাজ্য’ সিনেমায় শঙ্কর রাও ব্যাসের সুরে আর রমেশ গুপ্তের কথায় গাইলেন ‘চল তু দূর নগরিয়া’ ও ‘আজব বিধি কা লেখ, সে পোড়া নেহি যায়ে’সহ গোটা চারেক গান। এ গানগুলো পৌঁছে গেল ভারতের ঘরে ঘরে। এরপর ১৯৪৪ সালে অনিল বিশ্বাসের সুরে ‘জোয়ার ভাটা’, ‘কাদম্বরি’, শঙ্কর রাও ব্যাসের সুরে ‘কবিতা’ চলচ্চিত্রেও প্লেব্যাক করলেন। তবে ১৯৫০ সালে ‘মশাল’ চলচ্চিত্রে শচীন কর্তার সুরে ‘উপর গগন বিশাল’ গেয়ে বাজিমাত করলেন মান্না। ১৯৫২ সালে প্লেব্যাক করলেন ‘অমর ভূপালীতে’। সেটা ইতিহাস গড়ল রীতিমত। রাগাশ্রয়ী গানগুলো সম্পূর্ণ ভিন্নমাত্রা পেল তার কণ্ঠে। তবে প্রথম দিকের এসব চলচ্চিত্রে তার গানে যারা লিপ দিতেন, তাদের অধিকাংশই বয়স্ক অভিনেতা। এনিয়ে মান্নার আফশোষ কম ছিল না। বন্ধুদের নিয়ে সিনেমা হলে গিয়ে নিজের গাওয়া গান বুড়োদের লিপে দেখতে ভালো লাগত না তার। শৈশবে কুস্তির প্যাচে ত্যাড়া লোক সোজা করার যে দুর্দান্ত বাসনা তার মনে ছিল, বম্বেতে গিয়েও মাঝে মাঝে তা প্রবল হয়ে উঠতে চাইত। কোন চলচ্চিত্রে প্লেব্যাকের জন্য হয়ত তার সঙ্গে চুক্তি হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে প্লেব্যাক করানো হত অন্য কাউকে দিয়ে। এমনকি রেকর্ডিং রুমে মাইক্রোফোনের সামনে থেকেও তাকে তুলে দেয়া হয়েছে। বম্বেতে এমন ঘটেছে বহুবার। তবে কুস্তির প্যাঁচে নয়, নিজের অসাধারণ কণ্ঠমাধুর্য, প্রতিভা আর নিষ্ঠার জোরে তিনি জবাব দিয়েছেন এসব অন্যায়ের। ধীরে ধীরে তিনি নিজেকে প্রতিষ্ঠা করেছেন শুধু বম্বেতে নয়—সর্বভারতীয় সঙ্গীত অঙ্গনে। মান্না দে দীর্ঘকাল শচীন কর্তার সহকারী হিসাবে কাজ করেছেন। জীবনের শেষদিন পর্যন্ত তিনি শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করতেন শচীন দেব বর্মণের কথা। একই সঙ্গে রসিক ও প্রখর ব্যক্তিত্বসম্পন্ন শচীন কর্তাকে ঘিরে মান্না দের স্মৃতিও অনেক। ‘জীবনের জলসা ঘরে’ তিনি লিখেছেন, ‘শুধু সঙ্গীত পরিচালনার কাজে নয়, বলতে গেলে তখন আমি সব কিছুতেই তার সহকারী। শচীন দা’র নির্দেশে গানের নোটেশন করি, ওঁর করা সুর শিল্পীদের গলায় তুলে দেই। শচীন দা চাইলে কলা এনে দেই, পান এনে দেই, ছোলা-বাদাম ভাজা এনে দেই। শচীন দা’র থলে বয়ে দেই। ‘তালাশ’ ছবিতে শচীন দা’র সেই বিখ্যাত সুর ‘তেরি নয়না তালাশ করকে’। গানটায় সুর করার পর শচীন দা বললেন, “মানা, তুই এইডা গাইবি।” তিনি শেখাচ্ছেন আমাকে। এমন সময় ছবির প্রযোজক সেখানে এসে বললেন, “এ গান কি মান্না সাহাব গাইবে নাকি? মুকেশ কি হল?” শচীন দা তার নিজস্ব স্টাইলে হিন্দিতে বললেন, “এ গান গাওয়ার সাধ্য মুকেশের নেই।” পরিচালক বললেন, “তাহলে সে গান বানালেন কেন, যে গান মুকেশ গাইতে পারবে না!” শচীন দা একেবারে অনড় ছিলেন। আমিই গাই গানখানি। এর পরের ইতিহাস তো সবার জানা।’ মান্না প্রথম বাংলা গান রেকর্ড করলেন ১৯৫৩ সালে। ননফিল্মি মৌলিক গান- গৌরি প্রসন্ন মজুমদারের কথায় আর নিজের সুরে। রেকর্ডের এক পিঠে ‘কত দূরে আর নিয়ে যাবে বল’ এবং অন্য পিঠে ‘হায় হায়গো রাত যায় গো, দূরে দূরে রবে কি’। সে গান প্লাবনের মত ভসিয়ে নিয়ে গেল বাঙালি শ্রোতাদের। এত বছর পরও এ গান দু’টির আবেদন বাঙালি শ্রোতা হূদয়ে অজো অমলিন। এরপর ১৯৫৬ সালে একই গীতিকারের কথায় ‘তুমি আর ডেকো না’ আর ‘তীর ভাঙা ঢেউ আর নীড় ভাঙা ঝড়’। ১৯৫৭ সালে ‘আমি আজ আকাশের মত একেলা’ ১৯৫৮ সালে ‘চাঁদের আশায় নিভায়ে ছিনু প্রদীপ আপন হাতে’, ‘এই কূলে আমি আর ওই কূলে তুমি’, ‘এজীবনে যত ব্যথা পেয়েছি’, ‘আমি সাগরের বেলা, তুমি দুরন্ত ঢেউ’। প্রতিটি গানই ইতিহাস গড়ল। রীতিমত মান্না ক্রেজ শুরু হয়ে গেল বাংলায়। বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে। বাংলা চলচ্চিত্র বলতে তখন উত্তম কুমার সূচিত্রা সেনকেই বোঝাত। আর তাদের কণ্ঠে প্লেব্যাক মানেই হল হেমন্ত মুখোপাধ্যায় আর সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়ের কণ্ঠ। তবে মান্নার বিপুল জনপ্রিয়তা থেকে শুরু করে টালিগঞ্জের নামকরা অভিনেতার লিপে একের পর এক বিস্ময় জাগানো গান গেয়ে চললেন তিনি। সারা জীবনে পদ্মভূষণ ও পদ্মশ্রীসহ বহু পুরস্কার অর্জন করেছেন তিনি। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় তাকে ডিলিট উপাধিতেও ভূষিত করে। তবে এসব সম্মান ও পুরস্কার তার অবদানের তুলনায় নগন্য বলে মনে করেন অধিকাংশ সঙ্গীত বোদ্ধা। উপমহাদেশের সঙ্গীত সম্রাজ্ঞী নামে পরিচিতি পাওয়া লতা মঙ্গেশকরও একই মত প্রকাশ করেছেন। গতকাল থেকে মান্না দে নামের মানুষটা হয়ে গেলেন ইতিহাস। নতুন কোন গান আর শোনা যাবে না তার কণ্ঠে। তবে তার গাওয়া ‘কফি হাউস, সে আমার ছোট বোন, কত দূরে আর নিয়ে যাবে বল, আমি তার ঠিকানা রাখিনি, আমি নিরালায় বসে বেঁধেছি আমার স্মরণ বীণ, বাজে গো বীণা, ঝর ঝর বৃষ্টিতে থর থর দৃষ্টি, তুমি আর ডেকো না, কী দেখলে তুমি আমাতে, সেই তো আবার কাছে এলে, বড় একা লাগে, লাল মেহেদির নকশা হাতে, এ জীবনে যত ব্যথা পেয়েছি, ও চাঁদ সামলে রেখো জোছনাকে, আমি যে জলসা ঘরে—এমনি বহু বাংলা গান অথবা তার কণ্ঠের রবীন্দ্র সঙ্গীত, নজরুল সঙ্গীত, হিন্দি অথবা রাগাশ্রয়ী গানগুলো উপমহাদেশের আকাশে-বাতাসে ভেসে বেড়াবে যুগের পর যুগ।