সোহরাওয়ার্দী উদ্যানেই সমাবেশ করতে হবে

আপডেট : ২৪ অক্টোবর ২০১৩, ২২:৩৬
চরম উত্তেজনাকর অবস্থার মধ্যে অবশেষে আজ (শুক্রবার) বিএনপিকে সমাবেশ করার অনুমতি দিয়েছে ঢাকা মেট্টোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। বিএনপির সমাবেশ করতে হবে সোহরাওয়ার্দী উদ্যোনে। তবে গতকাল সন্ধ্যায় বিএনপির একটি প্রতিনিধি দল পুলিশ কমিশনারের সঙ্গে দেখা করে বলেছেন, তারা সোহরাওয়ার্দী উদ্যান নয়, নয়া পল্টনে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে সমাবেশ করতে চান। কিন্তু পুলিশ কমিশনারের সাফ কথা, সমাবেশ করতে হলে তাদের সোহরাওয়ার্দী উদ্যানেই করতে হবে। স্থান বদল করার কোন সুযোগ নেই। বিএনপিকে সমাবেশ করার এই অনুমতি দেয়া হয়েছে ১৩টি ‘শর্তে’। পুলিশের এই অনুমতির মধ্য দিয়ে শুক্রবারকে ঘিরে মানুষের উত্তেজনা খানিকটা হলেও প্রশমিত হয়েছে। তারপরও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য আজ সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় থাকবে। পুরো প্রস্তুতি নিয়ে মাঠে থাকবে পুলিশ। গতকাল সন্ধ্যায় রাজধানীতে নামানো হয়েছে ২০ প্লাটুন বিজিবি। সমাবেশের অনুমতি দেয়ার পর বিএনপির একটি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠক করেন পুলিশ কমিশনার। বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ জয়নুল আবদিন ফারুকের নেতৃত্বে চার সদস্যের ওই প্রতিনিধি দলে ছিলেন বরকতউল্লাহ বুলু এমপি, শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি এমপি ও আবুল খায়ের ভুঁইয়া এমপি। বৈঠক শেষে বের হয়ে বরকতউল্লাহ বুলু সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা পুলিশ কমিশনারকে বলেছি, আইনের প্রতি আমরা শ্রদ্ধাশীল। কিন্তু এত অল্প সময়ের মধ্যে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশ করা সম্ভব নয়। তাই আমরা নয়াপল্টন কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে সমাবেশের অনুমতি দেয়ার অনুরোধ জানিয়েছি। আশা করি কমিশনার বিষয়টি বিবেচনা করবেন।’ বৈঠকের পর মিডিয়া সেন্টারে এক ব্রিফিংয়ে পুলিশ কমিশনার বেনজির আহমেদ বলেন, ১৩টি শর্তে বিএনপিকে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশ করার অনুমতি দেয়া হয়েছে। কোন শর্ত ভঙ্গ হলে তাত্ক্ষণিকভাবে তাদের সমাবেশের অনুমতি বাতিল করা হবে। আইন-শৃঙ্খলার বিঘ্ন ঘটে এমন কোন কাজ তারা করতে পারবে না। এমনকি সমাবেশে লাঠি-সোটা বা ধারালো কোন অস্ত্র বহন করা যাবে না। আইনের প্রতি শ্রদ্ধা দেখিয়ে বিএনপি সোহরাওয়ার্দী উদ্যানেই সমাবেশ করবে বলে আশা করেন তিনি। আর আওয়ামী লীগের অনুমতির বিষয়ে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ প্রথমে সমাবেশের কথা বললেও পরে তারা বাতিল করেছে। নতুন করে তাদের কোন আবেদন না পাওয়ায় বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে না। আবেদন করলে পরে বিষয়টি দেখা হবে। নির্বাচনকালীন নির্দলীয় সরকারের দাবিতে আন্দোলনরত বিএনপি নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোট প্রায় দুই সপ্তাহ আগে শুক্রবারের এই জনসভার কর্মসূচি ঘোষণা করে। তখন নয়া পল্টন, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ও নয়াপল্টন ময়দানে জনসভার অনুমতি চেয়ে মহানগর পুলিশের কাছে আবেদন করে তারা। এদিকে একই দিন আওয়ামী লীগও রাজধানীতে কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেয়। প্রধান দুই রাজনৈতিক দলের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচিতে সংঘাতের আশঙ্কায় গত ২০ অক্টোবর থেকে ঢাকা মহানগর এলাকায় সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ করে পুলিশ। গতকাল দুপুরে পুলিশ কমিশনারের কাছে অনুমতি চেয়ে নতুন করে আবেদন করে বিএনপি। বিএনপির চার সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল দুপুরে ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার ইব্রাহিম ফাতেমির কাছে এ আবেদনপত্র জমা দেন। এর ঘণ্টা চারেক পর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে তাদের শর্তসাপেক্ষে অনুমতি দেয়া হয়। অতিরিক্ত কমিশনার ইব্রাহিম ফাতেমির সঙ্গে পৌনে একঘণ্টা বৈঠক করার পর বের হয়ে বিরোধী দলীয় চীফ হুইপ জয়নাল আবদিন ফারুক সাংবাদিকদের জানান, আমরা মহাসমাবেশের অনুমতির জন্য এসেছিলাম। যদিও ইতোপূর্বেও অনুমতির জন্য আবেদন জমা দেয়া হয়েছে। আগের আবেদনপত্রে সমাবেশ করার সম্ভাব্য স্থান হিসেবে ৩টি জায়গার উল্লেখ করা হয়েছিল। এবারও দলীয় প্যাডে লেখা ওই আবেদনপত্রে শুধুমাত্র নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনেই সমাবেশ করার অনুমতি চাওয়া হয়েছে। বিষয়টি তারা বিবেচনা করবেন বলে জানিয়েছেন। এদিকে সমাবেশকে কেন্দ্র করে উত্তেজনাকর রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে রাজধানীতে বডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সদস্য নামানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। গতকাল সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের এ কথা জানান স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এডভোকট শামসুল হক টুকু। তিনি বলেন, শুক্রবার যদি বিরোধী দল আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাতে চায় এবং নাশকতার চেষ্টা করে তবে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সর্বোচ্চ শক্তি দিয়ে তা প্রতিহত করবে। মঞ্চ তৈরির বাঁশ-কাঠ জব্দ নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে মঞ্চ তৈরির জন্য গতকাল বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে বাঁশ-কাঠ নেয়া হচ্ছিল। সেগুলো জব্দ করেছে পুলিশ। পুলিশের মতিঝিল বিভাগের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এই তথ্য নিশ্চিত করে ইত্তেফাককে বলেন, পুলিশ কমিশনার বিএনপিকে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশ করার অনুমতি দিয়েছেন। নয়াপল্টনে মঞ্চ তৈরীর কোন অনুমতি নেই। তারপরও কয়েকটি গাড়িতে করে নয়াপল্টনে কিছু বাঁশ ও কাঠ নেয়া হচ্ছিল। ফকিরাপুল থেকে সেগুলো জব্দ করা হয়েছে। তবে বিএনপি নেতারা বলেছেন, দলীয় কার্যালয়ের ভেতর থেকে অভিযান চালিয়ে পুলিশ মঞ্চ তৈরির বাঁশ ও কাঠসহ ব্যানার-ফেস্টুন জব্দ করে নিয়ে গেছে