চালের বাজার দরদামের বিতর্ক

আপডেট : ১৯ মে ২০১৯, ২১:৫৭

বোরো ধান কাটার মৌসুম চলছে। ভালো আমন ধান মাড়াইয়ের পর এবার বাম্পার বোরো উত্পাদনের কর্তন চলছে। আবহাওয়া অনুকূল থাকায় আশা করা যায় এবার সর্বাধিক বোরো উত্পাদন হবে। গত বছরে চাল উত্পাদন ছিল সাড়ে ৩৬ মিলিয়ন টনের কিছু বেশি। তার মধ্যে বোরো উত্পাদন হয়েছে প্রায় ২০ মিলিয়ন টন, আমন ১৪ মিলিয়ন টন বাদ-বাকি দুই দশমিক সাত মিলিয়ন টন আউশ ফলেছে। তিনশত সাতষট্টি গ্রাম মাথা পিছু চাল দৈনিক গড়ে এখন ভোক্তারা খেয়ে থাকেন। সে হিসেবে বাত্সরিক চালের পরিমাণ ১৬৫ মিলিয়ন প্রয়োজন। বীজ, গো খাদ্য, প্রক্রিয়াজাতকরণ বিনষ্টিসহ আমাদের দেশে মোট চালের প্রয়োজন পূর্বতন মজুত বাদ দিলেও সর্বাধিক ত্রিশ মিলিয়ন মেট্রিক টন। সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে সর্বাধিক দুই মিলিয়ন টন যদি আপদকালীন মজুত রাখা হয় তারপরেও উদ্বৃত্ত থাকার কথা সাড়ে চার মিলিয়ন টন অর্থাত্ পঁয়তাল্লিশ লক্ষ টন। এর মধ্যে ভারত থেকে চাল আমদানিও হয়ে থাকে। উদ্বৃত্ত থাকলে অর্থাত্ চাহিদার চেয়ে সরবরাহ বেশি থাকলে দাম কম থাকারই কথা। মূলত গত আমন মৌসুমের শুরু থেকে চালের বাজার দর খুবই সহনীয় পর্যায়ে আছে। বোরো কর্তনের ভরা মৌসুমে এসে দাম এখন উত্পাদন খরচের নিম্নে চলে গেছে। এটা উত্পাদকদের জন্য হতাশাজনক। কৃষি ফসল মাড়াইয়ের ভরা মৌসুমে সকল ফসলের ক্ষেত্রেই দাম মণ প্রতি/কেজি প্রতি সর্বনিম্ন পর্যায়ে চলে আসে, এটা কৃষি পণ্য মূল্যের ক্ষেত্রে অভূতপূর্ব নয়, অভাবিতও নয়। এটাই কৃষি দরদাম ওঠানামার চিরায়ত সত্য। আবহাওয়া নির্ভর প্রথাগত কৃষি চাষ ব্যবস্থাধীন সকল দেশের জন্যই এটা প্রতিষ্ঠিত তত্ত্ব। ফসলের আকাশচুম্বি দাম থাকে ফসল ওঠার পূর্বের মাসে, যদি এটা মজুতযোগ্য ফসল হয়। এই যে বোরো কর্তনের ভরা মৌসুমে এখন দাম নিম্নগামী, এতে সরকারের করণীয় কি? এটা পাঠ্যগত আলোচনা, কৃষি মূল্য বিশ্লেষণ কোর্সে অর্থনীতি ছাত্রদের যা পড়াতাম সে আলোকেই কিছু মন্তব্য করছি যা এখানেও প্রাসঙ্গিক মনে হয়। তাতে বাস্তবায়ন যোগ্য কিছু পরামর্শ বেরিয়ে আসবে।

