অনেক আফসোসের এক ড্র

আপডেট : ২৫ অক্টোবর ২০১৩, ২০:৪৫
এক মোমিনুল হকের কল্যাণেই এক গাদা রেকর্ডের দেখা মিলেছে এই মিরপুর টেস্টে। শেষ বেলায় কাল পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান যখন শুরু হল, প্রশ্ন উঠল—ছাদের নিচে আটকা জায়গা পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান আয়োজনও কী একটা রেকর্ড! এই আজব রেকর্ড নিয়ে মজা করা যেতে পারে; কিন্তু খেলোয়াড় বা দর্শকদের সঙ্গে এই বৃষ্টি যেটা করল, সেটাকে আর মজা বলা চলছে না। মোমিনুল আর তামিমের কল্যাণে পেছন থেকে এসে মিরপুর টেস্টকে দারুণ জমিয়ে দিয়েছিল বাংলাদেশ। গতকাল পঞ্চম দিনে শ্বাসরুদ্ধকর ক্রিকেট দেখার আশায় মাঠে এসেছিলেন দর্শকরা। কিন্তু বেরসিক বৃষ্টি তাদের সে উত্তেজনা ছোঁয়া পেতে দিল না। সকাল থেকে টানা বৃষ্টিতে বেশ বোঝা যাচ্ছিল, শেষ দিনে আর খেলা আয়োজন সম্ভব না। শেষ পর্যন্ত বৃষ্টি মাথায় নিয়েই বেলা দুটোয় শেষ মাঠ পরিদর্শনে দিনের খেলা পরিত্যক্ত ও ম্যাচ ড্র বলে ঘোষণা করেন আম্পায়াররা। বাংলাদেশ এ টেস্টের প্রথম ইনিংসে ভালভাবেই পিছিয়ে পড়েছিল। তামিমের ৯৫ এবং মার্শাল আইয়ুব ও মোমিনুল হকের দুটি চল্লিশোর্ধ্ব রানের ইনিংসের পরও ২৮২ রানে অলআউট হয়েছিল স্বাগতিকরা। জবাবে কোরি অ্যান্ডারসনের সেঞ্চুরি ও শেষ দিকের ব্যাটসম্যানদের প্রতিরোধে ৪৩৭ রান তোলে নিউজিল্যান্ড। ১৫৫ রানে পিছিয়ে থেকে ব্যাট করতে নামা বাংলাদেশ দ্বিতীয় ইনিংসে মাত্র ৫৫ রানে ২ উইকেট হারিয়ে ফেলে। মোমিনুল ও তামিম ১৫৭ রানের অসামান্য এক জুটি করে বাংলাদেশকে খেলায় ফেরান। তামিম স্বভাববিরোধী ২১৮ বলে ৭০ রানের ইনিংস খেলে ফিরে এলেও এরপর মোমিনুলের সঙ্গে সাকিব আল হাসান শক্ত অবস্থানে নিয়ে যেতে থাকেন বাংলাদেশকে। ফলে মাত্র তিন উইকেটে ২৬৯ রান নিয়ে চতুর্থ দিনের খেলা শেষ করে বাংলাদেশ; সেসময় ১১৪ রানে বিপক্ষকে পেছনে ফেলার পাশাপাশি হাতে ৭ উইকেট অবশিষ্ট ছিল। গতকাল আশা ছিল এখান থেকে বাংলাদেশ দল এগিয়ে যাওয়ার ব্যবধানটা আরও বড় করে নিউজিল্যান্ডকে আবার ব্যাটিংয়ে ডাকবে। আশা ছিল, অসাধারণ সেঞ্চুরি করা মোমিনুল ১২৬ রানের অপরাজিত ইনিংসটা আরেকবার ডাবল সেঞ্চুরির স্বপ্নের দিকে টেনে নিয়ে যাবেন। কিছুই হল না বৃষ্টিতে। সকাল থেকে প্রায় হাজার পাচেক দর্শক এই ছুটির দিনে বৃষ্টি মাথায় করেও অপেক্ষা করলেন খেলা শুরুর জন্য। কিন্তু খেলা তো দূরে থাক, পুরস্কার বিতরণীয় অনুষ্ঠানটাও মাঠে আয়োজন করা সম্ভব হল না। নিউজিল্যান্ডের অধিনায়ক ব্রেন্ডন ম্যাককালাম পরিষ্কার বলে গেলেন, তারা সিরিজ জয়ের স্বপ্ন নিয়ে এলেও যেভাবে শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ খেলেছে, তাতে ড্রটাতেও স্বস্তি টের পাচ্ছেন। আর ঠিক উল্টো মুশফিকুর রহিম বললেন, ‘সিরিজ ড্র করাটা এতোদিন পর খেলতে নেমে খানিকটা স্বস্তির। কিন্তু আমি ব্যক্তিগতভাবে খুবই হতাশ। কারণ, আমরা দুটো ম্যাচেই জয়ের অবস্থায় ছিলাম। সিরিজে আমাদের জয় পাওনা ছিল।’ মুশফিক তাদের পারফরম্যান্স বিবেচনায় এ কথা বলতেই পারেন। তবে একটা ব্যাপার ঠিক যে, ইতিহাস বলছে, এই ড্রও একেবারে কম পাওয়া নয়। এই প্রথম বাংলাদেশ ‘বড় টেস্ট দল’-এর বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ ড্র করল। এর আগে বাংলাদেশ দু’ বার সিরিজ জিতলেও সিরিজ ড্র করেছে একবারই—জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সর্বশেষ সফরে। সেবার ১-১ ব্যবধানে ড্র হলেও দু ম্যাচই অমীমাংসিত অবস্থায় ড্র হল এই প্রথম। এটাকেও নিশ্চয়ই উন্নতি বলতে হবে।