দুবাই টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসের শুরুতেই তিন উইকেট হারায়। ফলে সিরিজের দ্বিতীয় এই টেস্ট বাঁচানো দলটির জন্য কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। গতকাল শুক্রবার টেস্টের তৃতীয় দিনে অল আউট হওয়ার আগে আফ্রিকা ৪১৮ রানের লিড নেয়।
আফ্রিকা প্রথম ইনিংসে ৫১৭ রানের বিরাট স্কোর দাঁড় করায় পাকিস্তানিদের সামনে। এরপর লাঞ্চের আগেই পাকিস্তানের দুই ওপেনার শান মাসুদ এবং খুররাম মনজুরকে শূন্য রানে সাজঘরে ফেরেন। দিন শেষে পাকিস্তানের চার উইকেটের বিনিময়ে ১৩২ রান সংগ্রহ করে। আজহার আলি ১৯ এবং ইউনিস খান ৩৬ রানে আউট হন। পাকিস্তান এখনো ২৮৬ রানে পিছিয়ে আছে। তাই ইনিংস পরাজয়ের সম্ভাবনাও একেবারে উড়িয়ে দেয়া যায় না।
ইনিংসের চতুর্থ বলে মাসুদকে আউট করে ডেল স্টেইন পাকিস্তানের দ্বিতীয় ইনিংসে প্রথম আঘাত হানেন। এরপর দ্বিতীয় ওভারে বল করতে এসে ভেরনন ফিলেন্ডার খুররাম মনজুরকে আউট করেন। দলীয় দুই রানের মাথায় দুই উইকেট হারায় পাকিস্তান। তৃতীয় উইকেটে আজহার আলি এবং ইউনিস খান ৪৬ রান যোগ করেন। গতকাল আফ্রিকা ব্যাট করতে নেমে ৫৭ রান তুলতেই ছয় উইকেট হারিয়ে ফেলে। আগের দিন চার উইকেটে ৪৬০ রান নিয়ে মাঠ ছাড়ে গ্রাহেম স্মিথের দলটি। আফ্রিকার ইনিংসে ধস নামান সাঈদ আজমল এবং মোহাম্মদ ইরফান। মাত্র সাত রান যোগ করতেই ইরফানের বলে আদনান আকমলের হাতে কট বিহাইন্ড হয়ে ১৬৪ রানে আউট হন এবি ডিভিলার্স। এরপর আজমলের বলে ব্যক্তিগত ২৩৪ রানে সাজঘরে ফেরেন স্মিথ। ডিভিলার্স এবং স্মিথ জুটি বেঁধে ৩৭৬ মিনিট ক্রিজে থেকে পঞ্চম উইকেটে দক্ষিণ আফ্রিকার রেকর্ড ৩৩৮ রানের জুটি গড়েন। স্মিথ সাড়ে দশ ঘন্টা ক্রিজে থেকে ৩৮৮টি বল মোকাবেলা করেন। আজমলের বলে ইউনিস খানের হাতে ক্যাচ তুলে দেয়ার আগে ১৬টি বাইন্ডারি হাকান প্রোটিয়া অধিনায়ক। স্মিথের ক্যাচটি নিয়ে ইউনিস জাভেদ মেয়াদাদকে পেছনে ফেলে টেস্টে এখন পাকিস্তানের সর্বোচ্চ ক্যাচ মালিক। স্মিথ তার ৯৩তম শিকার। মেয়াদাদের থেকে ৩৮টি ম্যাচ কম খেলেই ‘বাড়ে মিয়া’কে ছাড়িয়ে গেলেন ইউনিস।
ডিভিলার্স এবং স্মিথ আউট হওয়ার পর বাকি প্রোটয়া ব্যটসম্যানরা আসা যাওয়ার মধ্যে ছিলেন। আজমল ছয়টি এবং ইরফান তিনটি উইকেট শিকার করেন।
দক্ষিণ আফ্রিকার শাস্তি
দুবাইতে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে চলমান দ্বিতীয় টেষ্টের তৃতীয় দিন শুক্রবার বল টেম্পারিংয়ের দায়ে দক্ষিণ আফ্রিকার ৫ রান কেটে নেয়া হয়েছে।
টেলিভিশন রিপে¬তে দেখা গেছে দক্ষিণ আফ্রিকার ফিল্ডার ফাফ ডু পে¬সিস তার জার্সির সঙ্গে বল ঘষেছেন এবং যাতে বলে আচর পড়েছে। বল টেম্পারিংয়ের পদক্ষেপ হিসাবে এ ঘটনাকে বিচার করে শাস্তি হিসাবে দক্ষিণ আফ্রিকার ৫ রান কেটে নেয়া হয়েছে। আম্পয়ার অস্ট্রেলিয়ার রড টাকার এবং ইংল্যান্ডের ইয়ান গুড দক্ষিণ আফ্রিকা অধিনায়ক গ্রায়েম স্মিথকে ডেকে বল পরিবর্তন করেন এবং পাকিস্তানের সঙ্গে ৫ রান যোগ করেন।