কৃষিখাত দেশের সবচেয়ে বৃহত্তম বেসরকারি খাত। কোটি কোটি কৃষক কৃষি কাজে নিয়োজিত ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় ১৪০টির মতো ফসল এদেশে কৃষক ফলিয়ে থাকে। কি ফসল উত্পাদন করবে, তা বিবেচনায় নিতে সংসারের প্রয়োজন (খাদ্যপণ্যের ক্ষেত্রে বিশেষভাবে), জমির উপযোগিতা, গত মৌসুমে বিরাজিত দাম, উত্পাদন ঝুঁকি, মূল্য ঝুঁকি এবং তুলনামূলক খরচ ইত্যাদি বিবেচনায় নিয়ে থাকে। কোন ফসল ফলাবে অবশ্যই স্বসিদ্ধান্তেই তারা করে থাকে। যেহেতু কোটি কোটি উত্পাদক একই ফসল ফলায় এবং নির্দিষ্ট মৌসুমে প্রায় এক সঙ্গেই ফসল ঘরে ওঠায় ভোক্তারা খায় ঐ ফসল সারা বছর। তাই উত্পাদন মৌসুমে দাম পড়ে যাওয়া ছাড়া ব্যতিক্রম দেখা যায় না। পূর্ণ প্রতিযোগিতামূলক বাজার কাঠামো কৃষিতেই দেখা যায়। অর্থাত্ অসংখ্য বিক্রেতা, অসংখ্য ক্রেতা, দাম ঠিক হয় বাজারে, সরবরাহ ও চাহিদার ভিত্তিতে। একজন বিক্রেতা নিজের মতো করে চাইলেই দাম পেতে পারে না। বাজারে প্রতিষ্ঠিত দামই মেনে নিতে হবে। এ ধরনের বাজার কাঠামো ভোক্তার জন্য ভালো। উত্পাদক এখানে অসহায়, কেননা তার মতো বিক্রেতা আছে শত শত। এরকম বাজারে মুনাফা সর্বনিম্ন থাকে কিংবা শুধু চলতি খরচটুকু উঠে আসতে পারে। এ কারণেই সবচেয়ে কম লাভজনক ব্যবসা হচ্ছে কৃষি ফসল উত্পাদন।

সাংবিধানিকভাবেই এখন আমরা বাজার অর্থনীতি অনুসরণ করছি। আদর্শিক বাজার অর্থনীতিতে সরকারের ভূমিকা খেলা পরিচালনাকারী রেফারির মতো। বাজার অর্থনীতিতে তিন গ্রুপে বড় খেলোয়াড় হচ্ছে- উত্পাদক, ভোক্তা ও মধ্যস্বত্বভোগী বা ব্যবসায়ী শ্রেণি। এই তিন গ্রুপের খেলোয়াড়রা যাতে যথাযথভাবে নিয়ম মেনে খেলে, সেটি দেখার দায়িত্ব ‘রেফারি’ সরকারের। সরকার ‘রেফারি’ শক্তিশালী না হলে কিংবা খেলোয়াড়দের কোনো গ্রুপের দিকে ঝুঁকে পড়লে কিংবা সমঝোতা দেখালে বাজার অর্থনীতি ব্যর্থ হতে থাকে- তখন সেটা এই সম্মিলিত চার পক্ষের (সরকারসহ) বৃহত্তর অনুকূলে যায় না। একটা অদক্ষ বাজার ব্যবস্থা তৈরি হয়, শেষ বিচারে তা শোষণমূলক হয়ে পড়ে এবং সমাজে অসাম্য তৈরি হবার প্রবণতা সৃষ্টি হয়। সে কারণেই সরকার নিজে ব্যবসায়ীর ভূমিকায় নামতে পারে না-পক্ষপাত এড়ানোর জন্য। ‘সরকার রেফারিকে’ উত্পাদক, ভোক্তা ও ব্যবসায়ী বা মধ্যস্বত্বভোগী যারা গুরুত্বপূর্ণ বিপণন কার্যক্রম সম্পন্ন করে থাকে, সবার স্বার্থকে সমানভাবে দেখতে হবে। এই যে ধানের দাম এখন মাটি ছুঁই ছুঁই, সরকার তাদের সাহায্যে এখন কিভাবে এগিয়ে আসবে সে প্রশ্ন খুবই প্রাসঙ্গিক। তবে মনে রাখতে হবে, বিরাট ভোক্তাকুল, ব্যবসায়ী শ্রেণি এখন বাজার খেলার এই ইস্যুতে পীড়িত নয়। ‘সরকার রেফারি’ তবু খানিকটা ব্যবসায়ীর ভূমিকায় নেমে ধান ক্রয় শুরু করতে