বর্তমান মহাজোট সরকারের মেয়াদের শেষ পর্যায়ে ২টি বেসরকারি বিল পাস হয়েছে। চলতি নবম জাতীয় সংসদে এ নিয়ে ৩টি বেসরকারি বিল পাস হলো। বেসরকারি সদস্য দিবসে গতকাল বৃহস্পতিবার পাস হওয়া বিল ২টি হচ্ছে আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য সাবের হোসেন চৌধুরীর আনা ‘নির্যাতন এবং হেফাজতে মৃত্যু (নিবারণ) বিল ২০১৩’ এবং জাতীয় পার্টির (এ) মো. মুজিবুল হকের ‘পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ বিল ২০১৩’। এর মধ্যে ‘নির্যাতন এবং হেফাজতে মৃত্যু (নিবারণ)-২০১৩’ বিলে আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী বা সরকারি কর্মকর্তার হেফাজতে মৃত্যু হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। আর বাবা-মাকে ভরণ-পোষণ না করলে সন্তানের বিরুদ্ধে রাখা হয়েছে জেল-জরিমানার বিধান।
স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে গতকাল বিকালে জাতীয় সংসদের অধিবেশন শুরু হলে প্রশ্নোত্তর পর্ব এবং স্থায়ী কমিটির রিপোর্ট উপস্থাপন শেষে রাতে বেসরকারি বিল ২টি কণ্ঠভোটে পাস করা হয়। ‘নির্যাতন এবং হেফাজতে মৃত্যু (নিবারণ)-২০১৩’ বিলে বলা হয়েছে, সরকারি কোনো কর্মকর্তার বা আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর হেফাজতে কোনো ব্যক্তির মৃত্যু হলে অভিযুক্ত ব্যক্তির ন্যূনতম যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড অথবা ১ লাখ টাকা জরিমানা এবং ক্ষেত্র বিশেষ অপরাধীকে উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করা যাবে। এছাড়াও ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিকে ক্ষতিপূরণ দেয়ার জন্য দণ্ডপ্রাপ্তকে অতিরিক্ত ২ লাখ টাকা জরিমানা দিতে হবে।
এর আগে মো. মুজিবুল হক ‘পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ বিল ২০১৩’ উত্থাপন করে পাসের প্রস্তাব করেন। বিলে বলা হয়েছে, পিতার ঔরসে এবং মাতার গর্ভে জন্ম নেয়া সন্তান তার পিতা-মাতাকে ভরণ-পোষণ না করলে তা হবে জামিন অযোগ্য অপরাধ। তবে আপোষযোগ্য। কোন সন্তানের স্ত্রী বা স্বামী পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ প্রদান না করতে প্ররোচণা দিলে উক্ত স্ত্রী বা স্বামীও কিংবা অন্য সহায়তাকারী উপরোক্ত অপরাধে অভিযুক্ত হবেন। বিলের বিধান অনুযায়ী সন্তানের আয়ের ১০ শতাংশ পিতা-মাতাকে দিতে হবে।
