শাহজাহান ওমরকে জিজ্ঞাসাবাদ

বেনামে কয়েকশ কোটি টাকার সম্পদ

আপডেট : ২৪ অক্টোবর ২০১৩, ২২:৩০
বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও সাবেক আইন প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার শাহজাহান ওমর বীর উত্তমকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। জ্ঞাত আয় বহির্ভূত কয়েকশ কোটি টাকার সম্পদ অর্জন এবং বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। গতকাল সকালে দুদকের প্রধান কার্যালয়ে দুদক উপ-পরিচালক ও অনুসন্ধান কর্মকর্তা মো. হারুন-অর-রশিদ তাকে দুই ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করেন। জিজ্ঞাসাবাদে শাহজাহান ওমর সাভারে ১৫০ কোটি টাকা মূল্যের সাঙ্গোর টেক্সটাইলসহ আরো অন্তত দেড়শ কোটি টাকার সম্পত্তির কথা মৌখিক ভাবে দুদক কর্মকর্তার কাছে স্বীকার করেছেন। তবে এসব সম্পদের অধিকাংশই তার স্ত্রী, ছেলে-মেয়ে ও জামাইয়ের নামে রয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন। এসব তথ্যের ভিত্তিতে অনুসন্ধান কর্মকর্তা তার সম্পদ সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র দুদকে জমা দেয়ার কথা বললে আগামী ৪ নভেম্বর কমিশনে জমা দেবেন বলে প্রতিশ্রুতি দেন। তবে অর্থ পাচারের বিষয়টি অস্বীকার করেছেন তিনি। দুদক সূত্র জানায়, জিজ্ঞাসাবাদে ব্যারিস্টার শাহজাহান ওমর ও পরিবারের সদস্যের নামে সাভারে ১৫০ কোটি টাকা মূল্যের সাঙ্গোর টেক্সটাইলসহ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় বেশ কয়েকটি ফ্ল্যাট, বারিধারার পার্ক এভিনিউতে সাড়ে ৭ কাঠা জমির ওপর ৩ তলা একটি ভবন থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তবে এসব সম্পদের অধিকাংশই তার স্ত্রী, ছেলে-মেয়ে ও জামাইয়ের নামে রয়েছে। গত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে ২০০৭ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর শাহজাহান ওমর, তার স্ত্রী মেহজাবিন ফারজানা এবং ছেলে আদনান ওমরের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন এবং দুর্নীতি দমন কমিশনে মিথ্যা সম্পদ বিবরণী দেয়ার অভিযোগে মামলা করে দুদক। এরপর ২০০৮ সালে শাহজাহান ওমরকে ১৩ বছর সশ্রম কারাদণ্ড, ১০ লাখ টাকা জরিমানা এবং তা অনাদায়ে আরো এক বছর সশ্রম কারাদণ্ড দেন বিশেষ জজ আদালত-৯-এর বিচারক। আর দুর্নীতিতে সহযোগিতা করার অপরাধে তার স্ত্রী মেহজাবিন ফারজানাকে তিন বছর কারাদণ্ড, পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা এবং তা অনাদায়ে আরো ছয় মাস কারাদণ্ড দেয়া হয়। পরে তিনি এ আদেশের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আবেদন করেন। আদালত ওই আদেশের ওপর স্থগিতাদেশ দেয়।