পারে। হয়তো টোকেন হিসেবে তা করতে পারে, তবে পুরো ব্যবসায়ীর আচরণ সরকারকে দিয়ে হবে না। সারা দেশে সরকারের ক্রয় কেন্দ্র ও সংরক্ষণ কাঠামো নেই। কোটি কোটি ক্ষুদ্র ক্রেতা থেকে বিভিন্নমানের অল্প-স্বল্প করে ধান ক্রয় অবশ্যই বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি করবে। সংরক্ষণ অব্যবস্থার কথা নাই বললাম। আমাদের সুশিক্ষিত কৃষিমন্ত্রী তবু ধান ক্রয়ের ইচ্ছে প্রকাশ করেছেন। একটা কথা অবশ্যই স্পষ্ট বলা যায়, সরকার কৃষিখাতের জন্য যা সম্ভব সবই করছে, ভর্তুকি আছে সার, কীটনাশক, বিদ্যুত্, সেচ, কৃষি যন্ত্রপাতিতে তো প্রায় ৬০ শতাংশ ভর্তুকি দেওয়া হয়ে আসছে। সস্তায় কৃষি ঋণ, গবেষণা সহায়তা দিচ্ছে, অনেক কৃষি দপ্তর, প্রতিদপ্তর সৃষ্টি করে তা কৃষককে সহায়তা দেওয়ার সর্বত প্রয়াস নিচ্ছে। কৃষির সর্বক্ষেত্রে এই যে ব্যাপক সাফল্য সে কৃষিবান্ধব সরকারের কারণেই সম্ভব হয়েছে।

আসলে বাজার ব্যবস্থার বাইরে গিয়ে কোনো সরকারের পক্ষেই বেশি কিছু করা সম্ভব হয় না। সোভিয়েট ইউনিয়ন যা পারেনি, চীন, ভিয়েতনাম, লাওস এবং প্রায় সকল কমিউনিস্ট রাষ্ট্রকেই শেষ পর্যন্ত বাজার অর্থনীতির কোলে আশ্রয় নিতে হয়েছে এবং বাজার অর্থনীতি গ্রহণের পরই তাদের দারিদ্র্য শেষ হয়েছে। এই মুহূর্তে বড় পরামর্শ হল, ধানের ভরা মৌসুমে তিন থেকে চার সপ্তাহ। এটা পার হলেই জুনের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকেই দাম আবার বাড়তে শুরু করবে এবং পুরো নভেম্বর পর্যন্ত সার্বিক উত্পাদন খরচের উপর দাম থাকবে। কারণ ধান কাটা শেষে শুকিয়ে কৃষককুল ও মজুতদাররা ধান গোলাজাত করতে শুরু করবে। তারপরেও যদি পর্যাপ্ত উদ্বৃত্ত থাকে, আপদকালীন মজুত সরকারের ঘরে অন্তত পনের লক্ষ টন জমা রেখে ব্যবসায়ীদের রপ্তানির অনুমতি দেওয়া যেতে পারে। তবে রপ্তানির পরিমাণ ২০ থেকে ২৫ লক্ষ টনের বেশি হতে পারবে না। রপ্তানি বিষয়টাও অত সহজ হবে মনে হয় না। আন্তর্জাতিক চালের বাজার কাঠামো হচ্ছে কতিপয়ের ব্যবসা— মানে অলিগোপালি। আন্তর্জাতিক বাজারে ১০ থেকে ১২টি দেশ রপ্তানিকারক তার মধ্যে ভারত সবচেয়ে বড় রপ্তানির দেশ (আন্তর্জাতিক রপ্তানির ৩০ শতাংশ ভারতের দখলে), তারপর থাইল্যান্ড, (২২ দশমিক ৭ শতাংশ), ভিয়েতনাম (৯%), পাকিস্তান (৮ দশমিক ২ শতাংশ), যুক্তরাষ্ট্র (৭%), চীন (৩ দশমিক ৬ শতাংশ) এবং অন্যান্য। যুক্তরাষ্ট্র এবং চীন আবার একই সঙ্গে চাল আমদানিকারক দেশও। ভারতের চাল উত্পাদন খরচ বাংলাদেশের চেয়ে কম, সে কারণে ভারতকে ছাড়িয়ে বাংলাদেশের চাল রপ্তানির বাজারে প্রবেশ কিছুটা হলেও চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে। উত্পাদন বৃদ্ধি ও খরচ কমিয়ে আনার জন্য সরকারকে অবশ্যই গবেষণা ব্যয় ব্যাপক বৃদ্ধি করতে হবে। রপ্তানি প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে এর বিকল্প নেই। চাল আমদানিকারক দেশও খুব বেশি নেই। যে চাল যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, চীন, দক্ষিণ আফ্রিকা, ইরান আমদানি করে থাকে—সে মানের চাল (লংগ্রেন) আমরা কমই উত্পাদন করি। চীন আমাদের থেকে আমদানি করবে না কেননা তারা খায় আঠালো চাল (গ্লুটিনাস রাইস)। বাংলাদেশ যে চাল আমদানি করে সেও লংগ্রেন এবং সরু মানের চাল। বর্তমান আমদানিকারকরা নিশ্চিত রপ্তানিকারক ছেড়ে নতুন রপ্তানিকারকে হঠাত্ ঝুঁকে যাবে কি না সেটা বলা কঠিন। বেসরকারি খাতে দেশেই চাল মজুতের জন্য মজুতদারদের উত্সাহ দিতে হবে। মনে রাখতে হবে চালের বাজারই সকল কৃষিপণ্যের মধ্যে সবচেয়ে প্রতিযোগিতামূলক, বহু বিপণন গবেষণায় তা উঠে এসেছে। এই পণ্যের কোটি কোটি উত্পাদক, লক্ষ লক্ষ ক্ষুদে ব্যবসায়ী হাজার হাজার মজুতদার সারা দেশব্যপী ছড়িয়ে আছে। এখানে কোনো এলাকায় কেউ সিন্ডিকেট করে ঐক্য ধরে রাখতে পারবে না। কার্টেল/সিন্ডিকেট প্রতিযোগিতাপূর্ণ বাজারে অসম্ভব। প্রতিযোগিতামূলক বলেই দিনাজপুরের উত্পাদক ঢাকা মোহাম্মদপুর পাইকারি চাল বাজারের ৮৫ শতাংশ মূল্য পেয়ে থাকে প্রতি মণে। আর অন্য কোনো পণ্যে পাইকারি বাজার মূল্যের এত বড় অংশ কৃষক পায় না। বাংলাদেশে শাক-সবজিসহ চাল ফল-মূলের বাজার ব্যবস্থা দক্ষ। মানে কৃষকদের তেমন ঠকার উপায় নেই। এত রাস্তা-ঘাট সড়ক জনপথে এত উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা, কৃষক শ্রমিকসহ সাড়ে তের কোটি লোকের হাতে মোবাইল ফোন। মুহূর্তের মধ্যেই তারা জেনে যায় কোথায় মূল্য-পার্থক্য কত। পরিবহন খরচের বেশি দাম পার্থক্য হলে উচ্চমূল্য স্থানে চাল প্রবাহ যেতে থাকে। পণ্য বাজার ব্যবস্থা খুবই সমন্বিত। বগুড়ার শাক-সবজি উত্পাদক প্রকারভেদে ঢাকা পাইকারি বাজারের ৫০ থেকে ৫২ শতাংশ দাম পেয়ে থাকে। মালয়েশিয়ার, তাইওয়ানের প্রত্যন্ত অঞ্চলের কৃষকও কুয়ালালামপুর কিংবা তাইপের পাইকারি বাজারের ৪৮ থেকে ৫২ শতাংশ শাক-সবজির দাম পেয়ে থাকে। শাক-সবজি পচনশীল বিধায় পাইকারি বাজারে কৃষকের অংশ এত কম। এটা বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি বিপণন বিষয়ক গবেষণার প্রাপ্ত ফলাফল। সাদাচোখে সবাই কেবল মধ্যস্বত্বভোগীদের দামের উঠানামায় দোষারোপ করে থাকে। তারাই নাকি সব শুষে নেয়! তাই যদি হতো, তবে এদেশে হাজার হাজার শিক্ষিত বেকার যুবক সব মধ্যস্বত্বভোগী হওয়ার ব্যবসায় নেমে পড়তো। ধানের/চালের মজুতদারিতে আকর্ষণ এখন বরং কমে গেছে। চালের তিনটি প্রধান উত্পাদন মৌসুম তো আছেই—আসলে এখন প্রায় সারা বছরই কোনো না কোনো অঞ্চলে ধান উত্পাদন হতে থাকে। মৌসুম থেকে মৌসুমে ধানের দামের এখন বড় রকমের পার্থক্য হয় না। সে কারণে বড়-মাঝারি কৃষকগণ আগে ধান গোলাঘরে রাখতো—এখন এটাকে তারা বাড়তি ঝামেলা মনে করে। ব্যবসায়িকভাবে ধান চাল মজুতে কেউ এগিয়ে এলে বরং সহজ শর্তে তাদের ঋণের ব্যবস্থা করা যেতে পারে। ব্যবসার জন্য যারা মজুত করে তারা পুঁজি আটকে রাখতে চাইবে না দীর্ঘদিন কারণ বাজার প্রতিযোগিতামূলক দাম কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে উঠলেই কেউ না কেউ বিক্রয় শুরু করে দামের স্থিতিশীলতা আনয়ন করবে। দীর্ঘমেয়াদে সরকারের কাজ হবে দাম স্থিতিশীলকরণে পণ্যের মজুতদারিকে উত্সাহিত করা। বাজার সমস্যাকে বাজার কৌশল দিয়েই সমাধান করতে হবে। বাজার কাঠামো অনুধাবন না করে যে কোনো হস্তক্ষেপ বাজারকে আরো অস্থিতিশীল করে। সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্বব্যাংকের কৃষি রূপান্তরের এক প্রতিবেদনে দেখানো হয়েছে, গ্রামের ৮৭ শতাংশ কৃষি পরিবারে অকৃষিজ খাতে আয়ের সঙ্গে পরিবারের কেউ না কেউ জড়িত। কাজেই একদম ভরা মৌসুমে অনেকেই ধান বিক্রয় এড়িয়ে যেতে পারে। সাংবাদিক ডেকে এনে ধানের জমিতে আগুন দেওয়া, ঢাকা শহরের প্রেসক্লাবে কৃষক এসে ক্যামেরার সামনে হাসিমুখে ধান ছড়িয়ে দেওয়া অবশ্যই অসম্ভব মনে হয়। দুনিয়া জোড়া তোলপাড় হওয়া অন্নাভাবে-বস্ত্রাভাবে বাসন্তির জালপরা ছবি, কারা সেটা ব্যবস্থা করেছিল পরে সেটা জানা গেছে। সর্বনাশ তখন যা ঘটেছিল সেটা প্রবীণ সকলেই জানে। আবেগ নিয়ে আবারও কেউ পশ্চাতে কলকাঠি নাড়ছে কি না সেটা যেতে পারে। আমি আমাদের কৃষি বিশেষজ্ঞ কৃষিমন্ত্রী ড.আব্দুর রাজ্জাককে তাঁর যথাযথ ভূমিকা ও ঘটনাবলী বিশ্লেষণে তাঁর পারঙ্গমতাকে জানাই সশ্রদ্ধ প্রণতি।

n লেখক :কৃষি অর্থনীতিবিদ ও সাবেক সভাপতি বাংলাদেশ কৃষি অর্থনীতিবিদ সমিতি